ওয়াশিংটনে আজ রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দবিন্দু হচ্ছে মার্কিন রাষ্ট্রপতি প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া. রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা আমেরিকার নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পদে সাবেক রিপাবলিকান সিনেটর চাক হ্যাগেলের নাম ঘোষণা করেছেন. দেশটির কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) প্রধান হিসেবে সন্ত্রাসবিরোধী উপদেষ্টা জন ব্রেনানকে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন দিয়েছেন ওবামা. এর আগে নতুন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পদে মনোনয়ন পেয়েছেন সিনেটর জন কেরি. আর এই তিনটি পদই হচ্ছে আমেরিকার পুরো জাতীয় নিরাপত্তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদ.

ওবামা শুধু যে এবারই তাঁর প্রশাসনে রিপাবলিকানদের সংখ্যা ভারী করছেন তা নয়. মনে করা হচ্ছে যে,চাক হ্যাগেলের নিয়োগে রিপাবলিকানদের স্বভাবতই আনন্দিত

করেছে. কিন্তু হয়েছে ঠিক তার বিপরীত. রিপাবলিকানদের মধ্যে হ্যাগেলকে নমনীয় ও যুদ্ধবিরোধী ব্যক্তি বলে মনে করা হয়. তিনি মূলত পরিচিতি লাভ করেছেন ইরাকি যুদ্ধের বিরোধীতা করে এবং ফিলিস্তিনি হামাস সংগঠনের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করেছিলেন. নতুন দায়িত্ব পাওয়া পেন্টাগন প্রধান সামরিক ক্ষেত্রে বাজেট কমিয়ে আনার আশ্বাষ দিয়েছেন. এছাড়া তিনি সবসময়ে ইসরাইলকে মার্কিনী আর্থিক সাহায্যের সমর্থন জানিয়েছেন. কিন্তু তিনি প্রায়ই মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান মিত্রদেশের সমালোচনা করেছেন. এমনকি এক সময়ে ঘোষণাও করেছিলেন যে, কংগ্রেস অনেকটা অতিরিক্ত ইসরাইলি হয়ে কথা বলছে. এদিকে ওবামা বিরোধীরা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে “দায়িত্ববোধহীন” বলে উল্লেখ করে টেলিভিশনে বিজ্ঞাপন প্রচার করেছে.

এদিকে রিপাবলিকান সিনেটর লিনডসেই গ্রাহাম হ্যাগেলকে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর নিয়োগে ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার দিকে ধাবিত করবে বলে উল্লেখ করেছেন. তিনি বলেন, “যদি তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে চুড়ান্তভাবে নিয়োগ পান তাহলে মার্কিন যুক্তকরাষ্ট্রের ইতিহাসে হ্যাগেলই হবেন ইসরাইলবিরোধী প্রথম মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী”.

সুতরাং সিনেটে হ্যাগেলের জন্য কঠিন সব সিদ্ধান্ত অপেক্ষা করছে.

অন্যদিকে জন ব্রেনানকে সিআইএ’র প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলে তেমন কোন সমস্যার সৃষ্টি হবে না. তিনি মধ্যপ্রাচ্য ও আরবী ভাষা জানেন এবং গোয়েন্দা বিভাগে ২৫ বছর কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে. গত ২০০৯ সাল থেকে ব্রেনান মার্কিন রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামার সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান উপদেষ্টা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে কর্মরত রয়েছেন.