রাশিয়া বেআইনি অভিবাসন নিয়ে লড়াই আরও কঠোর করছে. রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন বেশ কিছু আইন প্রণয়নের প্রস্তাব করেছেন, যা দেশের অভিবাসন সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘনের শাস্তি আরও বাড়িয়ে দেবে. প্রসঙ্গতঃ এই কারণে যেমন যারা অভিবাসী হতে চান তারা, তেমনই যারা বেআইনি অভিবাসনের ব্যবস্থা করেন, তাদেরও শাস্তি দেওয়া হবে.

নতুন ধারা অনুযায়ী রাশিয়াতে সেই সমস্ত বিদেশীদের আর ঢুকতে দেওয়া হবে না, যারা আগে এই দেশের থাকার মেয়াদ লঙ্ঘন করেছে. তাদের তিন বছরের জন্য রাশিয়ার এলাকায় ঢোকা বন্ধ করে দেওয়া হবে. রাষ্ট্রপতি তারই সঙ্গে দেশের ফৌজদারী আইনেও পরিবর্তন করতে চেয়েছেন, যেখানে বেআইনি ভাবে অভিবাসনের ব্যবস্থা যারা করতে চাইবে, তাদের শাস্তিও কড়া হবে. এই ক্ষেত্রে জেল হতে পারে ৭ বছরের জন্য.

এত কঠিন ব্যবস্থা করতে হয়েছে, কারণ দেশে বেআইনি ভাবে ঢুকে পড়া লোকের সংখ্যা অবাধে বেড়েই চলেছে আর তা নিয়ে রুশ জনগনের ক্ষোভও বেড়ে চলেছে. বেআইনি ভাবে ঢুকে পড়া কাজের লোকদের জন্য দেশের অর্থনৈতিক ক্ষতিও হচ্ছে, আর তা কাজের বাজারে খুবই নেতিবাচক ভাবে প্রভাব ফেলছে, যার ফলে বেতন কমছে ও দেশে অপরাধ সংঘটনের মত পরিস্থিতিও বৃদ্ধি পাচ্ছে.

অভিবাসীদের প্রবাহ – এটা একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ দিক, যা নিয়ন্ত্রণ করা দরকার. রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় অভিবাসন দপ্তরের সরকারি তথ্য অনুযায়ী দেশে বেআইনি ভাবে কাজ করছে প্রায় তিরিশ থেকে পঞ্চাশ লক্ষ খেটে খাওয়া লোক. স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের মতে, এদের সংখ্যা হল এর থেকে প্রায় দুই তিন গুণ বেশী. প্রসঙ্গতঃ, যারা বেআইনি রয়েছে, তারা নিজেরাই প্রায়ই তাদের যারা কাজ করতে নিয়েছে, তাদের হাতের পুতুল হয়ে যাচ্ছে – তারা খুবই কঠিন পরিস্থিতিতে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে ও তাদের কোন রকমের সামাজিক গ্যারান্টি দেওয়া হচ্ছে না, বরং তারা এমনকি অনেক সময়েই বেতনও পাচ্ছে না.

রাশিয়ার পরিস্থিতির বিশেষত্ব হল যে, শতকরা ৮০ ভাগ দেশে আসা অভিবাসীরা – এঁরা স্বাধীন রাষ্ট্র সমূহের নাগরিক. তাঁরা এখানে এসেছেন আইন মেনেই, প্রধানত ভিসা ব্যবস্থা না থাকার সুবাদে, যাতে নিজেদের গরীব পরিবারের জন্য কিছু রোজগার করা যায়. আর তাদের পরিশ্রম, যা অবশ্যই প্রয়োজনীয়, রাশিয়ার অর্থনীতির বিকাশের জন্যই দরকার, এই কথা উল্লেখ করে মস্কোর অভিবাসন দপ্তরের সামাজিক পরিষদের বিশেষজ্ঞ ইউরি মস্কোভস্কি বলেছেন:

“আমাদের কোনও প্রজাতি হিসাবে আলাদা এলাকা নেই, আমাদের দেশে সেই রকমের কোনও বিদেশী নাগরিক দের বাড়বাড়ন্ত নেই, যা সেই যেমন ফ্রান্সে রয়েছে. আমাদের বিদেশী নাগরিকদের করা অপরাধের সংখ্যাও কমছে. তাদের উপরেও অপরাধ কমে আসছে. আর তা আবার গত বছরের তুলনায় প্রায় একের তৃতীয়াংশ কমে গিয়েছে এই বছরে. এর কারণ হল যে, দেশে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল হচ্ছে ও তা খুব ভালই হয়েছে. আমাদের কাছে লোকে কাজ করতে আসতে চাইছে. সমস্ত নতুন করে নেওয়া ব্যবস্থাই অভিবাসনের ক্ষেত্রে পরিস্থিতিকে ভালই করবে, তার মধ্যে এই আইন সংক্রান্ত নতুন ধারা গুলিও রয়েছে, যা আদতে এই সব করতেই সাহায্য করবে”.

জানুয়ারী মাস থেকে নতুন ও আরও স্বাধীন দুটি আইন কার্যকরী হয়েছে – যেটা অভিবাসী পরিসংখ্যান গ্রহণে পরিবর্তন এবং বিদেশী নাগরিকদের অধিকার সংক্রান্ত বিষয়ে আইনে পরিমার্জন করেছে. এবারে দেশের অভিবাসন দপ্তরে পরিসংখ্যানে নিজেকে যোগ করতে হলে বিদেশী কর্মীর কোনও লাইনে দাঁড়াতে হবে না. তারা নিজেরাই অথবা নিজেদের নিয়োগ যারা করেছে, তাদের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করে এই কাজ অনায়াসেই করতে পারবে. এই ভাবে হিসাবের মধ্যে ঢুকতে পারলে, তাঁদের আর আলাদা করে কাজের জন্য কোন অনুমতি পত্র চাইতে যেতে হবে না.

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, এই সমস্ত ব্যবস্থাই প্রমাণ করে দেয় যে, রাশিয়া এবারে নতুন অভিবাসন নীতি নিতে চলেছে: যা আইন সঙ্গত অভিবাসীদের জন্য পছন্দের আর যারা আইন ভাঙবে, তাদের জন্য কঠোর হবে.