ব্রাহিমি, বাগদানোভ ও ব্রেন্সের(৩ বি) পরিকল্পনা সিরিয়ার সংকট নিরসণ কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে. গত ১১ জানুযারি জেনেভায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে এর প্রমান মিলেছে. সিরিয়া বিষয়ক জাতিসংঘ ও আরব লীগের বিশেষ দুত লাখদার ব্রাহিমি, রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের কূটনীতিক মিখাইল বাগদানোভ ও উইলিয়াম ব্রেন্স তাঁরা একত্রে সিরিয়ায় সংকট সমাধানে গৃহিত সিদ্ধান্তমূলক কাজ করার ইচ্ছা জানিয়েছেন. তিনজনই আলোচনা প্রসঙ্গে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরণের গঠনমূলক আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মতি জানিয়েছেন.

জেনেভা সাক্ষাতে শুধুমাত্র এটিই একমাত্র ঘোষণা হিসেবে আসে নি. চুড়ান্ত বৈঠক সম্পর্কে সাংবাদিকদের লাখদার ব্রাহিমি জানান, আমারা সবাই সিরিয়ায় যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রক্তক্ষায়ী সংঘাত বন্ধ করতে পারি তার ওপরে বেশি জোর দিয়েছি. তবে সিরিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে ওয়াশিংটন ও মস্কো উভয়ের মধ্যে শংঙ্কা কাজ করছে. রাশিয়ার কূটনীতিক মিখাইল বাগদানোভের সাথে মতামত বিনিময়কালে ব্রিহিমি সিরিয়া সংকট সমাধানের পথ খুঁজতে রাশিয়ার অবদানের কথা বর্ননা করেন.

সিরিয়া সংকট নিরসনে লাখদার ব্রাহিমির মিশনে মস্কোর পূর্ণ সমর্থন রয়েছে জানিয়ে জেনেভা বৈঠকে আবারও তা নিশ্চিত করা হয়. যদিও ওই বৈঠকের পূর্বে এর সফলতা নিয়ে নানা মন্তব্য শোনা যাচ্ছিল. মস্কো মনে করে, ভবিষ্যত সিরিয়া ও এর রাষ্ট্রপতি কে হবেন তা সিরীয়দের নিজেদেরই নির্ধারণ করতে হবে.

আসাদ ছাড়া সিরিয়া অথবা আসাদকে নিয়ে সিরিয়া. এ দুটোই সিরিয়া সংকট নিরসণে সম্ভাব্য চিত্রপট বলে মনে করছেন স্কুল অব ইকোনোমিক্সের বিশেষজ্ঞ লিওনিদ ইসায়েভ.

রেডিও রাশিয়াকে তিনি বলেন, “এই সমস্যা যা সিরীয়রা নিজেরাই সমাধান করতে পারবে যদি সিরিয়া ও আসাদ জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা করা আগামী ২০১৪ সাল পর্যন্ত কাজ করে. তখনই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হওয়া চাই. নির্বাচনেই সিরিয়ার নাগরিকরা নির্ধারণ করবেন যে তাঁরা আসাদের সাথে থাকবেন কিনা. যদি আসাদ নিজেই পদত্যাগ করতো তাহলে সংকট সমাধানের পথে অগ্রসর হওয়া যেত. তবে আসাদকে সবার ভাল লাগতে হবে. এমনকি বিদেশি শত্রুদেরও!. এটিও হচ্ছে প্রধান সমস্যা. উপযুক্ত উত্তরাধিকার খুঁজে পাওয়া বেশ কঠিন কাজ”.

আসাদ সংক্রান্ত আলোচনার মূলধারায় মস্কো, তেহরান ও বেইজিং সহবস্থানে রয়েছে. শুধুমাত্র তা সিরিয়ায় সংকটের ক্ষত্রেই নয় বরং ভবিষ্যত ভৌগলিক রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলবে. এমন মন্তব্য করেছেন প্রাচ্য বিশারদ স্তানিসলাভ তারাসোভ. তিনি জানান, “মস্কো একাধিকবার সিরিয়া বিষয়ে নিজের অবস্থানের কথা ঘোষণা করে বলেছে, আসাদের আইনজীবি হয়ে আমরা কাজ করছি না. আইনগত উপায়ে এই পরিস্থিতির রুপান্তর করা সত্যিই কষ্টসাধ্য কাজ. কিন্তু, কেন?. সিরিয়া বিভক্ত আজ ৩টি অংশে, মিশর বিভক্ত ৪টি অংশে. অন্যদিকে ইরাকে বাগদাদ ও এরবিলের মধ্যে সংঘাত রয়েছে. অনেক নতুন শক্তিপক্ষের আবির্ভাব ঘটছে যারা নতুন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা চালাচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক সীমারেখা পরিবর্তন চাচ্ছে. যদি এসব সমস্যার আইনগত সমাধান না হয় তাহলে চরম বিশৃঙ্খলতা অপেক্ষা করছে. এ ভাইরাস হয়ত পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে পড়তে পারে”.

৩০ জুন ২০১২ সালে জেনেভা কনভেনশন পুরোপুরি কার্যকর করার জন্যই রাশিয়া সিরিয়া প্রশ্নে “৩ বি” সাক্ষাত আয়োজনক সমর্থন জানিয়েছে. সিরিয়ার সরকার পরিবর্তনের প্রশ্নে সংকটে জড়ানো প্রতিটি পক্ষের অংশগ্রহণে হতে হবে বলে সিরিয়া সংক্রান্ত এ্যাকশন গ্রুপের ঘোষণায় জানানো হয়েছে.

সর্বোপরি ১১ জানুয়ারি জেনেভার সাক্ষাতে রুশ কূটনীতিক ওই দলিলের গুরুত্ব কতোখানি তা বুঝাতে পেরেছেন. প্রতিটি পক্ষ রাজনৈতিক উপায়ে সিরিয়ার সংকট সমাধানের পথ খুঁজতে একমত হয়েছে জানিয়ে সাংবাদিকদের বলেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের মুখপাত্র ভিক্তরিয়া নুলোন্দ.