কাশ্মীরে নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর নতুন সশস্ত্র কাণ্ড আবারও ভারত – পাকিস্তান সম্পর্ককে মলিন করেছে. মানুষ মারা গিয়েছেন ও শান্তি আলোচনায় ছেদ পড়ার ভয় হয়েছে. বিষয় নিয়ে আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভের মন্তব্য দেওয়া হল.

এই ঘটে যাওয়া সশস্ত্র কাণ্ডে দুই পক্ষই একে অপরকে দোষ দিচ্ছে. পাকিস্তান রবিবারে ঘোষণা করেছে যে, ভারতের সেনা বাহিনীর লোকরা কাশ্মীরে নিয়ন্ত্রণ রেখা পার হয়ে চলে এসেছিল ও পাকিস্তানের সেনা বাহিনীর সীমান্ত চৌকী আক্রমণ করেছিল. ভারতীয় মতে, পাকিস্তানের দিক থেকে ভারতের সীমান্ত পার হয়ে ঢুকে পড়া জঙ্গীদের যাওয়া সহজ করার জন্য পাকিস্তানের তরফ থেকে কামান দাগা হলে, ভারতের সেনা বাহিনী পাকিস্তানের সীমান্ত চৌকীতে বাধা দেওয়ার জন্য হানা দিয়েছিল. লোকের ক্ষতিও হয়েছে. পাকিস্তানে মারা গিয়েছেন দুই জন সামরিক কর্মী, ভারতেরও দুই জন সীমান্ত রক্ষী নিহত, তার ওপরে আবার খবর দেওয়া হয়েছে যে, একজনের মাথা কাটা হয়েছে ও অন্য জনের গলার নলি কেটে মারা হয়েছে.

ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এ. কে. অ্যান্টনি ভারতীয় সেনাদের হত্যাকে নাম দিয়েছেন প্ররোচনা বলে. তিনি বলেছেন, “ওরা যে ভাবে আমাদের মৃত সৈনিকদের দেহ নিয়ে কুকর্ম করেছে, তা একেবারেই অমানবিক”, আর এই পরিস্থিতি নিয়েও খুবই আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন: “আমরা খুবই মনোযোগ দিয়ে পাকিস্তানের সরকারের সাথে এই প্রশ্নের বিচার করে দেখবো”.

স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মী আঝদার কুরতভ সেই সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দিতে পারছেন না যে, পাকিস্তানের সেনারা এই ধরনের নিষ্ঠুর কাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল না. সাধারণতঃ, এই ভাবে নিজেদের প্রতিপক্ষদের সঙ্গে কুকাণ্ড করে থাকে তালিবরা. কিন্তু এটা মোটেও পাকিস্তানের প্রশাসনের নিজেদের নিয়ন্ত্রণের এলাকায় কাজকর্মের ক্ষেত্রে দায়িত্ব লাঘব করে না, তাই তিনি বলেছেন:

“খুবই সম্ভব যে, এই আক্রমণ করেছে সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর লোকজন, যারা পাকিস্তানের এলাকার মধ্যেই রয়েছে. অনেকবারই এমন পরিস্থিতি হয়েছে যখন পাকিস্তানের এলাকা থেকে ভারতে ঢুকে পড়েছে সন্ত্রাসবাদীদের দল ও সেই খানে নানা রকমের প্ররোচনা মূলক সন্ত্রাসবাদী কাজ কারবার করেছে, তা আবার একেক সময়ে খুবই বড় মাপের. কিন্তু এর মানে এই নয় যে, পাকিস্তানের সরকার যদি না সরাসরি সহায়তাও দেয়, তবুও অন্তত, এই ধরনের সন্ত্রাসবাদী সংগঠন গুলির নিজেদের দেশের ভিতরে কাজকর্মে চোখ বুজে রয়েছে”.

কাশ্মীরে সশস্ত্র ঘটনা ঠিক সেই সময়েই হয়েছে, যখন পাকিস্তানে নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও প্রচার শুরু হয়েছে, আর ভারতে সময়ের আগেই লোকসভা নির্বাচনের সম্ভাবনা নিয়ে আরও বেশী সংখ্যক বিশেষজ্ঞই বলা শুরু করেছেন. প্রাক্ নির্বাচনী পরিস্থিতিতে যেমন ভারতে, তেমনই পাকিস্তানেও সেই সব রাজনীতিবিদ ও রাজনীতি প্রকৌশলীরা উঠে আসতে পারে, যারা এই ধরনের বিদেশী শত্রুর নামে তুরুপের তাস ব্যবহার করতে চাইবে বাড়তি ফায়দার আশায়. এখানে গুরুত্বপূর্ণ হল যে, ভারত ও পাকিস্তানের দায়িত্বশীল নেতৃত্ব যেন এই ট্র্যাজিক ঘটনাকে নিজেদের সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে না যান, আর যাতে তা দুই দেশের মধ্যে গঠন মূলক আলোচনায় ছেদ না ঘটায়.