তরুন চিত্রপরিচালকদের একটি আন্তর্জাতিক দল তথ্যচিত্র তোলার জন্য ৪ঠা জানুয়ারী পাড়ি দিচ্ছে রেলপথে রাশিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে. ‘সিনেমা-ট্রেন’ নামক সুবিশাল প্রকল্পটি রূপায়নের ফল প্রদর্শন করা হবে ১লা ফেব্রুয়ারী থেকে.

সিনেমা-ট্রেনটি মোট ৮টি শহর সফর করবে. মস্কো থেকে যাত্রা করে তারা যাবে উত্তর মেরুর অক্ষাংশে অবস্থিত পৃথিবীর বৃহত্তম শহর মুর্মানস্কে. তারপরে পর্যটকেরা যাবে রাশিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সেন্ট-পিটার্সবার্গ, কোতলাস ও কিরভ শহরে. তারপরে তারা পাড়ি দেবে সাইবেরিয়ায় – তোমস্ক, নোভোসিবিরস্ক ও ইর্কুতস্কে, যার অনতিদূরে অবস্থিত পৃথিবীর গভীরতম পানীয় জলের হ্রদ – বৈকাল. পথযাত্রার সময় পরিচালকরা শুধু ফিল্ম তুলেই ক্ষান্ত হবেন না, ল্যাপটপে সেগিলো এ্যাসেম্বেলও করবেন. সবমিলিয়ে সিনেমা-ট্রেনটি ১০ হাজার কিলোমিটার রেলপথ অতিক্রম করবে. সংগঠকেরা তথ্যচিত্রের বিষয়বস্তুও নির্ধারন করেছেন. চিত্রকারদের রাশিয়া সম্পর্কে তথাকথিত স্টিরিও-টাইপ ধারনা ঘোচানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাদের সৃজনশীল ফিল্মের মাধ্যমে. বিষয়বস্তুগুলির নাম দেখেই বোঝা যায়, যে কি নিয়ে ফিল্ম তোলা হবে. যেমন, ‘রুশী শীতকাল’, ‘ভাল্লুক’, ‘রুশী স্নানাগার’ ও অবশেষে ‘এবার আসুন পান করা যাক’! মস্কোয় ৫ বছর ধরে বসবাসকারী ফরাসী চিত্র পরিচালক ও প্রকল্পটির অন্যতম প্রযোজক গীওম প্রতসেনকো বিষদে এই সম্পর্কে জানাচ্ছেনঃ ---

রাশিয়ায় এরকম ঝোঁক আছে, যে আমরা সবকিছু নিজেদের মতো করে করি, আমরা প্রাচ্যও নই, পাশ্চাত্যও নই, আমাদের স্বকীয় পথ. এটা মোটেই গঠনমুলক নয়, বরং এটা হল বাস্তবকে অস্বীকার করা. আমাদের বিচার করার দায়িত্ব নেই. আমরা বাস্তবিকই চাই নিজেদের ও অন্যদের জন্য রাশিয়াকে নতুনভাবে তুলে ধরতে. এটা বিদেশীদের চোখ দিয়ে দেখা নয়, অন্য ও নতুন দৃষ্টি দিয়ে দেখা.

প্রসঙ্গতঃ জানাই, যে ‘সিনেমা-ট্রেন’ পথযাত্রা শুরু করার আগে মস্কোয় প্রখ্যাত মার্কিনী তথ্যচিত্র পরিচালক হ্যারি হাস্টউইট মস্কোয় ফিল্ম তুলেছেন. তিনি সব অলিম্পিক আয়োজক শহরের উপর ছবি তোলেন, অলিম্পিকের পরে তাদের দৃশ্যপট কতখানি বদলেছে তার উপর. মস্কোয় ১৯৮০ সালে অলিম্পিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছিল.

২০০৮ সালে সিনেমা-ট্রেন প্রকল্পটি চালু হয় ও এবার নিয়ে তৃতীয়বার হবে তার পথযাত্রা. প্রথমবার মস্কো থেকে যাওয়া হয়েছিল পৃথিবীর দীর্ঘতম রেললাইন – ট্র্যান্স সাইবেরিয়ান রেললাইন ধরে দুরপ্রাচ্যের ভ্লাদিভস্তোকে. আর দ্বিতীয়বার সফর করা হয়েছিল মধ্য-এশিয়ার দেশগুলি, যেগুলো ছিল ভূতপূর্ব সোভিয়েত প্রজাতন্ত্র. ‘সিনেমা-ট্রেন’ বিশ্বের তরুন পরিচালকদের মধ্যে খুব আগ্রহের সঞ্চার করেছে. এই বছরে সফরের জন্য ৬০টি দেশের ৩০০ জন পরিচালক আবেদন করেছিল. তাদের মধ্যে বাছাই করা হয়েছে ১৫টি দেশের ২৪ জন চিত্র পরিচালককে. তারাই এবার হবেন সওয়ারী. তারা ২৪টি তথ্যচিত্র তুলবেন ও সবাই মিলে একসাথে একটা ফিল্ম তুলবেন রাশিয়াকে নিয়ে.