ইদানীং রাশিয়ায় তথাকথিত পিঁপড়ের সভ্যতা পর্যবেক্ষণ করার ঝোঁক ক্রমশঃই বাড়ছে. এ জন্য বেশি জায়গার প্রয়োজন নেই. তাছাড়া ঝক্কিও তেমন কিছু নেই. কিন্থু পিঁপড়েদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা উত্তেজনা প্রশমনে সাহায্য করে. আর পাশাপাশি নিজের জন্য নতুন কিছুও আবিস্কার করা যায়.

বিজ্ঞানীদের মতে পিঁপড়ের ঢিপী – আমাদের গ্রহে গড়ে ওঠা প্রথম সভ্যতা. এই ছোট্ট শ্রমজীবিরাই সবার আগে বুঝতে পেরেছিল, যে একতাই – শক্তি. মানবসভ্যতার কিছুটা মিল রয়েছে এই ছোট্ট জীবের দুনিয়ার সাথে. ভ্লাদিভস্তোকের অধিবাসী ক্সেনিয়া ব্লিজনিচেনকো এটা উপলব্ধি করেছে. তার বাড়িতে রীতিমতো সত্যিকারের পিঁপড়ের সভ্যতা, তবে খুব স্বল্প পরিসরে. পিঁপড়ের সংখ্যা মাত্র ১০, আর তারা সবাই শ্রমিক. ক্সেনিয়া বলছেন, যে পিঁপড়ের বাসাও মাত্র সামান্য জায়গা নেয়. ---

-“আমি একবছর আগে ঢিপীটা কিনেছি. প্রথমে ওখানে ছেড়েছিলাম একদম ছোটমাপের পিঁপড়েদের, কিন্তু তারা বেশিদিন টেঁকেনি, বোধহয় মনে ধরেনি. তখন আমি ঐগুলোকে ছেড়ে দিয়ে বন থেকে একটু বড়মাপের পিঁপড়ে ধরে এনে ছাড়লাম. ঐগুলো তেড়েফুঁড়ে সুরঙ্গ বানাতে শুরু করলো আরামদায়ক জীবনযাপনের জন্য”.

পিঁপড়ে চমকপ্রদ জীব. ওদের দুটো করে পাকস্থলী, তিনটে করে চোখ. ওরা নিজেদের শরীরের ওজনের ২০ গুন বেশি ওজন বইতে পারে. কিন্তু এত গুন থাকলেও ওদের বধ করা খুব সহজ. তাই ওরা থাকে জোটবদ্ধ হয়ে সুদূর অতীত থেকেই.

ওদের রাজ্যে বিধিবদ্ধ শ্রমবন্টন. যেমন, শ্রমিকের কাজ হল সুড়ঙ্গ খোঁড়া, ডিমে তা দেওয়া, ঢিপীর রুগ্ন সব বাসিন্দাদের সেবা করা ও অবশ্যই খাদ্য যোগাড় করা. আর সান্ত্রী পিঁপড়ে শুধু সুড়ঙ্গের মুখ পাহারা দেয় আর শত্রুদের আক্রমণ করে, সুড়ঙ্গ কাটতে সে যাবে না. তাদের খাওয়ায় পর্যন্ত শ্রমিকরা. শ্রমিকরা ছাড়া প্রহরী টিঁকবে না.

মানুষ বরাবরই পিঁপড়ের সম্মন্ধে বেশি করে জানার চেষ্টা করেছে. কারন আমাদের চরিত্রে বহু সাদৃশ্য আছে আর তারমধ্যে মুখ্য হচ্ছে – জোটবদ্ধতা. মানুষ যেমন আপোষে মিলেমিশে কাজ করে, পিঁপড়েরাও তেমনি নিজেদের বাসা বানায় ও সভ্যতা গড়ে.

পিঁপড়েদের সভ্যতা সম্পর্কে মহাকাশ গবেষণাকারীদেরও আগ্রহ. কয়েকবছর আগে তারা সিদ্ধান্ত নেয় ভরহীন অবস্তায় পিঁপড়েদের আচরন পর্যবেক্ষণ করার. গবেষণাকারীরা এমন একটা বিশেষ জেল উদ্ভাবন করেছেন, যা অতিরিক্ত ভার সহ্য করতে ও পিঁপড়েদের খাদ্য ও পানীয়ের উত্স হতে পারে.

সাধারন মানুষ যেই জানতে পারলো এ সম্পর্কে, ব্যাপকমাত্রায় ছড়িয়ে পড়লো পিঁপড়ে পোষার হবি. বুড়োবাচ্চা সবাই ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে ছোট ছোট ঐ জীবগুলির জীবনযাত্রা পর্যবেক্ষণ করে. আর কেই বা বলতে পারে, হয়তো এই সব পর্যবেক্ষণ ভাবীকালে আমাদের সভ্যতার কিছু চিরন্তন প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে.