২০১৩ সাল রাশিয়ার অর্থনীতির পক্ষে নতুন পর্যায়ের সূচনা হয়ে উঠতে পারে. বহু বিশেষজ্ঞদের বিশ্বাস এই, যে জ্বালানীশক্তি পরিবাহী খনিজ পদার্থের বিক্রয়ের উপর নির্ভরতা কমা উচিত, আর অর্থনীতির বাড়বাড়ন্তের মুল চালিকাশক্তি হওয়া উচিত বিনিয়োগের.

রাশিয়ার শিল্পপতি ও ব্যবসায়িক সংঘ প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, মোটামুটি ৭০ শতাংশ বাণিজ্যিক সংস্থা আগামী ২ বছরে তাদের মনোবাসনাগত বিনিয়োগ রূপায়িত করতে চায়. রাষ্ট্রীয় দ্যুমায় অর্থনৈতিক উন্নয়ন, উদ্ভাবনের বিকাশ ও বাণিজ্য কমিটির প্রধান ইগর রুদেনস্কি এই প্রসঙ্গে বলছেনঃ ---

বিনিয়োগ করার সুযোগ দেওয়ার জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে. কারবারের জন্য রাশিয়া করের হিসাব করার প্রক্রিয়া সহজতর করেছে, এখন আমাদের দেশে কোম্পানি নথিভুক্ত করার প্রক্রিয়া সহজতর করা হচ্ছে. মন্ত্রণালয়গুলির কার্যকলাপের কথা বলতে গেলে বলতে হয়, যে রাষ্ট্রপতির বক্তব্য অনুযায়ী সামনের বছর থেকে আমরা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ও স্থানীয় প্রশাসন দপ্তরগুলির কার্যকলাপের মূল্যায়ণ করবো – কতমাত্রায় তারা বাণিজ্যের জন্য অনুকূল বাতাবরন সৃষ্টি করবে, তার উপর ভিত্তি করে.

ভুলে গেলে চলবে না, যে রাশিয়ার অর্থনীতি আমেরিকা, চীন ও ইউরোপের অর্থনীতির হালের দ্বারা প্রভাবিত হয়. ইউরো এলাকার পরিস্থিতি বিশেষ করে বিশেষজ্ঞদের দুর্ভাবনায় ফেলে. তাদের পূর্বাভাস অনুসারে, ইউরো এলাকার জন্য অপেক্ষা করছে ধ্রুপদী মন্দাজনিত সব ঝঞ্ঝাটঃ বেকারত্বের বিশাল হার, শিল্পোত্পাদন হ্রাস ও মাথাপিছু উত্পাদনের কমতি হার. রাশিয়ার এমন হাল হতে পারে সেক্ষেত্রেই, যদি খনিজ তেলের আন্তর্জাতিক মূল্য অর্ধেক হয়ে যায় বা তার নীচে নেমে যায়. এ প্রসঙ্গে রাশিয়ান স্কুল অফ ইকনোমিক্সের অধ্যক্ষ সের্গেই গুরিয়েভ বলছেনঃ ---

রাশিয়ায় অর্থনৈতিক মন্দা শুরু হওয়ার জন্য বিশ্ব অর্থনীতির বড়সড় হ্রাস ও খনিজ তেলের দাম ব্যাপক হারে নেমে যাওয়ার দরকার. কিন্তু এমন নেতিবাচক চিত্রনাট্যের উদ্ভব হতে পারে শুধু তখনই, যদি তেলের মূল্য দীর্ঘকাল ধরে নীচুমাত্রায় থেকে যায়. আপাততঃ সেরকম সম্ভাবনা খুব কম. যদি তেলের দাম ব্যাপকমাত্রায় পড়ে যায়, তাহলে সরকার সঞ্চিত তহবিল থেকে অর্থ খরচা করতে শুরু করবে.

ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার ক্ষেত্রে রাশিয়া কিছু সাফল্য অর্জন করেছে. তবে রাশিয়ায় ঋণের ও জমানো অর্থের জন্য সূদের হার বাড়বে এবং এর প্রভাব পড়বে গোটা বিশ্বে – এই বিষয়ে দৃঢ়বিশ্বাসী আলফা ব্যাঙ্কের মুখ্য অর্থনীতিবিদ নাতালিয়া ওর্লোভা. ---

যদি বুনিয়াদী চিন্তাধারার দৃষ্টিকোন থেকে দেখতে হয়, তাহলে আমি মনে করি, যে সূদের হার ক্রমাগত উর্ধমুখী হতে থাকবে. এই ঝোঁকটা যেমন রাশিয়ার তেমনই বিশ্বের বাজারে বজায় থাকবে.

তিনি বলছেন - মুখ্য কর্তব্য হল ধাপে ধাপে দেশ থেকে অর্থপ্রবাহ বিদেশে পাঠানোর স্রোত স্লথতর করা. এ কাজে সহায়তা করতে পারে নতুন নতুন প্রকল্পের অধিগ্রহণ. কারন বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশ থেকে অর্থস্রোত বিদেশে গড়িয়ে যাওয়ার মুল কারন হচ্ছে এই, যে রাশিয়ায় পর্যাপ্ত পরিমানে দামী প্রকল্পের অভাব, সেই জন্যই অর্থ বিদেশে চালান হয়ে যাচ্ছে.