‘রেডিও রাশিয়া’র শ্রোতাদের ক্লাবের অধিবেশন শুনছেন আপনারা. স্টুডিওয় ল্যুদমিলা পাতাকি ও কৌশিক দাস.

আমরা এই ব্যাপারে নিশ্চিত, যে নতুন বছর আমাদের জন্য নতুন গল্পগুজব, মতবিনিময় করার ও ক্লাবগুলির পক্ষ থেকে নতুন সব উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ করে দেবে.

আমরা তাদের সাথে একমত, যারা মনে করেন, যে বিগত বছরটি ছিল ক্লাবের কর্মকান্ডে পরিপূর্ণ. ক্লাবগুলি সক্রিয়ভাবে ‘রেডিও রাশিয়া’ সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানাদি ও সাইটের মেটেরিয়াল মানুষের মধ্যে প্রচার করেছে, ‘রাশিয়া থেকে ভালোবাসা সহ’ নামক এফএম বেতারানুষ্ঠান সম্পর্কে লোকজনদের অবহিত করেছে. আর ক্লাবের সদস্যদের কর্মকান্ডের শিরোমনি ছিল ক্লাবগুলির সার্বজনীন সম্মেলন.

সেরকমই একটা মিলনোত্সব – সপ্তম সর্বভারতীয় সম্মেলন হয়ে গেল গত ৮-৯ই ডিসেম্বর নয়াদিল্লীতে রুশী বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি ভবনে. ঐ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী দীপক কুমার উল্লেখ করেছেন, যে এবারের সম্মেলনে সর্বাধিক সংখ্যক ক্লাবসদস্য এসেছিল. সম্মেলনে অংশ নেওয়া আরও একজন, উত্তর প্রদেশের যশবন্ত সিং মাথুরির মতে বেতারানুষ্ঠানাদি ও সাইটে প্রদর্শিত মেটেরিয়াল নিয়ে আলোচনা ছিল খুবই উপযোগী.

পাকিস্তানবাসী ‘রেডিও রাশিয়া’র ক্লাব সদস্য ও শ্রোতারা ২০১২ সালের অন্যতম স্মরণীয় ঘটনা বলে অভিহিত করছেন – ১৫ই ডিসেম্বর লাহোরে অনুষ্ঠিত তৃতীয় সর্বপাকিস্তানি সম্মেলনকে. তারা লিখছেন – আমরা দারুন আনন্দ পেয়েছি 'রেডিও রাশিয়া'র কর্মীদের সাথে সাক্ষাত করতে পেরে, যাদের কন্ঠস্বর আমাদের খুবই পরিচিত.

লাহোরে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে অন্যতম যোগদানকারী ও মস্কোয় চিঠিপত্র পাঠানোর ব্যাপারে আমাদের দয়ালু সহযোগী ইসমাইল খাঁ ডেরার অধিবাসী লিয়াকত আলি আওয়ান বিগত বছরে আরও একটি ঘটনাকে তাত্পর্যপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন – ভারতীয় উপ-মহাদেশে রাশিয়ার রাজধানী থেকে বেতার সম্প্রচারন শুরু হওয়ার ৭০-তম বার্ষিকী পূর্তি. লাহোর সম্মেলনে তিনি বলেছেন – রেডিও রাশিয়া উপ-মহাদেশের বিভিন্ন জাতীয় ভাষায় অনুষ্ঠানাদি পরিবেশন করে বলে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত.

আর আমাদের বাংলাভাষী সাইটে যারা নিয়মিত উপস্থিত হন, যেমন দেওয়ান রফিকুল ইসলাম ওরফে রানা, মাহফুজুর রহমান, তারা ২০১২ সালে প্রথমবার বাংলাদেশে শ্রোতাদের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার উচ্চ মূল্যায়ণ করেন. ভারত থেকে বাংলাভাষী সাইটে উপস্থিত হওয়া শ্রোতা কাঞ্চন কুমার চ্যাটার্জি ও বিধান চন্দ্র সান্যাল তাদের জন্য আগ্রহোদ্দীপক বলে বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন রাশিয়ার সম্পর্কে খবরাখবর ও বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদন. তারা লিখেছেন – আমরা সর্বদা বিভিন্ন তীক্ষ্ণ আন্তর্জাতিক সমস্যাবলীর বিষয়ে রাশিয়ার অবস্থানের দিকে লক্ষ্য রাখি, রেডিও রাশিয়ার কাছ থেকে মিশর, সিরিয়ার ঘটনাবলী সম্মন্ধে জানার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে থাকি. রুশী-মার্কিনী সম্পর্ক ও ইন্দো-রুশী সহযোগিতা প্রসারের বিষয়ে সম্প্রচারনও আমাদের আকৃষ্ট করে. এই প্রসঙ্গে আমাদের উপরোক্ত ব্যক্তিরা ছাড়াও বাংলাভাষী সাইটের নিয়মিত কয়েকজন পাঠকের নাম করতে চাই. যেমন, সোহেল রানা হৃদয়, হান্নান হাওলাদার, আশরাফুল ইসলাম, আলি হুসেন, সিদ্ধার্থ সরকার, অপর্ণা চ্যাটার্জি, নূরআলম আলম, আফজাল হোসেন,  নিজামুদ্দিন ওরফে নয়ন.

ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের যমুনানগর থেকে দর্শন লাল বাভেজি ও অন্যান্য ভারতীয় শ্রোতারা রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনের সাম্প্রতিক ভারত সফর সম্পর্কে তাদের সজীব প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন. উক্ত সফরকালে দশটিরও বেশি ইন্দো-রুশী চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়াকে তারা স্বাগত জানিয়েছেন. আর তারমধ্যে আছে ভারতের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা – বিদ্যুতশিল্প – রুশী প্রযুক্তি দিয়ে পারমানবিক বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মাণ.

আমাদের বহু বন্ধুবান্ধবদেরই খুশি করেছে ২০১৩-২০১৫ সালে রুশ ফেডারেশন ও ভারতের মধ্যে সাংস্কৃতিক সহযোগিতা গভীরতর করার পরিকল্পনা. নয়াদিল্লীর অধিবাসী, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হৃদবিজয় চক্রবর্তী নতুন নতুন উত্সবের আয়োজন করার ও দুইদেশের কলাকুশলীদের অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছেন. – আমার ও আমাদের বন্ধুবান্ধবদের সম্প্রতি দিল্লীতে হয়ে যাওয়া ‘মস্কোর দিনগুলি’ উত্সব চিরকাল স্মরণে থাকবে. আমরা একটি বিচিত্রানুষ্ঠানে গেছিলাম, যেখানে বলশোয় থিয়েটারের শিল্পীরা ও অন্যান্য কলাকুশলীরা মঞ্চে অবতীর্ণ হয়েছিল. সেটা ছিল দারুন, অবিস্মরণীয় সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা! রুশী সংস্কৃতির সাথে আরও ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত হওয়ার জন্য আমরা বন্ধুরা রুশী ভাষা শিখবো বলে ঠিক করেছি.

প্রিয় বন্ধুগণ, আপনাদের এরকম সদিচ্ছা হওয়ায় আমরা আনন্দিত. আমাদের বেতারানুষ্ঠানে হিন্দী ও উর্দুভাষীদের জন্য রুশী ভাষাশিক্ষার পাঠ সম্প্রচারন করা হয়ে থাকে. আমরা অদূর ভবিষ্যতে ‘রেডিও রাশিয়া’র বাংলাভাষী সাইটেও ঐ শিক্ষাদান শুরু করার বিষয়টি বিবেচনা করে দেখছি.

আর এবার একটু সাঙ্গিতিক-বিরতি দেওয়া যাক ও আমাদের ক্লাবের আজকের অধিবেশনে অংশগ্রহণকারীদের মনকাড়া একটি উচ্ছল ও সুরেলা গান শোনানো যাক. গানটি নববর্ষের হাসিখুশি আমেজ প্রতিফলিত করে.

‘রেডিও রাশিয়া’র শ্রোতাদের ক্লাবের অধিবেশন শুনছেন আপনারা. গোটা ২০১২ সাল ধরে আমরা আয়োজন করেছিলাম প্রতি তিনমাসে আমাদের সাইটগুলির সবচেয়ে সক্রিয় ব্যবহারকারীদের ও ক্লাবগুলির কর্মকান্ড সম্পর্কিত সবচেয়ে সেরা ফোটো প্রতিযোগিতার. এই প্রতিযোগিতাগুলিতে আপনারা সাড়া দিয়েছেন স্বতঃস্ফূর্তভাবে. প্রত্যেক ৩ মাস বাদে বাদে আমাদের মাথা খাটাতে হয়েছে কাকে বিজয়ী ঘোষনা করা হবে – তাই নিয়ে. সর্বজনগ্রাহ্য সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তুমুল বিতর্কে মেতেছি আমরা প্রতিবার. এবার আমরা ২০১২ সালের শেষ ত্রৈমাসিকের বিজয়ীদের নাম ঘোষনা করতে চলেছি. বাংলা সাইটের প্রতিযোগিতায় জয়লাভ করেছেনঃ

দেওয়ান রফিকুল ইসলাম. ফোটো প্রতিযোগিতায় এবারে জ্যুরিবোর্ড কাউকে বিজয়ী হিসাবে চিহ্নিত করেনি.

২০১৩ সালেও আমরা ঐ দুই প্রতিযোগিতা চালিয়ে যেতে চাই. আপনাদের কাছ থেকে আমাদের সাইটগুলোতে আমরা আরো সক্রিয় উপস্থিতির প্রত্যাশা করবো. আমরা ক্লাবের কর্মকান্ড নিয়ে আপনাদের পাঠানো আগ্রহোদ্দীপক ফোটো পাওয়ার অপেক্ষায় থাকবো.

আমরা আপনাদের সবাইকে আমাদের প্রতিযোগিতায় যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি.

২০১৩ সালে 'রেডিও রাশিয়া'র শ্রোতাদের ক্লাবের প্রথম অধিবেশন আমরা এবার শেষ করবো আপনাদের একটি গান শুনিয়ে. “আমরা আপনাদের সুখসাচ্ছন্দ্য কামনা করছি” – এই গানটি শোনাচ্ছেন প্রখ্যাত রুশী সুরকার ও গায়ক স্তাস নামিন.

আমরাও এই শুভকামনাই জানাচ্ছি আপনাদের প্রিয় বন্ধুরা! আমরা আপনাদের সকল প্রিয়জনের জন্য সুখসমৃদ্ধি ও সাফল্য কামনা করছি নতুন বছরে.