আমেরিকার ‘ফরেন পলিসি’ পত্রিকার সাইটে প্রভাবশালী কনসাল্টিং গ্রুপ ‘ইউরো-এশিয়া’ পৃথিবীর সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনীতিবিদদের তালিকা প্রকাশ করেছে. প্রথম স্থানটি ফাঁকা রাখা হয়েছে, দ্বিতীয় স্থানে আছে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনের নাম. তালিকায় তৃতীয় স্থানে আছেন মার্কিনী কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের প্রধান বেন বের্নানকে. তার পেছনে স্থান পেয়েছেন জার্মানীর চ্যান্সেলর এ্যাঞ্জেলা মার্কেল ও মার্কিনী রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা.

উপরোক্ত তালিকাটি নিয়ে কাগজপত্রে ও ইন্টারনেটে তুমুল সোরগোল উঠেছে. ‘ফরেন পলিসি’ পত্রিকা উল্লেখ করেছে, যে তাদের ঐ তালিকার সাথে কোনো সম্পর্ক নেই, ওটা প্রস্তুত করেছেন ‘ইউরো-এশিয়া’ কনসাল্টিং গ্রুপের সভাপতি, মার্কিনী রাজনীতিতত্ত্ববিদ ইয়েন ব্রেমার. ‘রেডিও রাশিয়া’কে দেওয়া সাক্ষাত্কারে ব্রেমার বলছেন, যে রেটিং তালিকাটি তৈরি করা হয়েছে আধুনিক বিশ্বে শাসনক্ষমতা ও রাজনীতি বিষয়ে সম্মিলিত আলোচনার ফলস্বরূপ. আলোচনায় অংশ নিয়েছিল ১৫০ জন বিশেষজ্ঞ, যারা রাজনৈতিক ঝুঁকির বিষয়ে পন্ডিত. তার মানে, এটা কোনোমতেই ব্রেমারের নিজস্ব বক্তব্য নয়.

সাক্ষাত্কারে ব্রেমার বলেছেন, যে প্রভাবশালীত্বের মানে হচ্ছে – ব্যক্তিত্বের জোরে বহু মানুষের ভাগ্য বদলে দেওয়ার ক্ষমতা. সেইজন্যই তালিকায় ভ্লাদিমির পুতিনের নাম অন্যদের আগে থাকায় ব্রেমার বিস্মিত হননি. ---

যদি পদাধিকারের বিচার করা হয়, তাহলে পুতিন সবার আগে নন. তুর্কমেনিস্তান বা উত্তর কোরিয়ার স্বৈরাচারী শাসকদের হাতে ক্ষমতা অনেক বেশি. কিন্তু রাশিয়া বিশাল দেশ, গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক শক্তি, জ্বালানীশক্তির সুপারপাওয়ার এবং রাশিয়ার আছে শক্তিশালী সেনাবাহিনী. প্রভাবের দিক থেকে পুতিন বাস্তবিকই বর্তমানে পৃথিবীতে সবার থেকে এগিয়ে.

পুতিনের পরে স্থান দেওয়া হয়েছে বেন বের্নানকেকে. ইয়েন ব্রেমারের মতে বারাক ওবামা বিশাল দেশের হাল ধরে থাকলেও, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির উপর তার খুব বেশি প্রভাব নেই. ---

আগ্রহোদ্দীপক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে এই বিষয়ে. আমাদের তালিকায় এ্যাঞ্জেলা মার্কেলও ওবামার আগে স্থান পেয়েছেন, কারন ইউরোপীয় সংঘে তার উদ্যোগ ও প্রভাব অনেক বেশি. ব্যক্তিগতভাবে আমি তাকেই বর্ষসেরা ব্যক্তিত্বের শিরোপা দিতে চাই. ওবামা পৃথিবীর বৃহত্তম সুপারপাওয়ারের রক্ষক হলেও ইদানীং ওয়াশিংটনের আচার-আচরন এতটাই অপ্রত্যাশিত ও মতভেদদীর্ণ, যে আজ ওবামা অনেক বেশি মনোনিবেশ করতে বাধ্য হচ্ছেন নিজেদের আভ্যন্তরীন আর্থিক ও সামরিক প্রশ্নাবলীতে. বিশ্বপর্যায়ে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া ও গুরুতর কোনো পরিবর্তন সাধন করার ক্ষেত্রে আজকের দিনে মার্কেল ও বের্নানকে ওবামার থেকে অনেক এগিয়ে আছেন.

তালিকাটিতে প্রথম স্থানটি ফাঁকা রয়ে গেছে. ব্রেমার বলছেন, যে তার মতে আমরা জি-জিরোর বিশ্বে বাস করছি, যেখানে কোনো জি-৮ বা জি-২০ মাতব্বরি করতে পারছে না. আজ বিশ্ব প্রতীক্ষা করে আছে এমন একজন নেতার, যাকে সবচেয়ে জটিল সব সমস্যার সমাধান করার দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে. এই মুহুর্তে পুতিনের থেকে বেশি প্রভাবশালী কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না – বলে মন্তব্য করছেন ইয়েন ব্রেমার. ‘ইউরো-এশিয়া’ একটি মান্যগণ্য সংস্থা বিশ্ব রাজনীতি ও পৃথিবীব্যাপী রাজনৈতিক ঝুঁকির বিষয়ে. ওদের অফিস আছে নিউ-ইয়র্কে, ওয়াশিংটনে, লন্ডনে ও টোকিওয়. সংস্থাটির সভাপতি ইয়েন ব্রেমার ‘ফরেন পলিসি’ পত্রিকার সাইটে নিজস্ব ব্লগে লেখালেখি করেন ও আমেরিকার প্রথমসারির পত্রপত্রিকা ও টেলিচ্যানেলগুলোতে তার মতামত প্রকাশ করেন.