নতুন বছরের অভিনন্দন এল ‘রেডিও রাশিয়া’য় পালতোলা জাহাজ ‘সেদোভ’-এর ডেক থেকে. প্রবাদপ্রতীম জাহাজটির ক্যাপ্টেন টেলিফোন মারফত আমাদের সাথে যোগাযোগ করে আমাদের শ্রোতাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন ও কিভাবে তারা সামোয়া থেকে ফিলিপাইন্সে যাওয়ার পথে প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে প্রিয়তম উত্সব উদযাপন করেছেন, তার বিবরণী দিয়েছেন.

পঠনরতদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য পৃথিবীর বৃহত্তম পালতোলা জাহাজটির বয়স ৯১ ছুঁয়েছে. এত বয়স হয়ে গেলেও বিশ্বপরিক্রমায় সেদোভ প্রথমবার রওনা দিয়েছে ২০১২ সালে. অর্ধেক পথ পেছনে পড়ে আছে গত ৭ মাসের নৌযাত্রায়. ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা, প্রশান্ত মহাসাগরে অদৃশ্য ফরাসী পলিনেশিয়ার দ্বীপগুলি ইত্যাদি. বহু বন্দরে তারা ভীড়েছিল ও সর্বত্র সানন্দে তাদের বরণ করা হয়েছে. গোটা এই সময়টা ধরে সেদোভের যাত্রা পথের দিকে নজর রেখেছে ‘রেডিও রাশিয়া’ – বিশ্বপরিক্রমার তথ্য যোগানোর পৃষ্ঠপোষক.

নববর্ষ পড়লো যখন জাহাজটি প্রশান্ত মহাসাগরে. সমুদ্রের বুকে এই উত্সব পালন করার ঐতিহ্য এখনো গড়ে ওঠেনি. কিন্তু যেহেতু সেদোভে ১২০ জন ছাত্রনাবিক প্র্যাক্টিক্যাল করছে, তাই উত্সব উদযাপন করা হয়েছে বড়মাপে হাসি-আনন্দের মধ্যে দিয়ে. জাহাজের ওপরতলার লাউঞ্জে ফার গাছ বসানো হয়েছিল আর পালগুলোকে আলোকসজ্জিত করা হয়েছিল. উত্সবের প্রস্তুতির কাজে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিল মুর্মানস্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা. তারা বড় এক বিচিত্রানুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল. সেদোভে ড্রাম, ইলেকট্রিক গীটার, সিন্থেসাইজার, এমনকি পিয়ানো পর্যন্ত আছে. গল্প করছেন জাহাজটির ক্যাপ্টেন নিকোলাই জোরচেনকো. –

নাবিকদলের সব্বাইকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল উত্সবস্থলে. প্রায় ৫০ জন ছাত্রনাবিক ততক্ষণে পালের গায়ে উঠে সোল্লাসে চেঁচাচ্ছে – “ফার গাছ, আলোর বন্যায় ভেসে ওঠো”! জ্বলে উঠলো আলোর মালা, বাতি, মোবাইল ফোন — যা হাতের কাছে ছিল. সবাই মেতে উঠেছিল, পরিবেশ ছিল বড় সুন্দর ও হাস্যোচ্ছল, যেমন উত্সবে হয়ে থাকে. অভিযাত্রী নাবিকদের নিজস্ব ক্লাব আছে, ছাত্রদের আছে নিজস্ব ক্লাব. ছাত্রদের টেবিল উপচে পড়ছিল মিষ্টি খাবারদাবারে, আমাদেরও প্রায় তাই. হ্যাঁ আমরা অবশ্যই মধ্যরাত্রির ঘন্টাধ্বনির আওয়াজ শুনতে পাইনি, কিন্তু মহাসাগরের বুকে সাইরেনের শব্দ তুলে, সেই আবহে আমরা পুরনো বছরকে বিদায় জানিয়েছি. অতিক্রান্ত বছরটি ছিল আমাদের জন্য ভালোই এবং ‘রেডিও রাশিয়া’র শ্রোতা ও পাঠকরা নিয়মিত খবর পেয়েছেন আমাদের অভিযাত্রা সম্পর্কে. তারপর শুরু হল বাজি পোড়ানো ও রকেটবাজি ছোঁড়া. লম্বা লম্বা ভোঁয়ের আওয়াজের মধ্য দিয়ে আমরা নতুন বছরে পদার্পণ করলাম.

ছাত্রদের অবশ্যই শ্যাম্পেন ঢালা হয়নি, সেটা নিয়মবহির্ভুত. তাদের জন্য শুধু ফলের জ্যুস. আর তারপর উত্সবের প্রথাগত খাওয়ার বহর – বিভিন্ন রকমের স্যালাড, মুর্গির রোস্ট, মাংসের কাবাব, ডেসার্ট সহ চা পান. আমাদের জাহাজে নিজস্ব বেকারী আছে, তার সুনাম শুধু তাজা রুটির জন্যই নয়, সেখানে বিভিন্ন বান রুটি ও চপও বানানো হয়. ছাত্রদের জন্য বেকারী যেন আপন মাতৃগৃহ. দিনে চারবার খাওয়া সত্বেও সর্বদা ক্ষুধার্ত তরুন ছাত্ররা সেখানে টুকিটাকি খেতে পায়.

ক্যাপ্টেন জোরচেনকো বলছেন – জাহাজে উত্সব উদযাপন উপলক্ষ্যে রুটিনের তেমন কিছু রদবদল করা হয়নি, শুধু ১ ঘন্টা দেরীতে ঘুম থেকে ওঠা – ব্যস্. পালে বাতাস আছে, সুতরাং আমাদের কাজের অভার নেই. ---

“ধেয়ে এল ঝোড়ো বাতাস বৃষ্টি নিয়ে. আমরা পূর্বদিক দিয়ে ফিলিপাইন্সের দিকে এগোচ্ছি. ভালো মৌসুমী বায়ু আমাদের ধরেছে, এক সপ্তাহের ওপর আমরা পাল তুলে পাড়ি দিচ্ছি. উষ্ণ ও সতেজ বাতাসে আমাদের পোষাক আলুথালু হচ্ছে, দিনের মধ্যে অসংখ্যবার বৃষ্টিতে ভিজছি. সুতরাং গায়ে হেলান দেওয়ার সময় আমাদের নেই”.

বিদায় নেওয়ার আগে সেদোভের ক্যাপ্টেন নতুন বছরে রেডিও রাশিয়ার সবকর্মীকে সৃজনশীল সাফল্য ও সুসংবাদ দেওয়ার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন. তিনি এই বলে শেষ করলেন – “আপনাদের কন্ঠস্বর শুধু সারাবিশ্বে নয়, সমস্ত সাগর-মহাসাগরেও ধ্বনিত হোক”.