‘সল্ট-২’ চুক্তির শেষকৃত্য জয়ন্তী

৩রা জানুয়ারী পূরণ হচ্ছে পারমানবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক সবচেয়ে অভাগা সোভিয়েত-মার্কিনী চুক্তি স্বাক্ষরের ২০তম জয়ন্তী. ১৯৯৩ সালে মস্কোয় ঐ চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন তত্কালীন রাষ্ট্রপতিরা – বরিস ইয়েলেতসিন ও সিনিয়র জর্জ বুশ. ঐ চুক্তিতে লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল মস্কো ও ওয়াশিংটনের পারমানবিক ওয়ার-হেডের সংখ্যা কমিয়ে তিন-সাড়ে তিন হাজার করার বাধ্যবাধকতা.

‘সল্ট-২’ চুক্তি পারমানবিক নিয়ন্ত্রণ ও অস্ত্রভান্ডার হ্রাসের ক্ষেত্রে যুগান্তকারী হতে পারতো. সংসদগুলির অনুমোদন পেতে বছরের পর বছর গড়িয়ে গেছিল. রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় দ্যুমার অনুমোদন পেতে সময় লেগেছিল ৭ বছর. কিন্তু আমেরিকার তথাকথিত রকেটবিরোধী প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কার্যকরী থেকে যাওয়ার কারনে এখনো তাকে বলবত করা হয়নি রাশিয়ার তরফ থেকে. ২০০২ সালে আমেরিকা যখন একপাক্ষিকভাবে ১৯৭২ সাল থেকে বলবত থাকা রকেটবিরোধী প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কিত চুক্তি বাতিল করে দিলো, তখন মস্কোও শেষমেশ ঐ চুক্তি বর্জন করলো. কারন রকেটবিরোধী ব্যবস্থার সাথে সংযুক্ত না হলে ঐ চুক্তি কার্যকরী রাখার কোনো মানেই হয় না.

তবে রুশী বিশেষজ্ঞেরা মনে করেন, যে চুক্তি শেষ পর্যন্ত সম্পন্ন করা না হলেও, তার একটা মূল্য ছিল. ওর দৌলতে সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার ও একে অপরকে তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার সুযোগ পেত. এই প্রসঙ্গে আমেরিকা ও ক্যানাডা বিষয়ক রুশী ইনস্টিটিউটের উপাধ্যক্ষ পাভেল জোলোতারিয়োভের বক্তব্য শুনুন. ---

চুক্তিটিকে সমাধি দিয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ১৯৭২ সাল থেকে কার্যকর থাকা রকেটবিরোধী প্রতিরক্ষাব্যবস্থা চুক্তি নস্যাত করে দিয়ে. আমরা তারপরে পেলাম স্ট্র্যাটেজিক আক্রমণাত্মক অস্ত্রভান্ডার হ্রাসের চুক্তি, যেটা ছিল রুশী-মার্কিনী সম্পর্কের ক্ষেত্রে সবচেয়ে স্বল্পমেয়াদী. তবে মুখ্য ব্যাপার হচ্ছে এই, যে ‘সল্ট-৩’ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা আজ পর্যন্ত বলবত রয়েছে. ‘সল্ট-২’ চুক্তি যে শেষপর্যন্ত অনুমোদন পায়নি ও বাস্তবায়িত হয়নি, তাকেই ভিত্তি করে জন্ম নিয়েছে এখনকার চুক্তি.

মস্কোর সাথে আগেকার সব বোঝাপড়াকে এড়িয়ে গিয়ে ওয়াশিংটনের রকেটবিরোধী প্রতিরক্ষাব্যবস্থার বর্ম পরার একান্ত প্রয়াসের প্রথম শিকার হয়েছিল ‘সল্ট-২’ চুক্তি. ইউরোপে মার্কিনী ঐ ব্যবস্থা হাজির করার জন্য বুশের প্রচেষ্টায় ওবামা সামান্য প্রলেপ দিয়েছেন মাত্র. যেমন বুশের, তেমনই ওবামার রকেটবিরোধী প্রতিরক্ষাব্যবস্থা রাশিয়ার পারমানবিক পরিকাঠামোর জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে.

তবে ‘সল্ট-২’ চুক্তি অনুমোদন না পেলেও, তার মানে এই নয়, যে অস্ত্রসজ্জার উপর নিয়ন্ত্রণ রাখা বন্ধ করা হয়েছে. ‘সল্ট-২’ চুক্তির পরে আরও দুটো চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে. স্ট্র্যাটেজিক আক্রমণাত্মক অস্ত্রভান্ডার হ্রাসের প্রশ্নে ২০০২ সালে স্বাক্ষরিত মস্কো চুক্তি ও ২০১০ সালে স্বাক্ষরিত ‘সল্ট-৩’ চুক্তি, যা মেদভেদেভ ও ওবামা সই করেছিলেন.

ইউরোপে মার্কিনী রকেটবিরোধী প্রতিরক্ষাব্যবস্থা স্থাপণ এতদিন পর্যন্ত কার্যক্ষম থাকা আলাপ-আলোচনার প্রক্রিয়াকেই ভেঙে চুরমার করে দিতে পারে. রাশিয়ার বিশেষক্ষদের অনুমান এই, যে অতঃপর পারমানবিক অস্ত্রভান্ডার বিষয়ক আর নতুন কোনো চুক্তি হওয়ার আশা করা বৃথা. এই প্রসঙ্গে বলছেন মস্কোস্থিত রাশিয়ার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ইনস্টিটিউটের অস্ত্রসজ্জা সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ মিখাইল ত্রোইতস্কি. ---

এখন জানা যাচ্ছে রাশিয়ার পক্ষ থেকে সরকারী ভাষ্য. যেখানে বলা হচ্ছে, যে পারমানবিক অস্ত্রসজ্জার ওপর নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে ‘সল্ট-৩’ই হবে সম্ভবতঃ শেষ চুক্তি দুইদেশের মধ্যে. পরবর্তী চুক্তি নিয়ে রাশিয়া ভাবছে বহুপাক্ষিক ফরম্যাটে. আমেরিকার মিত্রদেশ ও ন্যাটোয় তাদের দোসর গ্রেট বৃটেন ও ফ্রান্সকেও এই প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করতে চায় রাশিয়া. ‘হেঁয়ালী’ চীনও আছে, যে নিজের পারমানবিক ক্ষমতা সম্পর্কে কোনোকিছুই ব্যক্ত করে না.

রাশিয়ার সংবাদ মাধ্যমগুলিতে প্রচার করা হচ্ছে, যে রাশিয়া নাকি ইউরোপে মার্কিনী রকেটবিরোধী প্রতিরক্ষাব্যবস্থার সাথে পাল্লা দেওয়ার উদ্দেশ্যে নতুন নতুন মডেলের পারমানবিক অস্ত্রবাহকের উদ্ভাবন করছে ও তাদের পরিবহনের জন্যেও নতুন নতুন ব্যবস্থা নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে.