বুধবারে বঙ্গোপসাগরে ভারতীয় নৌবাহিনী এক জাহাজ থেকে সাফল্যের সঙ্গে রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ প্রকল্পে প্রস্তুত শব্দাতীত ব্রামোস রকেটের উড়ান সম্পন্ন করেছে. এই রকেট ২৯০ কিলোমিটার উড়ে গিয়ে দুটি ইংরাজী এস অক্ষরের মতো দিক পরিবর্তন করে সমুদ্রের জলের মাত্র এক মিটার উপরে এক ভাসমান লক্ষ্য সরাসরি ভেদ করেছে একেবারে এফোঁড় ওফোঁড় করে. বিষয় নিয়ে আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ লিখেছেন.

এটা ব্রামোস রকেটের প্রথম উর্ধমুখী উড়ান. ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এ. কে. অ্যান্টনি জাহাজের ক্যাপ্টেন, নাবিক ও ব্রামোস প্রকল্পকে এই রকেটের সম্ভাবনার খুবই উজ্জ্বল এক প্রদর্শনীর জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন. ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম জানায় নি যে, ঠিক কোন জাহাজ থেকে এই উড়ান করা হয়েছে, কিন্তু বেশ কিছু বিশ্লেষক তাঁদের মত প্রকাশ করেছেন যে, এটা হতে পারে কোন ডুবোজাহাজ অথবা জলের উপরে ভাসমান প্ল্যাটফর্ম. এই ধরনের পরীক্ষার কথা গত বছরের শেষে হবে বলা হয়েছিল, আর সেই সম্বন্ধে এক সময়ে খবর দিয়েছিলেন ভারতের ব্রামোস এয়ার স্পেস প্রকল্পের প্রধান শিবথানু পিল্লাই. যদি এটা তাই হয় তবে বলা যেতে পারে যে, রাশিয়া ও ভারতের যৌথ সামরিক প্রকল্পের খুবই বড় এক সাফল্যের পরিচয় – এই রকম মনে করেই প্রযুক্তি ও স্ট্র্যাটেজি বিশ্লেষণ কেন্দ্রের ডিরেক্টর রুসলান পুখভ বলেছেন:

“ব্রামোসের মতো করেই রাশিয়া ও ভারতের অন্যান্য যৌথ প্রকল্প গুলি উচ্চ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে উন্নতি করছে. রাশিয়া ও ভারত আরও বেশী করেই বাণিজ্য থেকে সম্মিলিত ভাবে নির্মাণ করছে সামরিক প্রযুক্তি. এই নীতিতেই তৈরী হয়েছে যৌথ প্রকল্প, যেখানে উত্পাদন করা হতে চলেছে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধ বিমান টি – ৫০ আর তারই মতো মাঝারি পাল্লার পরিবহনের বিমান”.

ব্রামোস রকেট - এক ভয়ঙ্কর অস্ত্র. এই রকেট শুধু ভূমির উপরে বসানো ক্ষেপণ যন্ত্র থেকেই উড়ান করানো সম্ভব নয়, বরং তা বিমানের উপরে থেকে আকাশে, জলের উপরে ও ডুবো জাহাজ থেকেও উড়ান করানো সম্ভব. এটি বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত ও সব চেয়ে বেশী দিক পরিবর্তনে সক্ষম ব্যালিস্টিক মিসাইল. তার গতিবেগ শব্দের চেয়ে তিন গুণ বেশী. এই রকেটের উড়ান জমির উপরে দশ থেকে চোদ্দ হাজার মিটার উঁচু দিয়ে হয়ে থাকে. এই রকেট উড়ানের জন্য তৈরী হয়ে যায় মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই. তার ওপরে আবার ব্রামোস রকেট ব্যবস্থা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রায় কোনটিরই জন্য লক্ষ্য করার উপযুক্ত নয়.

শিবথানু পিল্লাই বলেছেন যে, তাঁর প্রকল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ উত্তরণ হবে ব্রামোস রকেট ডুবোজাহাজ থেকে ছাড়া সম্ভব হলে, কারণ তার পরেই ভারতের নৌবাহিনী সিদ্ধান্ত নিতে পারে এই ধরনের রকেট ভারতের পরমাণু শক্তি চালিত নয়, এমন ধরনের সম্ভাব্য ডুবোজাহাজে বসানো যেতে পারবে. রাশিয়ার নির্মাতারা ভারতকে আমুর – ১৬৫০ ধরনের ডিজেল চালিত ডুবোজাহাজ প্রস্তাব করতে পারে, এই ধরনের জাহাজে এখন ক্লাব ধরনের রকেট ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়, এই গুলি সাধারণতঃ ভূমির সঙ্গে সমান্তরালে থাকা টর্পেডো লঞ্চার থেকে ছাড়া হয়, কিন্তু যদি এই ধরনের জাহাজকে ব্রামোস রকেট ছাড়ার উপযুক্ত করা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তবে রাশিয়ার প্রযুক্তিবিদরা অনায়াসে এই ধরনের ডুবোজাহাজে সেই রকমের উড়ান ব্যবস্থা লাগানোর বন্দোবস্ত করে দেবেন বর্তমানে ডুবোজাহাজের পরিকল্পনায় কিছু রদবদল করেই.