‘রাশিয়া-ভারতীয় উপমহাদেশঃ মানুষ, ঘটনাবলী, তারিখ’ নামক অনুষ্ঠান শুনছেন আপনারা. বরাবরের মতোই শুরুতে স্মরণ করবো তাদের নাম, যারা রাশিয়া ও ভারতীয় উপমহাদেশের অধিবাসীদের পারস্পরিক সৌহার্দ্য বাড়ানোর কাজে অনেক অবদান রেখেছেন এবং রাশিয়া ও ভারতীয় উপমহাদেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে সেইসব গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলী, যা ঘটেছিল এই মাসে.

১৫ই জানুয়ারী ভারত পালন করে নিজস্ব সশস্ত্র শক্তিবাহিনীর প্রতিষ্ঠাদিবস. তাকে শক্তিশালী হয়ে ওঠার কাজে রাশিয়াও নিজস্ব অবদান রেখেছে. রাশিয়া শুধুমাত্র অস্ত্রশস্ত্রই সরবরাহ করে না, ভারতের বিভিন্ন কারখানায় লাইসেন্সের ভিত্তিতে অস্ত্রশস্ত্র বানানোর জন্যে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত নথিপত্রও যোগান দেয়. অন্য কোনো দেশের সাথে সামরিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ভারতের এত ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা নেই. বর্তমানে দুই দেশের কারিগররা একত্রে বহুমুখী মালবাহী বিমানের নক্সা তৈরি করতে ব্যস্ত, যা যেমন সামরিক, তেমনই অসামরিক মালপত্র পরিবহন করার কাজ করবে. আশা করা যাচ্ছে, যে এরকম বিমান প্রথম আকাশে উড়বে ২০১৭ সালে আর সেগুলির বড়মাপে উত্পাদন শুরু করা হবে তার ২ বছর পরে. ডিসেম্বর মাসে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনের নয়াদিল্লী সফরকালে সামরিক-প্রযুক্তিগত সহযোগিতা প্রসারের বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে. তার মধ্যে আছে ভারতকে ৭১টি ‘মি-১৭বি-৫’ মার্কা হেলিকপ্টার ও লাইসেন্সের ভিত্তিতে সু-৩০এমকেই মডেলের ৪২টি বিমান লাইসেন্সের ভিত্তিতে এ্যাসেম্বেল করার জন্য যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা.

রাশিয়া ছিল অন্যতম প্রথম দেশ, যে দক্ষিণ এশিয়ার মানচিত্রে নতুন রাষ্ট্র – বাংলাদেশের আবির্ভাবকে স্বীকৃতি দিয়েছিল. দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছিল এখন থেকে ৩১ বছর আগে – ১৯৭২ সালের ২৫শে জানুয়ারী. এই গোটা সময়টা ধরেই দুই দেশের মধ্যে মৈত্রীর সম্পর্ক বজায় রয়েছে. রুশী বিশেষজ্ঞদের দিয়ে বাংলাদেশে প্রথম পারমানবিক বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মাণের জন্য গত বছর ঢাকায় দুই দেশের মধ্যে সরকারী স্তরে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে.

এই নিয়ে ৬৩ বছর ভারতের জনগণ প্রজাতন্ত্র দিবস উত্সব পালন করছে. ১৯৫০ সালের ২৬শে জানুয়ারী দেশে প্রথম সংবিধান চালু করা হয়েছিল. এই সময়ের মধ্যে ভারত গণপ্রজাতন্ত্র উন্নয়নের পথে ব্যাপক অগ্রগতি অর্জন করেছে. ইদানীংকালে রাশিয়া ও ভারতের মধ্যে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংলাপের চরিত্র পর্যবসিত হয়েছে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিশেষ স্ট্র্যাটেজিক সম্পর্কে. শাংহাই সহযোগিতা সংস্থার পূর্ণাধিকারপ্রাপ্ত সদস্যপদ পাওয়ার জন্য ভারতের আকাঙ্খাকে রাশিয়া সমর্থন জানিয়েছে. এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থার সদস্যপদও ভারতকে দেওয়ার স্বপক্ষে আর্জি জানাচ্ছে রাশিয়া. পক্ষদ্বয় এই ঐক্যমতে পৌঁছেছে, যে রুশ ফেডারেশন, বেলোরাশিয়া ও কাজাকস্থানের শুল্ক-ইউনিয়নের সাথে ভারতের ব্যাপকমাত্রায় অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়ে আলাপ-আলোচনা শুরু করা হবে অদূর ভবিষ্যতে. দুই দেশ ২০১৫ সালের মধ্যে পারস্পরিক পণ্য বিনিময়ের অঙ্ককে ২ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য ধার্য্য করেছে.

জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতির প্রতি উত্সর্গ করে ভারতে স্বাধীনতা সংগ্রামী দিবস পালন করা হয় প্রতি বছর ৩০শে জানুয়ারী. সন্ত্রাসবাদীর গুলিতে তিনি নিহত হয়েছিলেন ১৯৪৮ সালের ৩০শে জানুয়ারী. মহাত্মা গান্ধী অকপটে স্বীকার করতেন, যে তার জীবনদর্শন গড়ে ওঠার পেছনে বিশাল অবদান রেখেছিল ভগবত্গীতা, খ্রীষ্টধর্মের নিউ টেস্টামেন্ট ও মহান রুশী লেখক লেভ তলস্তোয়ের লেখা রচনাবলী. মহান লেখকের মৃত্যর আগে পর্যন্ত তাদের মধ্যে নিয়মিত পত্রবিনিময় হতো. অনিষ্টকর কাজে অংশ না নেওয়ার জন্য তলস্তোয়ের আহ্বানে উদ্দীপ্ত হয়েই গান্ধীজি প্রথমে দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবৈষম্যের বিরূদ্ধে ভারতীয়দের সংগ্রামে ও পরবর্তী পর্যায়ে ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর বিশ্ববিখ্যাত অহিংসা নীতির কৌশল প্রয়োগ করেছিলেন. আমাদের আমলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমস্যাবলীর নিষ্পত্তি করার ক্ষেত্রে হিংসার পথ বর্জন করার জন্য মহাত্মা গান্ধীর আহ্বান বিশেষ করে যথোপযুক্ত.