২০১৩ সালে ক্রীড়া জগতে প্রধান অনুষ্ঠান হতে চলেছে ২৭তম গ্রীষ্ম বিশ্ব যুব ছাত্র ক্রীড়া প্রতিযোগিতা বা ইউনিভার্সিয়াড. রাশিয়ার কাজান শহরে ৬থেকে ১৭ই জুলাই এই উত্সব হবে. এটা বিশ্ব যুব- ছাত্র ক্রীড়া প্রতিযোগিতার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতা হতে চলেছে. বাস্তবে ২০১৩ সালে রাশিয়াতে বড় মাপের খেলাধূলার প্রতিযোগিতার যুগ শুরু হতে চলেছে. ইউনিভার্সিয়াড হওয়ার ঠিক পরেই মস্কো শহরে আগষ্ট মাসে হবে বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশীপ, আর ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে সোচী শহরে হবে শীত অলিম্পিক. ২০১৫ সালে কাজান শহরে হবে বিশ্ব জলক্রীড়া প্রতিযোগিতা. ২০১৬ সালে মস্কো ও সেন্ট পিটার্সবার্গে হতে চলেছে আইস হকির বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশীপ আর ২০১৮ সালে তো বিশ্বকাপ ফুটবলই এখানে শুরু হবে.

আগামী গ্রীষ্মে তাতারস্থান রাজ্যের রাজধানীতে মনে করা হয়েছে যে প্রায় ১০ হাজার প্রতিযোগী বিশ্বের ১৭০টি দেশ থেকে আসবেন. ৩০১টি টি বিষয়ে প্রতিযোগিতা হতে চলেছে, যার জন্য মেডেল দেওয়া হবে, এটা লন্ডন অলিম্পিকের থেকে মাত্র একটি বিষয় কম. সোচীর শীত অলিম্পিকের জন্য একটা স্টেজ রিহার্সাল বলে কাজানের ইউনিভার্সিয়াড বলে মনে করা যেতেই পারে. আপাততঃ হওয়া হিসাব মতো, রাশিয়ার জাতীয় দলে থাকছেন ১৪০০ প্রতিযোগী.

কাজান ইউনিভার্সিয়াড আয়োজন করার সুযোগ পেয়েছে প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে খুব কঠোর লড়াই করার পরে, একেবারে বিজয়ী হয়ে সকলকে পেরিয়ে আসতে পেরে তবেই: স্পেনের ভিগো ও দক্ষিণ কোরিয়ার কোয়ানঝু শহর ছিল মুখ্য প্রতিযোগী. ২০০৮ সাল থেকেই, যখন আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ক্রীড়া প্রতিযোগিতার ফেডারেশন ফিসু বিজয়ী শহরের নাম ঘোষণা করেছে, তখন থেকেই এই শহরে শুরু হয়েছে খুবই সক্রিয়ভাবে বিশ্ব যুব উত্সবের প্রস্তুতির জন্য তৈরী হওয়া. ইতিমধ্যেই ইউনিভার্সিয়াডের ভিলেজ তৈরী হয়ে গিয়েছে. সেখানে থাকবেন তের হাজার প্রতিযোগী, তাদের প্রশিক্ষক, চিকিত্সক ও অতিথিরা, যারা এই প্রতিযোগিতায় আসবেন যোগ দিতে. বিশাল অলিম্পিক কমপ্লেক্স এখন ব্যবহার হচ্ছে ছাত্রদের ক্যাম্পাস হিসাবে, সেখানে খোলা হয়েছে আন্তর্জাতিক আইটি সেন্টার, কাজ করছে ইউনিভার্সিয়াডের জন্য বিশেষ করে তৈরী করা জিমন্যাসটিক্স ভবন ও অন্যান্য খেলাধূলার কেন্দ্র গুলি. আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রীড়া কেন্দ্র তৈরীর অপেক্ষা করা হচ্ছে, এই কথা উল্লেখ করে কাজান – ২০১৩ আয়োজক কমিটির প্রধান ভ্লাদিমির লিওনভ বলেছেন:

“এটা নানা ধরনের জল ক্রীড়া করার জন্য কেন্দ্র, যা তৈরী করা হচ্ছে সব রকমের জলের খেলার জন্যই. এটা একটা খুবই বিরল ও সুন্দর কেন্দ্র, এর ভিতরে থাকছে তিনটি জলের কুণ্ড: দুটি ৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের সুইমিং পুল ও একটি ৩৩ বাই ২৫ মিটারের পুল. এটা দেখতে অসাধারণ! এই প্রাসাদই আমাদের জলের নানা রকমের খেলা সংক্রান্ত বিশ্ব কাপের আয়োজনের সম্ভাবনা খুলে দিয়েছে, যা হবে কাজানে ইউনিভার্সিয়াড হওয়ার দুই বছর পরে – ২০১৫ সালে. আরও একটা জায়গা আমরা ইউনিভার্সিয়াডের আগেই তৈরী করা শেষ করবো – এটা নতুন ফুটবল মাঠ. এটা আবার কাজানের যেমন প্রতীক হবে, তেমনই হবে ইউনিভার্সিয়াডের প্রতীক, যেখানে উদ্বোধনী ও সমাপ্তি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে”.

আগষ্ট মাসের শেষে – সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতে কাজানে খুবই সাফল্যের সঙ্গে সমস্ত পরীক্ষা মূলক প্রতিযোগিতা করা সম্ভব হয়েছে: বিশ্ব ছাত্র প্রতিযোগিতায় এখানে এক হাজারেরও বেশী যুব অ্যাথলেট এসেছিলেন. খেলোয়াড়দের মন্তব্য অনুযায়ী আগামী ইউনিভার্সিয়াডের জন্য কাজান শহর খুবই আমূল প্রস্তুতি নিতে পেরেছে. ভ্লাদিমির লিওনভ যেমন উল্লেখ করেছেন যে, বিদেশী বিশেষজ্ঞরাও এই নিয়ে সন্তুষ্ট.

বিশেষ করে ইউনিভার্সিয়াডের আয়োজকরা মন দিয়েছেন এই সব খেলার জন্য স্বেচ্ছা সেবকদের প্রস্তুতি নিয়ে. তাদের কাজের উপরে নির্ভর করবে এই যুব ছাত্র ক্রীড়া প্রতিযোগিতার অনেক খানি সাফল্যই. মস্কোর কলা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লেনা এখানে বিমানবন্দরে পরীক্ষা মূলক প্রতিযোগিতায় আসা প্রতিনিধিদের নথিভুক্ত হওয়ার বিষয়ে সাহায্য করেছেন. তিনি বলেছেন যে, তাঁর খুবই ভাল লেগেছে এই কাজ ও স্বেচ্ছাসেবক হয়ে তাঁর মোটেও মনে হচ্ছে না যে, কাজটা ঠিক হয় নি, তাই তিনি বলেছেন:

“খুব ভাল সব কিছুই হয়েছিল, ভাষা অভ্যাসেরও এটা দারুণ জায়গা, সমস্ত ছাত্রছাত্রীরাই আমাদের সম বয়সী, সবাই দারুণ সব ছেলেমেয়ে. সবার সঙ্গেই কথাবার্তা হয়েছে. সব মিলিয়ে নিজেদের জ্ঞানের ভাণ্ডারে অনেক দরকারী জিনিষ জমা পড়েছে, তার সঙ্গে যোগ হয়েছে অভিজ্ঞতা, ধারণা ও আবেগ”.

সোচী অলিম্পিকের স্টেজ রিহার্সাল বলে শুধুশুধুই এই কাজান ইউনিভার্সিয়াডকে মনে করা হচ্ছে না. কারণ কাজানেই খেলাধূলার প্রতিযোগিতার একসাথে অনেক রকমের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে পরীক্ষা করার কেন্দ্র হতে চলেছে. তাতারস্থানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ২০১৩ সালের ইউনিভার্সিয়াডের নিরাপত্তার জন্য একটি বিশেষ কার্য কারণ সম্পর্ক তৈরী করেছে. চিনের শেনজেন শহরের অভিজ্ঞতাকেও বিচার করে দেখা হয়েছে, যেখানে দুই বছর আগে হয়েছে একই ধরনের প্রতিযোগিতা.

কাজানের পরে এই প্রতিযোগিতার মশাল যাবে দক্ষিণ কোরিয়ার হাতে, তারা ২০১৫ সালেই ২৮ তম ইউনিভার্সিয়াডের আয়োজন করবে. আর শীতের যুব অলিম্পিক এই বছরে হবে ইতালির ত্রেন্তিনো শহরে.