সিরিয়ার বিরোধী পক্ষ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের জোটের লোকরা খুবই পূর্বানুমান যোগ্য ভাবেই সিরিয়ার রাষ্ট্রপতি বাশার আসাদের করা সঙ্কট নিবারণ সংক্রান্ত সমস্ত প্রস্তাবকেই নাকচ করে দিয়েছে. ওয়াশিংটন ও ইউরোপীয় সঙ্ঘে আসাদের বক্তৃতা নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখানো হয়েছে যেন একেবারেই একে অপরের নকল করে করা বক্তব্য দিয়ে: প্রথমে আসাদ পদত্যাগ করবেন, আর তারপরে নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়া শুরুর ব্যবস্থা করা যেতে পারে. যেহেতু সিরিয়ার রাষ্ট্রপতি তাঁর ৬ই জানুয়ারীর বক্তৃতায় আবারও ঘোষণা করেছেন যে, তিনি কোথাও সরে যেতে চান না, তাই সিরিয়াতে চালমাত পরিস্থিতি তাঁর ভাষণের পরে আরও বেশী করেই বহাল হয়েছে.

গত সাত মাসের মধ্যে এই প্রথম বাশার আসাদ দামাস্কাসে কোন প্রকাশ্য সভায় ভাষণ দিয়েছেন ও প্রস্তাব করেছেন যে, সারা জাতির মধ্যেই আলোচনা শুরু করার, সকলের জন্য পরিরাজক্ষমা ঘোষণার, জাতীয় সনদ নিয়ে এক সার্বিক জনমত গ্রহণ ও দেশে নতুন নির্বাচনের. তার ফলাফলের উপরে নির্ভর করে দেশে জোট সরকার গঠন করার. রাজনৈতিক আলোচনার জন্য প্রধান শর্ত হিসাবে আসাদ নাম করেছেন সশস্ত্র গোষ্ঠী গুলিকে আন্তর্জাতিক সহায়তা দেওয়া বন্ধ করার, যারা দামাস্কাসের প্রশাসনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে.

সিরিয়ার রাষ্ট্রপতির ভাষণের উত্তরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ভিক্টোরিয়া ন্যুল্যান্ড ঘোষণা করেছেন যে, আসাদ বাস্তব থেকে দূরের কোন বিশ্বে বাস করেন. তিনি আইন সঙ্গত হওয়ার অধিকার হারিয়েছেন ও তাঁর পদত্যাগ করা উচিত্. ব্রিটেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রী উইলিয়াম হেগ “টুইটারের” পাতায় লিখেছেন যে, আসাদের ভাষণ “বক ধার্মিকের মতো ঘোষণা, যা কাউকেই ঠকাতে পারে না”. শুধু পররাষ্ট্র নীতির বিষয়ে ইউরোপীয় সঙ্ঘের সরকারি প্রতিনিধি ক্যাথরিন অ্যাস্টন বলেছেন যে, ইউরোপীয় সঙ্ঘ আসাদের উদ্যোগ, তাঁদের কাছে পৌঁছলে বিচার করে দেখবে. কিন্তু তিনিও যোগ করেছেন যে, ব্রাসেলস জোর দিয়ে বলছে যে, রাষ্ট্রপতি আসাদের উচিত্ তাঁর পদত্যাগ করা. সিরিয়ার বিরোধীরা একেবারেই শেষ প্রস্তাব বিচার করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছে.

নিকটপ্রাচ্যের এই দেশের পরিস্থিতি এই মুহূর্তে কানাগলিতে গিয়ে ঠেকেছে, এই রকমই মনে করে সেন্ট পিটার্সবার্গের আধুনিক নিকটপ্রাচ্য গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান গুমের ইসায়েভ বলেছেন:

“বিরোধী পক্ষের দ্রুত সাফল্য পাওয়া সম্ভব হয় নি, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আসাদের প্রশাসনকে উল্টো দিয়ে কোন উল্লেখ যোগ্য সাফল্য তারা দেখাতে পারছে না. আপাততঃ সিরিয়াতে কোন একক বাধা দেওয়ার মতো কেন্দ্রও নেই, যেমন ছিল লিবিয়াতে বেনগাজী শহরে. বিদ্রোহের ছোটখাট ফুলকি দেখতে পাওয়া যাচ্ছে. কিন্তু কোন রকমের গুরুত্ব দেওয়ার মতো বিরোধের কেন্দ্র নেই. তাই বলা যেতে পারে যে, এখন পরিস্থিতি একেবারেই কোন রকমের বের হওয়ার মতো পথ ছাড়াই রয়েছে, তা যেমন বিরোধীদের জন্য, তেমনই সিরিয়ার প্রশাসনের জন্যও”.

একই সময়ে দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধ অথবা সামরিক সমাধান করার জন্য প্রস্তুত হওয়া চালু রয়েছে. তুরস্কের উদ্দেশ্যে জার্মানী থেকে ৮ই জানুয়ারী আমেরিকার রকেট বিরোধী ব্যবস্থা প্যাট্রিয়ট নিয়ে রওয়ানা হচ্ছে এক বাহিনী পরিবহনের গাড়ীতে. সেই গুলি সিরিয়ার সীমান্ত বরাবর বসানো হতে চলেছে. আর ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নাথানিয়াখু ঘোষণা করেছেন যে, ইজরায়েল আসন্ন ভবিষ্যতে সিরিয়ার সীমান্ত বরাবর গোলান হাইটস এলাকায় নিরাপত্তা প্রাচীর তৈরী করবে. তাঁর কথামতো, সিরিয়ার দিকের সীমান্তে এখনই নিয়ন্ত্রণ করছে চরমপন্থী ঐস্লামিক গোষ্ঠীর লোকরা, যারা সেখান থেকে সরকারি ফৌজকে তাড়িয়ে দিয়েছে.