এশিয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় পার্লামেন্ট ফোরামের ২১তম অধিবেশনে প্রথমবারের মত অংশ নিবে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন পার্লমেন্ট কাঠামো. আগামী ২৭ থেকে ৩১শে জানুয়ারি পর্যন্ত ওই ফোরাম রাশিয়ার ভ্লাদিভস্তকে অনুষ্ঠিত হবে. এ বিষয়ে “রেডিও রাশিয়া”কে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাতকারে বলেছেন ফেডারেল পরিষদের সহকারি সভাপতি ইলইয়াস উমহানোভ.

তিনি বলেন, “এশিয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় পার্লামেন্ট ফোরাম ভ্লাদিভস্তকে আয়োজন করার কারণ তা “এ্যাপেক” ফোরামের সাথে জড়িত. এশিয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় পার্লামেন্ট ফোরামের সদস্য দেশ হচ্ছে ২৮টি যা এ্যাপেক থেকেও বেশি. তাছাড়া এ্যাপেকের শীর্ষ সম্মেলনে যে সিদ্ধান্তগুলো গৃহিত হয়েছে তার আইনগত সংরক্ষণ করা বেশ গুরুত্ব বহন করছে. ভ্লাদিভস্তকে যে সব পার্লামেন্ট সদস্যরা মিলিত হবেন তাঁরা বানিজ্যে সমতাকরণ, শান্তি ও নিরাপত্তার প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করবেন. সেই সাথে আধুনিক বিশ্বে নানাবিধ হুঁমকি মোকাবেলায় পার্লামেন্ট সদস্যদের করনীয় ও তা বাস্তবায়ন করতে কি অবদান তাঁরা রাখতে পারেন সেই দিক নিয়েও আলোচনা হবে”.

ভ্লাদিভস্তকে আঞ্চলিক বিভিন্ন সমস্যা নিয়েও আলোচনা করা হবে. এছাড়া এ ধরণের কোন সাক্ষাতে প্রথমবারের মত সাইবেরিয়া ও দূরপ্রাচ্যের বিনিয়োগ নিয়ে এক প্রদর্শনী তুলে ধরা হবে. সেই সাথে বৈজ্ঞানীক গবেষণাধর্মী কাজ ও শিক্ষা বিষয়ক প্রকল্প থাকছে. উমহানোভের ভাষায়, “এ সব কিছুই এ্যাপেকভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের নীতিগত দিকগুলোর সাথে সংযুক্তপূর্ণ”. আরও একটি বিশেষত্ব হচ্ছে, মাদকদ্রব্য চোরাচালান রোধে আফগান পার্লামেন্ট সদস্যদের নিয়ে আলোচনা করা হবে. যদিও আফগানিস্তান এশিয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় পার্লামেন্ট ফোরামের সদস্য রাষ্ট্র নয়. দেশটির পার্লামেন্টের নিম্ন কক্ষের স্পিকার ভ্লাদিভস্তকে আফগান প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিবেন. এই সেশনের আলোচনায় অংশ নিবেন জাতিসংঘ মহাসচিবের সহকারি. উমহানোভ আরো বলেন,

“ফোরামের আয়োজনে এ রকম আরো অনেক নতুনত্ব থাকছে. এবারই প্রথম এ ফোরামে অংশ নিবে শীর্ষ পর্যায়ের আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পার্লামেন্টের কাঠামোগত সংস্থা. এদের মধ্যে রয়েছে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট, ইউরোপীয় পার্লামেন্ট কাউন্সিল, ইউরোপে নিরাপত্তা ও সহযোগিতা বিষয়ক পার্লামেন্ট কাউন্সিল(পিএএসই)ও ইউরোপে নিরাপত্তা ও সহযোগিতা সংস্থা(ওএসসিই). শধু তাই নয় আসিয়ান পার্লামেন্ট সংস্থা, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার মহাসচিব ও দক্ষিণ আমেরিকার পার্লামেন্ট প্রতিনিধিরা এ ফোরামে যোগ দিবেন”.

রাশিয়ার পার্লামেন্ট সদস্যরা এশিয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় পার্লামেন্ট ফোরামের অন্তর্গত থেকে আন্তর্জাতিক পার্লামেন্ট কাঠামোগুলোর মধ্যে সমন্বয় করার চেষ্টা করবেন. শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক সমস্যাবলী চিহ্নিতকরণের জন্যই নয় বরং ব্যতিক্রমী দৃষ্টিভঙ্গি শোনা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ. সাক্ষাতকারের শেষের ভাগে এমনটি বলছিলেন রাশিয়ার ফেডারেল পরিষদের সহকারি সভাপতি ইলইয়াস উমহানোভ.