বিশ্বের অর্থনীতিতে আগামী দশ বছরের মধ্যে ব্যবস্থা গঠনের জন্য ভিত্তি মূলক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান গুলির ও নেতৃস্থানীয় বিশ্বের বিনিময় মুদ্রা গুলির পতনের আশঙ্কা রয়েছে. এই সম্বন্ধে বলা হয়েছে বিশ্বায়নের ঝুঁকি – ২০১৩ নামের বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বিশেষজ্ঞদের দ্বারা প্রস্তুত এক রিপোর্টে. শুরু হয়ে যাওয়া বছরে বিশেষজ্ঞদের জন্য সবচেয়ে বেশী আশঙ্কার কারণ হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজস্ব সংক্রান্ত সীমানার কিনারায় উপস্থিত হওয়া ও গ্রীসের দেউলিয়া হয়ে যাওয়া.

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় সঞ্চয় ব্যবস্থার প্রধান বেন বেরনানকে এই রাজস্ব কিনারা নামক পরিভাষাটি চালু করেছেন ২০১৩ সালের শুরুতে তাঁদের দেশ কি পরিস্থিতির সম্মুখীণ হতে চলেছে, সেই সম্বন্ধে কংগ্রেস সদস্যদের সতর্ক করে দেওয়ার অভিপ্রায়ে, আজ থেকে প্রায় এক বছর আগেই. সমস্যা হল যে, রিপাব্লিকান ও ডেমোক্র্যাটদের দলের লোকরা এই অর্থনৈতিক সমস্যা নিয়ে সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থানে থেকে রাজনীতি বিচার করছেন. রিপাব্লিকান দলের লোকরা জোর দিচ্ছেন যে, সরকারের খরচ কমানোর দরকার, যাতে বাজেট ঘাটতি কমিয়ে ফেলা সম্ভব কর না বাড়িয়ে. আর ডেমোক্র্যাটদের দাবী সরকারি খরচ না কমিয়ে একই সময়ে কর বৃদ্ধি করে ঘাটতি কমানোর. এই দুই দলের মধ্যে আলোচনায় কোন সমঝোতা না হলে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট নিয়ন্ত্রণ অ্যাক্ট অনুযায়ী অবিলম্বে ছয় লক্ষ কোটি ডলার কর ছাড় বন্ধ করে দিতে হত, অর্থাত্ বার্ষিক উত্পাদনের প্রায় শতকরা চার ভাগ. এটা আমেরিকাকে একেবারে মন্দার কিনারাতেই নিয়ে আসতে পারত.

ডেমোক্র্যাট ও রিপাব্লিকান দলের মধ্যে শেষ অবধি একটা সমঝোতা হয়েছে, বাজেট ঘাটতি সম্পর্কে বাধা নিষেধ সংক্রান্ত প্রশ্ন গুলির সমাধান আরও দুই মাস পিছিয়ে দেওয়া নিয়ে. কিন্তু যে সমঝোতা এখন সম্ভব হয়েছে, তা স্রেফ অবশ্যম্ভাবীকে পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা, আর এই রাজস্ব কিনারার একেবারে প্রান্ত থেকে এখনও সরে আসা সম্ভব হয় নি, এই কথা রেডিও রাশিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিশ্লেষক আন্না বদরোভা বলেছেন:

“এখানেই এক খুব ভারী বিষয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় ঋণ নিয়ে চাপানো হয়েছে. এই দুটি সমস্যাই এখন বিনিয়োগকারীদের বেশী করে চিন্তিত করেছে. নীতিগত ভাবে আশা করা হয়েছে যে, জানুয়ারী মাসের শেষে এই আলোচনা সংক্রান্ত বিষয়ে সবচেয়ে সক্রিয় সময় আসতে চলেছে, আর তখনই রিপাব্লিকান দলের লোকরা ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সেই সমঝোতায় আসবে না, যা তারা ডিসেম্বরে বলেছে. আর আপাততঃ এটা রাজনীতি নিয়ে খেলাই হচ্ছে, অর্থনীতি নিয়ে নয়”.

বিশ্ব অর্থনীতিতে অন্য এক উত্তেজনার মেরু নিয়ে যা বলা যেতে পারে – অর্থাত্ ইউরোপীয় সঙ্ঘ নিয়ে – তা হল যে, এখানে গ্রীসের উপরে আবার করে মেঘ ঘনিয়ে আসতে পারে, এই কথা রেডিও রাশিয়াকে বলেছেন রাশিয়াতে ডয়েশ ব্যাঙ্কের নিয়ন্ত্রণ পরিষদের সদস্য ইয়ারোস্লাভ লিসোভোলিক, তিনি যোগ করেছেন:

“ইউরোপীয় সঙ্ঘের বেশ কিছু দেশের নির্বাচনী সময়ের চক্র হিসাবের মধ্যে আনলে, বিশেষত প্রাথমিক ভাবে জার্মানীর নির্বাচনের কথা ভাবলে, গ্রীস আবার এই বছর ধরেই এক প্রধান কারণ হয়ে থাকতে চলেছে. নির্বাচনের পরে জার্মানদের জন্য আবার প্রশ্নের উদয় হবে যে, গ্রীসের অর্থনীতিকে সহায়তা দেওয়ার দরকার আছে না কি নেই. আর যদি উত্তর হয় নেতিবাচক, তাহলে খুব সম্ভবতঃ, গ্রীসের সমস্যা গুলি এই বছরের দ্বিতীয়ার্ধে বিশ্বের অর্থনৈতিক বাজার গুলির জন্য এক নম্বর সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে”.

গ্রীসের সমস্যা মে মাসের কাছাকাছি সময়ে আবার জানান দিতে চলেছে, যখন এই দেশের আবার ঋণের সীমা অতিক্রান্ত হবে, যা তাদের ২০১২ সালের শেষে দেওয়া হয়েছে. প্রাথমিক সারিতে আবার গ্রীসের বাড়তি প্রয়োজন প্রায় দুই- তিন হাজার কোটি ইউরো উপস্থিত হবে. জার্মানীর অর্থনীতি বাড়তি এই খরচ আর নিতে পারবে না, আর তখনই গ্রীসের ইউরো অঞ্চলে সদস্য থাকা নিয়ে প্রশ্ন আসবে সম্পূর্ণ আকার নিয়ে.

এরই সঙ্গে এই বছরে চিন ও ব্রাজিলের আরও অর্থনৈতিক বৃদ্ধি লক্ষ্য করা সম্ভব হবে. ইয়ারোস্লাভ লিসোভোলিক বলেছেন যে, রাশিয়াও যে আরও দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নতি করতে পারে, তা মনে করারও কারণ রয়েছে. তাঁর মূল্যায়ণ অনুযায়ী ব্রেন্ট মার্কার খনিজ তেলের দাম হবে ব্যারেল প্রতি ১১৩ থেকে ১১৪ ডলার. এটা রাশিয়ার অর্থনীতির জন্য যথেষ্ট আরামদায়ক স্তর. তাছাড়া ভূ- রাজনৈতিক কারণের সঙ্গে জড়িত ঝুঁকির কথাও বাদ দেওয়া যেতে পারে না, তা কিন্তু আবার খনিজ তেলের দামকে পূর্বাভাসের চেয়ে আরও অনেক উঁচুতে নিয়ে যেতে পারে.

প্রসঙ্গতঃ, বিশেষজ্ঞ মনে করেন যে, সম্ভাব্য রাজস্ব ঘাটতির কিনারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যে কোন ক্ষেত্রেই খুবই নেতিবাচক ভাবে রাশিয়া সমেত সমস্ত অর্থনীতির উপরে প্রতিফলন করতে পারে. এই আশঙ্কা- আরও একটি কারণ ভাবতে বসার যে, সারা বিশ্বেরই অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের প্রয়োজন পড়েছে.