রাশিয়ার নৌবহরে নতুন সংযোজন. ১০ই জানুয়ারী যোগ দিয়েছে পারমানবিক ডুবোজাহাজ ইউরি দোলগারুকি. ৯৫৫ “বোরেই” প্রকল্প অনুযায়ী এই ডুবোজাহাজ ও রকেটবাহী জাহাজ তৈরী করা হয়েছে. “বোরেই” প্রকল্পের মত করে বানানো সমস্ত ডুবোজাহাজে তৈরী করার সময়ে ব্যবহার করা হচ্ছে একেবারে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, যা রাশিয়ার সামরিক নির্মাণ শিল্প আবিষ্কার করেছে. অংশতঃ – নতুন রেডিও ইলেকট্রনিক ব্যবস্থা ও খুবই বিরল রকমের শব্দের স্তর কম করার উপযুক্ত সেন্সর লাগানো হয়েছে. আরও বোরেই ধরনের তিনটি ডুবোজাহাজ এখন পুরো তৈরী করা হচ্ছে.

এই ধরনের ডুবোজাহাজের প্রধান অস্ত্র হল – আধুনিক রকেট ব্যবস্থা “বুলাভা”. এই ধরনের ডুবো জাহাজে ১৬টি করে এই ধরনের আট হাজার কিলোমিটারেরও বেশী উড়ে যেতে পারে এমন আন্তর্মহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইল রাখা হতে পারে. সেই গুলির আবার পরের অংশ আলাদা হয়ে ভাগ হয়ে গিয়ে আলাদা লক্ষ্য ভেদ করতে পারে একক ভাবে নিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতিতে. নতুন ডুবোজাহাজ রাশিয়ার নৌবহরের আঘাত হানার ক্ষমতাকে নতুন স্তরে উন্নীত করবে বলে মনে করে সামরিক বিশেষজ্ঞ ইগর করোতচেঙ্কো বলেছেন:

““বোরেই” ধরনের পারমানবিক ডুবোজাহাজ গুলিতে নতুন প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা রয়েছে, যা জলের নীচের অবস্থা খেয়াল করতে পারে, আলাদা করে শ্রেনী বিভাগ করতে পারে ও বিভিন্ন ধরনের জলের নীচে লক্ষ্যকে সম্ভব হলে আক্রমণও করতে পারে. এই ধরনের জাহাজ তৈরীর সময়ে ব্যবহার করা হয়েছে দেশের প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে সামরিক তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক সবচেয়ে আধুনিক যন্ত্রপাতি, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের যন্ত্রপাতি. বিশেষ করে এমন সব ব্যবস্থা তৈরী করা হয়েছে, যেই গুলি এই রকেটবাহী ডুবোজাহাজের কাজকর্মকে নানা ধরনের পরিষেবা দিয়ে থাকে”.

“বোরেই” ধরনের ডুবোজাহাজে আধুনিক অস্ত্র ছাড়াও, নিরাপত্তার প্রশ্নও সমাধান করা গিয়েছে. অংশতঃ, তাতে ভেসে ওঠার মত আলাদা চেম্বারের ব্যবস্থা রয়েছে, যা এই জাহাজের সব নাবিকদের জন্যই তৈরী. আসন্ন বছর গুলিতে, রাশিয়াতে এই ধরনের আরও আটটি ডুবোজাহাজ তৈরী করা হবে, প্রতিটির দাম ৭০ কোটি ডলার. রাশিয়ার নৌবাহিনীকে নতুন জাহাজ তুলে দেওয়ার গুরুত্ব, আরও এই কারণে যে, রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর একেবারে আমূল পরিবর্তনের সময়ে এই গুলি দেশের প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে খুবই ভরসার কারণ হয়ে দাঁড়াবে.

আগামী বছর গুলিতে নৌবাহিনীতে আরও ১০০টি নতুন নানা ধরনের জাহাজ ও ডুবোজাহাজ যোগ হতে চলেছে.