অর্থনীতি ক্ষেত্রে বিশ্বের নেতৃস্থানীয় বিশেষজ্ঞরা পূর্বাভাস দিয়েছেন যে, রাশিয়াতে উন্নতি হবে স্থিতিশীল. পশ্চিমের বিশ্লেষকদের মতে, দেশের বার্ষিক জাতীয় উত্পাদন এই বছরে ৩- ৪ শতাংশ বাড়বে, যা বহু ইউরোপীয় দেশের চেয়ে বেশী. বিশেষজ্ঞরা আলাদা করে উল্লেখ করেছেন যে, রাশিয়া নিজেদের এমনকি খনিজ তেলের আচমকা ওঠা পড়ার থেকেও বিপদ মুক্ত করতে সক্ষম হয়েছে, কারণ এক বিশাল পরিমানে সোনা ও বিদেশী মুদ্রার ভাণ্ডার জড়ো করতে পেরেছে.

২০১৩ সালে রাশিয়া অর্থনীতির উন্নতির ক্ষেত্রে নেতৃস্থানীয় দেশ গুলির মধ্যে থাকবে বলেই পশ্চিমের বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন. তুলনার জন্য: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আশা করা হয়েছে যে, তাদের অর্থনৈতিক বিকাশের হার হবে এক শতাংশ আর জার্মানরাও এই রকমের সূচক অর্জন করতে পারলে খুশীই হবে, আর ফ্রান্সের খুশী থাকতে হবে আরও কম সংখ্যা নিয়েই. রাশিয়া এই পরিপ্রেক্ষিতে খুবই স্থিতিশীল দেখতে পাওয়া যাচ্ছে, এই রকম কথা বলে “আলপারি” কোম্পানীর বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান আলেকজান্ডার রাজুভায়েভ বলেছেন:

“ইউরো অঞ্চলে সঙ্কটের পরিপ্রেক্ষিতে ও বিশ্বের বাজারে কোন সঠিক গতি নির্ধারিত না হওয়াতে আমাদের সত্যই খুব একটা খারাপ দেখতে লাগছে না. প্রধান কারণ হল – খনিজ তেল দামী হওয়া. সিরিয়ার কারণে খনিজ তেলের দাম যা আশা করা হয়েছিল, তার থেকে বেশী হয়েছে, তাই দেশের বাজেট বরাদ্দও এখন বাড়তির দিকে, আর রুবল স্থিতিশীল হয়েছে”.

আন্তর্জাতিক জ্বালানী শক্তি সংস্থার বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন যে, খনিজ তেলের দাম এই বছরে কিছুটা কমবে, আর চাহিদা ধীরে হলেও বাড়তেই থাকবে. আর যদি ধরা হয় যে, রাশিয়ার বাজেট এই বছরে হিসেব করা হয়েছিল খনিজ তেলের দাম কম করে ধরেই, তাই তার ঘাটতিও হয়ত কম দেখতে পাওয়া যাবে. যদিও এমনিতেই এই ঘাটতি খুব একটা ধর্তব্য নয়, তাহলেও এই কথা উল্লেখ করে রুশ প্রশাসনের অধীনস্থ বিনিয়োগ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগীয় প্রধান দিমিত্রি সরোকিন বলেছেন:

“আমাদের বাজেট ঘাটতি সেই সমস্ত ঘাটতির সঙ্গে তুলনার যোগ্যই নয়, যা অন্যান্য নেতৃস্থানীয় ইউরোপের দেশের বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে. যদি আমরা চাই আমাদের বিকাশের গতিকে স্থিতিশীল করতে, তবে প্রয়োজন পড়বে খুবই গুরুতর ভাবে বিনিয়োগের – এই ক্ষেত্রে আমরা আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের মতের সঙ্গে সহমত, যে আমাদের জমানো অর্থনৈতিক সঞ্চয়ের ধাক্কা সামলানোর ক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমরা আরও বেশী বাজেট ঘাটতির পথে চলতেই পারি”.

এই বছরে রাশিয়াতে বাজেট ঘাটতি ধরা হয়েছে শতকরা দেড় শতাংশ, তা হিসাব করা হয়েছে খনিজ তেলের দাম করে ধরেই. তুলনার জন্য: বহু ইউরোপীয় দেশে এই সূচক অনেকটাই বেশী. তার ওপরে গত বছরে রাশিয়ার পক্ষে সম্ভব হয়েছে প্রায় অর্ধেক লক্ষ কোটি ডলার অর্থের সমতূল্য স্বর্ণ ও মুদ্রার সঞ্চয় তৈরী করার. এটা সমস্ত উন্নতিশীল দেশ গুলির থেকেই বেশী, যে গুলি প্রাক্তন সোভিয়েত দেশের এলাকায় তৈরী হয়েছে.

বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন যে, রাশিয়ার পক্ষ থেকে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বিভিন্নতার জন্য বেছে নেওয়া পথ খুব শীঘ্রই নিজের ফল দেবে. গত বছরে প্রশাসনের পক্ষে সম্ভব হয়েছে দেশে মূল্যবৃদ্ধি শতকরা ৬, ৬ ভাগের মধ্যে ধরে রাখার. এই বছরে রাশিয়ার সরকারি কর্মচারীরা বিশ্বাস করেন যে, তাদের পক্ষে এই সূচক আরও কম করা সম্ভব হবে, আর তারই সঙ্গে দেশে মূলধনের প্রবাহ বৃদ্ধি করাও সম্ভব হবে.