প্রিয় বন্ধুরা, শুরু করছি আমাদের নিয়মিত সাপ্তাহিক অনুষ্ঠান – ‘রাশিয়ার আদ্যোপান্ত’. অনুষ্ঠানটি সংকলন করেছেন নিনা রুকাভিশনিকোভা ও গ্রন্থনায় রেডিও রাশিয়ার স্টুডিও থেকে ল্যুদমিলা পাতাকি ও কৌশিক দাস.

এই অনুষ্ঠানে আমরা আপনাদের জন্য রাশিয়া সম্পর্কে আগ্রহোদ্দীপক বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করে থাকি.

তাই আমরা ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও মরিশাসে আমাদের নিয়মিত পাঠক ও শ্রোতাদের কাছে অনুরোধ করছি, যত বেশি সম্ভব প্রশ্ন পাঠাতে রাশিয়া সম্পর্কে. লিখুন, কি আপনারা জানতে চান. আমাদের অনুষ্ঠানের শরিক হোন.

আজ আমরা উত্তর দেব নিম্নোক্ত প্রশ্নগুলিরঃ

ভারতের আধ্যাত্মিক সংস্কৃতি সম্পর্কে রুশবাসীরা কতখানি জানে? ভারতীয় চিন্তাবিদদের কোন কোন রচনা রুশী ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে? এই সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন আমাদের দীর্ঘদিনের সুহৃদ উত্তর প্রদেশ রাজ্যের পাচাস গ্রামের বাসিন্দা আর.এন. সিং যোগী.

আর ঝাড়খন্ড রাজ্যের কোডার্মা থেকে মিস অনুভা জানতে চেয়েছেন, ২০১৮ সালে রাশিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি কতদুর এগোচ্ছে – সেই সম্মন্ধে.

প্রথমে উত্তর দিচ্ছি আর.এন. সিং যোগীর করা প্রশ্নটিরঃ রুশবাসীরা ভারতের আধ্যাত্মিক সংস্কৃতি সম্পর্কে কতখানি ওয়াকিবহাল ও ভারতের সর্বজনগ্রাহ্য চিন্তাবিদদের কোন কোন রচনা রুশী ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে?

প্রাচীণ ভারতীয় দর্শন ও ধর্মাবলী সম্পর্কে কবে রাশিয়ায় আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছিল, সে কথা বলা কঠিন. তবে আমরা জানি, যে রুশী ভাষায় ভগবত্গীতার প্রথম অনুবাদ প্রকাশ করা হয়েছিল ১৭৮৮ সালে. উনবিংশ শতকের সূচনায় রাশিয়ার একসারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সংস্কৃত ভাষা শিক্ষা দেওয়া শুরু হয়েছিল. সেই সময় থেকে শুরু করে সংস্কৃত ও অন্যান্য ভারতীয় ভাষা থেকে রুশী ভাষায় অনুবাদিত রচনার সংখ্যা ক্রমাগত বেড়েছে. রাশিয়ার বহু ভারততত্ত্ববিদ তাদের জীবনের বিশাল সময় ঋগ্বেদ, সামবেদ, যজুর্বেদ, অথর্ববেদ, রামায়ন ও মহাভারতের মতো চিরন্তন সাহিত্যের অনুবাদ ও তাদের উপর প্রতিবেদন লেখার কাজে উত্সর্গ করেছেন.

দেশের বড় বড় শহরের ও বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারগুলিতে রুশী ভাষায় পড়ার জন্য পাওয়া যায় ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণানের দুই খন্ড সম্বলিত রচনা, দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়ের লেখা - ‘ভারতীয় দর্শনের ইতিহাস’, কৃষ্ণমূর্তি, শ্রী অরবিন্দ, স্বামী বিবেকানন্দ, স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতী সহ বহু ভারতীয় মনীষির রচনাবলী.

রাশিয়ায় বসতবাড়িতে ঘরোয়া পাঠাগারের জন্য গ্রন্থ সংগ্রহের রীতি প্রচলিত আছে. বইপত্র এক প্রজন্মের কাছ থেকে পরবর্তী প্রজন্মগুলির হাতে যায়. সৌভাগ্যক্রমে জলবায়ুর সুবাদে এদেশে বইপত্র শত শত বছর ধরে অক্ষত থাকে. অবশ্যই বাড়িতে আমরা সেইসব বই সংগ্রহ করি, যেগুলো বারবার পড়ার ইচ্ছা হয়. রাশিয়ায় বহু বাড়ির বইয়ের আলমারিতে দেখতে পাওয়া যায় প্রিয় কবিদের কাব্যসংগ্রহ, ধ্রুপদী সাহিত্য রচনাবলী ও রাশিয়া, প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মনীষিদের রচনাবলী.

আমি বুঝতে পেরেছি, কেন আপনি রুশবাসীদের এই ঐতিহ্য সম্পর্কে বলতে শুরু করেছেন. গত কয়েকদিন ধরে আপনি আমাদের বিভাগের কর্মীদের কাছে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানছিলেন, কোন কোন মহান ভারতীয় সাহিত্য রচনা তাদের বাড়িতে সংগ্রহে আছে. কি আপনি জানতে পারলেন?

আমাদের বিভাগের শীর্ষ পদাধিকারী ইরিনা মাক্সিমেঙ্কো মাঝে মাঝে নতুন করে পড়েন স্বামী বিবেকানন্দের রচনাবলী রুশী ভাষায়.

আর আমাদের সিনিয়র এডিটর নিনা রুকাভিশনিকোভা আপনাকে এই বিষয়ে কি জানালেন?

তার বাড়িতে বইয়ের আলমারিতে শোভাবর্ধন করে রুশী ভাষায় দুটি মহাভারত, ভগবত্গীতা, স্বামী বিবেকানন্দের রচনা – Practical Vedanta, ও শ্রী অরবিন্দের লেখা কয়েকটি বই.

আর আমাদের ভাষ্যকার নাস্তিয়া গাতসেলুক কি জানালো?

নাস্তিয়ার অসম্ভব দরদ সাইবাবার প্রতি, তাই তার সংগ্রহে আছে রুশী ও ইংরাজী ভাষায় সাইবাবার রচনাসমগ্র.

আমাদের ভারত ও পাকিস্তানে সম্প্রচার বিভাগের এক মহিলা কর্মী জানিয়েছেন, যে তার স্বামী পেশায় বিমান প্রযুক্তিবিদ হওয়া সত্বেও যোগের বিষয়ে বইপত্র পড়েন ও সংগ্রহ করেন. ওর সংগ্রহে অন্যান্য বইপত্রের মধ্যে আছে বি.কে.সি. আয়েঙ্গারের লেখা বই – ‘যোগের ব্যাখ্যা’.

আমি শুনতে পেরেছি, যে আমাদের বিভাগের কর্মীরা কতখানি বিস্ময় প্রকাশ করলো, যখন তারা আমাদের বিভাগের হিন্দীভাষার তরুনী সম্পাদিকা তানিয়া কোপীলোভার কাছ থেকে জানতে পারলো, যে ওর সংগ্রহে আছে ভগবত্গীতার সংস্কৃত ও হিন্দী – দুই ভাষাতেই অনুবাদ.

আর হিন্দী সাইটের নবীনা সম্পাদিকা ক্সেনিয়া গালিচেঙ্কো, যে কিনা বর্তমানে মস্কো বিশ্ববিদ্যালয়ে এম.এ. পড়ছে, তার বাড়িতে আছে এই সব বই – ‘Message of Vedas’, ‘Message of Upanishads’, ‘Message of Darshans’.

অধিকাংশ রুশী পরিবারেই বইয়ের সংগ্রহ মূল্যবান উত্তরাধিকার. সুতরাং আমাদের সহকর্মীদের সংগ্রহের বইপত্রগুলি বহুকাল যত্নের সাথে রক্ষিত হবে.

রাশিয়ার বইয়ের দোকানগুলোতে ভারতীয় আধ্যাত্মিক সংস্কৃতির উপর নতুন নতুন বইয়ের আবির্ভাব হচ্ছে, কারন পাঠকদের নিরলস ঔত্সুক্যে ভাঁটা পরেনি.

এবার ঝাড়খন্ড রাজ্যের কোডার্মা থেকে মিস অনুভার পাঠানো প্রশ্নের উত্তর দেবঃ রাশিয়ায় ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি কতদূর এগোলো?

প্রতিযোগিতা শুরু হতে আর ৬ বছরও বাকি নেই ও ইতিমধ্যেই আয়োজক শহরগুলির তালিকা বানানো হয়ে গেছে. ১১টা শহর এর দায়িত্ব পেয়েছেঃ সেন্ট-পিটার্সবার্গ, একাতেরিনবার্গ, সোচি, কাজান, ভলগোগ্রাদ, সামারা, নিঝনি নোভগোরদ, রস্তোভ, কালিনিনগ্রাদ, সারানস্ক ও মস্কো.

এই ১১টি শহরে মোট ১২টি স্টেডিয়ামে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে. কয়েকটা স্টেডিয়ামে এখনো নির্মাণকাজ চলছে. স্টেডিয়াম ছাড়াও আরও ৬৪টি প্র্যাকটিসের মাঠ ও ৭২টি প্রশিক্ষন শিবির প্রস্তুত করা হবে ও প্রতিযোগিতায় যোগদানকারী জাতীয় দলগুলিকে পরিষেবা দেওয়ার জন্য তৈরি থাকবে ৩২টি হোটেল.

মস্কোয় স্পার্তাক স্টেডিয়ামের নির্মাণকাজ এখনো চলছে আর ৮৪ হাজার দর্শকাসন সমৃদ্ধ লুঝনিকি স্টেডিয়াম পুণর্নির্মানের পরে পুরোপুরি তৈরি. ওখানে ফাইন্যাল ম্যাচটির আয়োজন করা হবে.

বিশ্বকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে গ্রীস্মকালে ও ১ মাস ধরে তা চলবে. রাশিয়ায় খেলতে আসবে ৩২টি দেশের জাতীয় দল. সবশুদ্ধ ৬৪টি ম্যাচ খেলা হবে, যার মধ্যে ৪৮টি হবে গ্রুপ-লীগের ম্যাচ. বাকি ম্যাচগুলি হবে নক-আউট পর্যায়ের. ২০০টিরও বেশি দেশ বাছাই-পর্যায়ের খেলায় অংশ নেবে. যেহেতু রাশিয়া হবে আয়োজক দেশ, তাই তার বাছাই-পর্যায়ের কোনো ম্যাচ খেলতে হবে না, আমরা সরাসরি মুলপর্বে খেলার সুযোগ পাব.

এখন রাশিয়ার পত্রপত্রিকায় ওয়ার্ল্ড কাপ চলাকালীন ভিসা দেওয়ার প্রথা তুলে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে লেখালেখি হচ্ছে. খুব সম্ভবতঃ, যেসব সৌভাগ্যবানের হাতে কোনো স্টেডিয়ামে ম্যাচ দেখার টিকিট থাকবে, তাদের ভিসা লাগবে না. স্টেডিয়ামে ঢোকার টিকিট দেখাতে পারলে বোধহয় রাশিয়ার এক শহর থেকে অন্য শহরে যাতায়াতও করা যাবে বিনামূল্যে.

আন্দাজ করা হচ্ছে, যে টিকিটের দাম হবে খুব বেশি. তার কারন হল – প্রতিটা দর্শকাসনের জন্য গড়ে ৩ হাজার প্রার্থী থাকবে. সারা বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীরাই যে বিশ্বকাপ দেখতে চায় স্বচক্ষে, আর তাদের সংখ্যা নেহাত কম নয়.

‘রাশিয়া-২০১৮’ সংগঠন কমিটির প্রধান কয়েকদিন আগে ঘোষনা করেছেন, যে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ২০১৪ সালে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতার তুলনায় ২০১৮ সালে নাকি বেশিসংখ্যক ফুটবল সমর্থক রাশিয়ায় আসবে. রাশিয়ায় মোটামুটি ১০ লক্ষ বিদেশী ফুটবল সমর্থকের আসার প্রত্যাশা করা হচ্ছে.

আর এবার শুনুন ফুটবল নিয়ে একটি গান. – গাইছেন ---

‘রাশিয়ার আদ্যোপান্ত’ অনুষ্ঠানটি এখানেই শেষ করছি. ইন্টারনেটে আমাদের ঠিকানাঃ letters@ruvr.ru. আমরা আপনাদের কাছ থেকে চিঠিপত্রের অপেক্ষায় থাকবো.