সকলের জন্যই খাবার পর্যাপ্ত! বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, মানব সমাজ নিজেদের ভরপেট খাওয়ারই যোগাড় দিতে সমর্থ শুধু নয়, বরং বুভুক্ষা নামক সামাজিক ব্যাপারটাকে একেবারে গোড়া ধরে নির্মূল করে দিতে পারে. এর জন্য শুধু প্রয়োজন যেকোন হিসাবী গৃহকর্ত্রীর মতো নিজে কাজ করা. ব্রিটেনের লোকদের হিসেব মতো, আজকের দিনে মানবসমাজ প্রায় ১০০ থেকে ২০০ কোটি খাদ্য দ্রব্য প্রতি বছরে ফেলে দিচ্ছে জঞ্জালে. অর্থাত্ বিশ্বে যত খাদ্য দ্রব্য উত্পাদন হচ্ছে, তার প্রায় তিরিশ থেকে পঞ্চাশ ভাগই ফেলে দেওয়া হচ্ছে.

ব্রিটেনের গবেষকদের লেখা এই রিপোর্ট, যেটি বের হয়েছে, তার নাম বিশ্ব খাদ্য: যদি না চাও তবে নষ্টও হবে না. এতে বেহিসাবী লোকদের এত বিপুল খরচের কারণ দেওয়া হয়েছে. তার মধ্যে আছে সকলেরই জানা সব কারণও, যেমন: খাবার উত্পাদন, ঝাড়াই বাছাই করা, পরিবহন ও সংরক্ষণের খারাপ পরিস্থিতি. কিন্তু অপব্যয়ের প্রধান কারণ আসলে মাত্র দুটি, এই কথা বলে এই রিপোর্টের এক লেখক ডক্টর টিম ফক্স যোগ করেছেন:

“উন্নতিশীল বিশ্বে সমস্ত রকমের অপব্যয় হয়ে থাকে একেবারেই খাদ্য সরবরাহের প্রথম দুটি ধাপে. মাঠ ও বাজারের মধ্যেই. যেমন, আফ্রিকাতে সাহারা মরুভূমির দক্ষিণে ও ভারতে এই ধাপেই নষ্ট হয় প্রায় ৩৫ থেকে ৫০ শতাংশ সমস্ত রকমের ফল ও সব্জী. উন্নত ও অভিজ্ঞ অর্থনীতি গুলিতে নষ্ট বিশেষত হয়ে থাকে খুবই সর্বস্ব লুন্ঠন করা বাজার নীতিতে ও গ্রাহকদের ব্যবহারের জন্যই. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনে বাড়ীর জন্য কিনে আনা জিনিষের প্রায় তিরিশ থেকে পঞ্চাশ শতাংশ ফেলেই দেওয়া হয়ে থাকে”.

পশ্চিমে দোকান থেকে জঞ্জালের ড্রাম পর্যন্ত খাবার জিনিষের দ্রুত যাওয়া বিজ্ঞানীরা ব্যাখ্যা করেছেন সমাজের এই গ্রাহক মনোবৃত্তির কূঅভ্যাসের কারণ দিয়েই.

দেখা যায় যে, ভোক্তা পর্যন্ত বিপুল পরিমানে খাদ্য দ্রব্য পৌঁছতেই পারে না, কারণ সেই গুলি খাবার জিনিষের চেহারা সংক্রান্ত সমাজে “চলে আসা ধারণার” সঙ্গে সম্পূর্ণ ভাবে এক রকমের হয় না বলে. যা কিছুই দেখতে ভাল নয়, তা পশ্চিমে পশু খাদ্য হিসাবে ফেলে দেওয়া হয়, আর যখন একটা জিনিষের সঙ্গে আরেকটা ফাউ হিসাবে দেওয়া হয়ে থাকে, তখন প্রায়ই এই দ্বিতীয় জিনিষটা ফেলে দেওয়া হয় পচিয়ে. তাছাড়া খাবার কতদিন ভাল আছে, তা নিয়ে যে নিয়ম করা হয়েছে, তার কড়াকড়িও খুবই কঠোর বলে.

রাষ্ট্রসঙ্ঘের হিসাব মতো আজকের দিনে বিশ্বে খেতে পাচ্ছে না ও স্বল্পাহারে রয়েছে প্রায় ৮৭ কোটি মানুষ. ব্রিটেনের বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন যে, তাদেরও খেতে দেওয়া যেতে পারে, যদি হিসাব করে খাবার উত্পাদক থেকে ভোক্তা অবধি শৃঙ্খল তৈরী করা যায় ও বিপুল পরিমানে অযৌক্তিক নষ্ট হয়ে যাওয়া কমানো যায়. রাশিয়ার বিশেষজ্ঞরা একর সঙ্গে একেবারেই সহমত. তাই বিখ্যাত খাদ্য বাজারের বিশ্লেষক আন্দ্রেই স্লাভুতিন বলেছেন:

“আসলে আজকের দিনের উন্নতির স্তরে কৃষি কাজ করে সকলকেই খাওয়ানো যেতে পারে. এখানে ব্যাপারটা শুধু অর্থের. আর এটাই সবচেয়ে প্রধান কারণ কেন আফ্রিকা বুভুক্ষু রয়েছে, আর ইউরোপ দুধ ও বাকী সব কিছু রাস্তায় ফেলে নষ্ট করছে. সবই সেই সাধারন কারণে যে, এখানে দরকারের চেয়ে বেশী উত্পাদন হচ্ছে. খাদ্যের কোন রকমের সত্য অভাব নেই. প্রশ্ন হল তা বণ্টনের. সবই আরও বেশী সমান ভাবে বণ্টনের প্রয়োজন”.

সবচেয়ে অবাক হওয়ার মতো ব্যাপার হল যে, একটা সমস্যা সমাধান করে মানব সমাজ স্বতষ্ফুর্ত ভাবেই আরও একটা তার থেকে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়, এমন একটা সমস্যার সমাধান করতে পারে – সেটা হল পানীয় জলের অভাব. ব্রিটেনের রিপোর্টে জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে, সমস্ত রকমের ফেলে দেওয়া খাবারের জন্য বছরে পঞ্চাশ হাজার কোটি টন জল খরচ হয়ে থাকে – এটা প্রায় সমস্ত মানবসমাজ যা জল পান করে তার থেকে তিন গুণ বেশী.