প্রতিদিন সিরিয়া থেকে যে সব খবর আসছে তাতে গৃহযুদ্ধ চলার খবরাখবর থাকছে, আর এটি পৃথিবীর মোটেই একমাত্র জায়গা নয়, যেখানে ২০১৩ সালে সামরিক ক্রিয়াকলাপ চলবে. পশ্চিমী বিশেষজ্ঞ সমাজের মূল্যায়ন অনুযায়ী, পৃথিবীতে অন্ততপক্ষে আরও ১০টি জায়গা আছে, যেখানে নতুন বছরে পুরনো সশস্ত্র সঙ্ঘর্ষ চলবে এবং নতুন সশস্ত্র সঙ্ঘর্ষ শুরু হতে পারে.

   এমন ঘটনা বিকাশের বিপদ দেখা দিয়েছে, যেমন ধরুন, সিরিয়ার প্রতিবেশী লেবাননে. মার্কিনী “ফরেন পলিসি” পত্রিকার বিশ্লেষকদের মতে, সিরিয়ার সঙ্ঘর্ষ ক্রমশ ধারণ করছে আন্তর্ধর্মীয় যুদ্ধের চরিত্র, সিয়া ও সুন্নীদের মাঝে. আর যেহেতু জাতীয় ও ধর্মীয় দিক থেকে অতি বৈচিত্র্যময় লেবানন ঐতিহ্যগত ভাবে সর্বদা দামাস্কাসের প্রভাবে ছিল, তাই এ যুদ্ধ অবশ্যম্ভাবীভাবে সীমানা অতিক্রম করবে.

   বহু ধর্ম সম্বলিত ইরাকও এই সিয়া-সুন্নী সঙ্ঘর্ষ থেকে সরে থাকতে পারবে বলে মনে হয় না, অনুমান করছে “ফরেন পলিসি”. প৬িকাটি উল্লেখ করেছে যে, নুরী আল-মালিকি-র সিয়া সরকার ক্রমেই বেশি প্রত্যক্ষভাবে ইরানের পক্ষ নিচ্ছে, যা পারস্য উপসাগরের সুন্নী রাজত্বগুলির পরিকল্পনার বিরোধিতা করার চেষ্টা করছে, আর তুরস্ক ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের মতো করে এ অঞ্চলকে ভাগ করতে চেষ্টা করছে. ইরাকের বর্তমান দেশ-প্রধান শাসনের সংস্থা, সৈন্যবাহিনী এবং নিরাপত্তা বাহিনীর উপর নিয়ন্ত্রণ কঠোর করতে চেষ্টা করছেন, যা সুন্নী এবং ইরাকী কুর্দদের অসন্তোষ ও প্রতিরোধ বাড়িয়ে চলেছে. আগামী বছরে ইরাকেও নির্বাচন হওয়ার কথা, যা আভ্যন্তরীন ধর্মীয় মতভেদ বাড়াচ্ছে এবং এ বছরেই হিংসার জোয়ার আনতে পারে.

   উপরোক্ত এলাকাগুলি ছাড়াও পশ্চিমী বিশ্লেষকরা সুদান, মালি, নাইজিরিয়া, কঙ্গো ও কেনিয়ায় সশস্ত্র সঙ্ঘর্ষ বৃদ্ধির সম্ভাবনা বাদ দিচ্ছেন না. তাছাড়া বিস্ফোরণোন্মুখ জায়গাগুলির তালিকায় যুক্ত হচ্ছে পাকিস্তান, আফগানিস্তান এবং মধ্য এশিয়ার প্রায় সমস্ত প্রাক্তন সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রগুলি.

   বিশ্ব এখন পদার্পণ করেছে রাজনৈতিক দিক থেকে অতি অনির্দিষ্টতার যুগে, আর এমন সময়েই দেখা দেয় সশস্ত্র সংগ্রামের বিপদ. সামরিক বিশেষজ্ঞ আলেক্সান্দর গোল্ত্স বলেন:

   কম হোক বেশি হোক প্রত্যক্ষ যে, ২০১৩ সালে আগের মতোই বজায় থাকবে বড়, গুরুতর সঙ্ঘর্ষের বিপদ, আর এমনকি কয়েকটি বড় ও গুরুতর সঙ্ঘর্ষের নিকট প্রাচ্যের বিশাল এলাকায়. এর মধ্যে পড়ে সিরিয়ায় সঙ্ঘর্ষ, এ সঙ্ঘর্ষের আরও বৃদ্ধি এবং তার আন্তর্জাতিকীকরণ, ইস্রাইল ও প্যালেস্টাইনের সঙ্ঘর্ষ, এবং অবশেষে ইরানের সাথে সঙ্ঘর্ষ. অবশ্যই, আফগানিস্তানের সাথে সম্পর্কিত সব কিছুর প্রতিও মনোযোগ দেওয়া দরকার – ২০১৩ সালেই কোয়ালিশন বাহিনীর সৈন্য অপসারণ শুরু হবে, আর তার অর্থ, মধ্য এশিয়ার প্রাক্তন সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রগুলিতেও সঙ্ঘর্ষ দেখা দিতে পারে. সেইজন্য তালিবান আন্দোলন নিজেকে বিজয়ী বলে অনুভব করবে এবং নিজের প্রভাব আরও প্রসার করার চেষ্টা করবে.

   বলা দরকার যে, কেন্দ্রীয় এশিয়ায় সম্ভাব্য ঘটনা-বিকাশ সম্বন্ধে রাশিয়ার বিশেষজ্ঞদের পূর্বাভাসের বহু মাত্রায় মিল রয়েছে পশ্চিমী বিশ্লেষকদের অনুমানের সাথে. উভয়েই একমত যে, উজবেকিস্তান ও তাজিকিস্তানের মাঝে সম্পর্কের অবনতি হচ্ছে. তাছাড়া, উজবেকিস্তানে এবং কির্গিজিয়ায় আন্তঃসাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বাড়ছে, আর তাজিকিস্তানে বিচ্ছিন্নতাবাদী মনোভাব বাড়ছে. এমনকি বাইরে থেকে স্থিতিশীল ও নিরাপদ কাজাখস্তানে দেখা দিয়েছে আগে অজানা ইস্লামপন্থী সব দল, যারা গত বছরে দেশের পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলে একসারি সন্ত্রাস চালিয়েছে. আর এমন পরিস্থিতি আশাবাদ জাগায় না, বিশেষ করে আফগানিস্তানের কাছাকাছি থাকার জন্য, যে দেশকে ন্যাটো বাহিনী ছেড়ে যাচ্ছে তালিবদের স্বেচ্ছাচারের জন্য.