রাশিয়ার দূরপ্রাচ্যের অবকাঠামোগত উন্নয়ন আরও প্রসারিত হচ্ছে. এর এমনই একটি উদাহরণ হচ্ছে পূর্ব সাইবেরিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় ভাস্তো পাইপলাইন সংযোগ পদ্ধতির আওত্বায় নতুন রেললাইন কুজনেতছোভ টানেল চালুকরণ.

নতুন বছরকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার খাবারোভস্কী উপকূলীয় এলাকায় এ নতুন রেলপথ উদ্বোধন করা হয়. প্রসঙ্গত, রাশিয়ার গ্যাসের ক্রেতা হচ্ছে জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, ইন্দোনেশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, ফিলিপিন, তাইওয়ান ও মালেয়শিয়া. ভাস্তো-২ গ্যাস সংযোগ পাইপলাইন চালু হলে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোতে রাশিয়ার গ্যাস সরবরাহ প্রতিবছর ৩০ থেকে ৪৫ মিলিয়ন টন বৃ্দ্ধি পাবে.

নতুন এ রেলপথ সম্পর্কে রুশ রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, পুরো অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য এ প্রকল্পের ভূমিকা অনেক. তিনি আরোও বলেন, “রাশিয়ার দূরপ্রাচ্যের যোগাযোগ অবকাঠামোগত উন্নয়নে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ আমরা শেষ করেছি. ভানিনা ও সোভিয়েত গাভান বন্দরগামী সড়কে পণ্যবাহী যান চলাচলে যেন কোন সমস্যা না হয় তার জন্য সড়ক প্রসার করা হয়েছে. দূরপ্রাচ্যের বন্দরগুলোর সম্ভাবনার কথা বিবেচনা করেই এ উন্নয়নমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে. এসব কিছুই রাশিয়ার দূরপ্রাচ্যে শিল্প ও বানিজ্যের বিকাশ ঘটাতে সহায়তা করবে. এ প্রকল্পের সফলতার ওপরই নির্ভর করছে বানিজ্য, অন্য রাষ্ট্র ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে সহযোগিতার উন্নয়ন. এটি খুবই প্রয়োজনীয় প্রকল্প”.

নতুন কুজনেতছেভ টানেল যা সিইখোটিইয়া-আলিন পাহাড়ী এলাকার ওপর দিয়ে অতিক্রম করেছে. পূর্ণ ব্যাবহার করার ফলে এ পথ দিয়ে পণ্য পরিবহন বছরে ১৯ থেকে ২৯ মিলিয়ন টন বৃদ্ধি পাবে যা এশিয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর সাথে সম্পর্কের নতুন দিক উন্মেচন করবে. এমনটি মনে করছেন রাশিয়ার রেলপথ বিভাগের সভাপতি ভ্লাদিমির ইয়াকুনিন. রেডিও রাশিয়াকে দেওয়া সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, ভানিনা ও সোভিয়েত গাভান বন্দরে পণ্য ওঠা-নামা করার এক নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে এ প্রকল্প. শুধুতাই নয়, পুরো অঞ্চলে উন্নয়ন তরান্বিত করতেও তা ভূমিকা রাখবে. কুজনেতছোভ টানেল তৈরী হওয়ায় তা এশিয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও বেগবান করবে. দক্ষিণ কোরিয়া, চীন ও জাপান আমাদের ভানিনা ও সোভিয়েত বন্দরের সাথে একক বন্দর অর্থনৈতিক জোন গঠন করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে”.

 

খাবারোভস্কী উপকূলীয় অঞ্চলের গভর্ণর ভিয়াচেসলিভ এশপোর্ত রেডিও রাশিয়াকে জানান আরও কিছু ভিন্ন কথা. তিনি বলেন, “রেলপথে নির্দিষ্ট আইডি কার্ড ব্যবহারের পরিমান বৃদ্ধি পাচ্ছে. এটি অবশ্যই আনন্দের সংবাদ যা সবার শুরুতে পুরো এ অঞ্চলের উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে. বন্দরকে কেন্দ্র করে অনেক বড় ব্যাবসা-বানিজ্য গড়ে ওঠার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে. বর্তমানে আমরা নানাবিধ যোগাযোগ চার্ট তৈরী করছি যাতে আমাদের বন্দরে পণ্য পরিবরহন বৃদ্ধি পায়”.

রাশিয়ার দূরপ্রাচ্যের অঞ্চলগুলো জ্বালানী শক্তির আধার এবং এশিয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর নতুন বাজারে প্রবেশ করতে তৈরী রয়েছে. তবে যোগাযোগ খাত দূর্বল থাকায় এ ক্ষেত্রে আশানুরুপ উন্নয়ন হচ্ছে না. এ সমস্যা দূরকরণে বর্তমানে বিপুল পরিমান অর্থের প্রকল্প বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে.