রাশিয়া সেচ্ছাসেবকদের সংখ্যার দিক থেকে বিশ্বে প্রথম ১০টি দেশের তালিকার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে. বৃটেনের একটি দাতব্য তহবিল এই রেটিং-তালিকা প্রকাশ করেছে.

তালিকাটিতে বিবেচ্য ছিল তিনটি বিষয়ের ওপর গড় হিসাব. বিষয়গুলি হল – দাতব্য সংস্থাগুলিকে ব্যক্তিগত আর্থিক সাহায্যদান, স্বেচ্ছাসেবক হিসাবে কাজ করা ও অপরিচিত কাউকে প্রয়োজনীয় সাহায্য যোগানো. ১৪৬টি দেশের ১ লাখ ৫৫ হাজারেরও বেশি মানুষ জনসমীক্ষায় অংশ নিয়েছিল. এই প্রথমবার ২০০৭ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ৫ বছরে জনগণের তরফ থেকে ব্যক্তিগত সাহায্যদানের পরিসংখ্যান নেওয়া হল. সংকলকরা উল্লেখ করেছেন, যে বিশ্বে ২০১১ সালে তার আগেকার বছরগুলোর তুলনায় সাহায্যদানের পরিমান হ্রাস পেয়েছে.

তবে রাশিয়া ঐ তালিকায় ১৩০ নম্বর থেকে ১২৭ নম্বর স্থানে উন্নীত হয়েছে আর স্বেচ্ছাসেবকদের সংখ্যার দিক থেকে অষ্টম স্থান অধিকার করেছে. ২০১১ সালে আমাদের দেশে ২ কোটি ১০ লক্ষ মানুষ স্বেচ্ছাসেবকের ভূমিকা পালন করেছিল.

রাশিয়ায় বহুকাল ধরেই অভাবী মানুষদের স্বেচ্ছায় সাহায্যদানের রীতি প্রচলিত আছে. কৃষকদের মধ্যে পারস্পরিক সাহায্যদানের রীতি ছিল আর রাশিয়ায় প্রথম ‘মানবপ্রেমী সংস্থা’র পত্তন হয় জারের তত্ত্বাবধানে অষ্টাদশ শতাব্দীতে. উনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীতে শিক্ষক, চিকিত্সক ও অন্যান্য বুদ্ধিজীবিদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল সাধারন জনতাকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার রেওয়াজ. যুদ্ধের সময় বহুলোক স্বেচ্ছায় ফ্রন্টে যেত, যাদের মধ্যে অনেক নারীও থাকতো, যারা নার্সের কাজ করতো যুদ্ধফ্রন্টের হাসপাতালে.

রাজতন্ত্রকে উত্খাত করার পরে সোভিয়েত শাসনতন্ত্র মানুষকে জোর করে বাধ্য করতো স্বেচ্ছাসেবা করতে. আগে যে সব সামাজিক সংস্থা ও ব্যক্তি স্বেচ্ছাসেবার উদ্যোগ নিত, সেই দায়িত্ব নিজের হাতে তুলে নিয়েছিল তখনকার দিনের শাসকরা. যদি আগে প্রত্যেক দেশবাসী নিজেই ঠিক করতো, সে ফসল তোলার কাজে অংশ নেবে কিনা, তবে সোভিয়েত আমলে সেটা হয়ে দাঁড়িয়েছিল আবশ্যক বাধ্যবাধকতায়.

সোভিয়েত ইউনিয়ন নিশ্চিহ্ন হওয়ার পরে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে. গত শতকের ৯০-এর দশকের সূচনায় রাশিয়ায় প্রথম অবাণিজ্যিক সব দাতব্য কেন্দ্র কাজ করা শুরু করে. তাদের কর্মকান্ডের মুলনীতি বিষয়ক আইনও তখন প্রনয়ণ করা হয়.

ইদানীং রাশিয়ায় স্বেচ্ছাসেবা আন্দোলনে জোয়ার এসেছে. সামাজিক সংস্থার সংখ্যা ক্রমবর্ধমান, যারা শুধুমাত্র সদস্যদের জোরেই চলে. যে সব নাগরিকের ইচ্ছা ও সামর্থ্য আছে, তারা তাদের পছন্দমাফিক দাতব্য কর্মে ব্রতী হয়. তারা রুগ্ন শিশুদের, অনাথদের, প্রতিবন্ধীদের, অথর্ব বৃদ্ধবৃদ্ধাদের, পশুপাখিদের সেবা করে. যার খুশি, সেই স্বেচ্ছাসেবার কর্মযজ্ঞে যোগ দিতে পারে.