বর্তমানের বিশ্বে রসদ আরও কমে আসছে. সুতরাং তার জন্য আর বিক্রীর বাজারের জন্য লড়াই আরও কঠোর হচ্ছে. সুতরাং ২০১৩ সালে প্রধান ক্রীড়নকদের পরস্পর বিরোধী অবস্থান আরও অনেকটাই তীক্ষ্ণ হতে চলেছে. আমাদের “দাবা ও রাজনীতি” নামের আলোচনা চক্রে পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্লেষণ করেছেন দুই রুশ বিখ্যাত দাবাড়ু. প্রথমে নিজের মত দিয়েছেন গ্র্যাণ্ডমাস্টার আলেক্সেই কুজমিন, তিনি বলেছেন:

“২০১৩ সাল চলবে অর্থনৈতিক ভাবে ক্রমবর্ধমান পারস্পরিক লড়াইয়ের শক্তি বৃদ্ধির প্রতীক হয়েই, যা করবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চিন. অর্থনৈতিক কূটনীতির এলাকায় দুই পক্ষই অবস্থান বজায় রেখে খেলার স্ট্র্যাটেজি নিয়ে চলবে, যাকে দাবার পরিভাষায় বলা হয়ে থাকে জায়গা পাল্টানো, যার সঙ্গে একে অপরের ওপরে নানা রকমের কৌশলের চাল দিয়ে দেখবে. চিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের উপরে অভিযোগ প্রকাশ বন্ধ করবে না, যারা চিনের বিনিয়োগকারীদের উপরে রাজনৈতিক ভরসা যোগ্যতা নিয়ে পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে. আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের দিক থেকে সেই প্রশ্নেই চাপ সৃষ্টি করবে, যা আমেরিকার জিনিষ পত্রের চিনে নকল করা ও প্রতিপক্ষের তরফ থেকে কপি রাইটসের অধিকার হানি নিয়ে বলা চলতেই থাকবে”.

ওয়াশিংটন ও বেজিংয়ের অর্থনৈতিক যুদ্ধে কোন রকমের ঠাণ্ডা হওয়ার আশা করে লাভ নেই. যদিও বাস্তবে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তা এখনই হেরে গিয়েছে, এই কথা উল্লেখ করে অন্য এক গ্র্যাণ্ডমাস্টার ভ্লাদিস্লাভ ত্কাচেভ বলেছেন:

“পারস্পরিক অভিযোগের তালিকা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে. তার মধ্যে দুই পক্ষের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমান কিন্তু বেড়েই চলেছে, আর তা সব দিকেই. যা প্রমাণ করে দেয় প্রাথমিক ভাবে চিনের লোকদের ক্রয় ক্ষমতা বৃদ্ধির দ্রুত বিকাশকেই – আর এর অর্থ হল যে, তাদের আভ্যন্তরীণ বাজারেরও সম্ভাব্য বিকাশ. সব মিলিয়ে খুবই অবাক করা পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে, যখন শুধু বিশ্বের প্রথম অর্থনীতির শক্তিই (অর্থাত্ আমেরিকার) ভার করে রাখা হয়েছে, তাদের বিনিয়োগ ব্যবস্থার উপরেই শুধু বিশ্বাস করে. একই সময়ে, বিশ্বের প্রধান ঋণ দাতা কিন্তু অনেকদিন আগেই হয়ে গিয়েছে একেবারেই অন্য দেশ! বিশ্বের অর্থনৈতিক নেতৃস্থানীয় ভূমিকায় চিনের আত্মপ্রকাশ এখন সূর্যোদয়ের মতই অনিবার্য বিষয়”.

অন্য দিক থেকে বোঝাই যাচ্ছে যে, হোয়াইট হাউস নিজেদের অভ্যাস পাল্টাতে একেবারেই তৈরী নয় ও মোটেও চায় না শুধু অর্থনৈতিক পদ্ধতিতে আটকে থাকতে. বিশ্বের উপরে প্রভাব বিস্তারের লড়াইতে ও রসদের জন্য সমস্ত রকমের মাধ্যমই ভাল, এই কথাই যোগ করে আলেক্সেই কুজমিন বলেছেন:

“চিনের জন্য অনেক বেশী বিপজ্জনক যত না কূটনীতিজ্ঞদের অবস্থান সংক্রান্ত খোঁচা, তার থেকেও বেশী করে নিকটপ্রাচ্যে পরিস্থিতি নিয়ে স্ট্র্যাটেজিক ঝুঁকি হয়েছে. তা নিজের পরিবর্তনের ফলে খরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিতে পারে ও খনিজ তেলের দাম অনেক বাড়িয়ে দিতে পারে আর যা খুবই শক্তিশালী ভাবে কাঁচামালের জন্য বেশী নির্ভরশীল চিনের অর্থনীতির উপরেই আঘাত করবে”.

আসলে খুবই বোকার মত হবে আশা করা যে, ওয়াশিংটন এত সহজে নিজেদের নেতৃস্থানীয় জায়গা ছেড়ে দেবে, তাই আরেক আন্তর্জাতিক গ্র্যাণ্ডমাস্টার ভ্লাদিস্লাভ ত্কাচেভ বলেছেন:

“দাবাতে খেলার ঘুঁটি পাল্টানোর ক্ষমতাই সবচেয়ে বেশী মূল্য দেওয়া হয়ে থাকে ও তা সব সময়েই আলাদা করে দেখিয়েছে সমস্ত মহান চ্যাম্পিয়নদেরই. অন্য কথায় বলতে হলে, সেই সব সুবিধা যা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মধ্যে পারস্পরিক বিচার করে পাওয়া যাচ্ছে না, তা অন্য উপায়ে পাওয়ার চেষ্টা করা. সিরিয়া ও ইরানের বিষয়ে উত্তেজনা খুব ভাল করেই সমস্ত ঘুঁটিকে দাবা খেলার বোর্ডের সাথে একসাথে পাল্টে দিতে পারে ও সমস্ত খেলাটাকেই একেবারে ওলোটপালট করতে পারে”.

0আপাততঃ, একজন অভিজ্ঞ গ্র্যাণ্ডমাস্টার যে রকম করে থাকেন, সেই রকমই বেজিং তুলনামূলক স্থিতিশীল পরিস্থিতিকে নিজেদের দুর্বল জায়গা গুলিকে মজবুত করার জন্য নিজেদের ঘাঁটিতেই চেষ্টা করছে. আর তারই সঙ্গে নিজেদের অর্থনৈতিক উপস্থিতি আফ্রিকাতে বাড়িয়ে চলেছে, যেখানে তারা আজ অন্যতম খনিজ তেলের আমদানী করা দেশ. আর ওয়াশিংটন এবারে কি চাল দেবে? খেলা খুবই রোমহর্ষক হতে চলেছে – যা সাধারণতঃ এই ধরনের মানের খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে হয়েই থাকে.