‘রেডিও রাশিয়া’র ইন্টারনেট সাইটের সবচেয়ে সক্রিয় ইউজার বাছাইয়ের ত্রৈমাসিক প্রতিযোগিতার ফলাফল জানানোর সময় হল. এবার জানাবো বছরের শেষ ৩ মাসের ফলাফল. এবার বিজয়ীর শিরোপায় ভূষিত হচ্ছেন হরিয়ানা রাজ্যের হিসার শহরের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে মনস্তত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপিকা সুশীলা ধন্যা, সবচেয়ে বেশিবার আমাদের সাইটে এন্ট্রি করার ও সাইটে প্রকাশিত খবরাখবর সম্পর্কে মন্তব্য পাঠানোর জন্য. আমরা টেলিফোনের মারফতে তার সাথে যোগাযোগ করেছি. ---

শ্রীমতি সুশীলা ধন্যা, আপনাকে অভিনন্দন জানাচ্ছি ‘রেডিও রাশিয়া’ ঘোষিত প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হওয়া উপলক্ষ্যে. আপনি আমাদের সাইটে নিয়মিত ঢুঁ মারা বহু ভারতবাসীকেই টেক্কা দিয়েছেন এব্যাপারে.

-“এই খবর জেনে আমি খুবই আনন্দিত! এবছর মস্কোয় রুশী গণমৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরনো স্নাতকদের সম্মেলনে আমি উপস্থিত ছিলাম ও আপনাদের বেতারকেন্দ্রকে তখন সাক্ষাত্কার দিয়েছিলাম. আমি ২২ বছর মস্কোয় যাইনি ও তাই পুরনো বন্ধু ও সহকর্মীদের সাথে পুণর্মিলনে খুবই আনন্দ পেয়েছি. আমার কাছে রাশিয়া অত্যন্ত মূল্যবান. আমি ওখানে ভাষাতত্ত্ববিদের ডিগ্রি অর্জন করেছিলাম. তারপর আমার বিয়ে হয় এক স্বদেশী ভদ্রলোকের সাথে. এখন আমরা দুজনেই হিসারে বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করি. আমার স্বামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম কর্তাব্যক্তি. বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা রুশী ভাষাও অধ্যয়ন করে. এটা ভালো কথা, কারন ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে সংযোগ বাড়ছে, এমনকি কৃষিশিল্পের ক্ষেত্রেও. আমরা রাশিয়ার তিমিরিয়াজেভ এ্যাগ্রোনমিক্যাল এ্যাকাডেমির সাথে সংযোগ স্থাপণ করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছি”.

২৪শে ডিসেম্বর রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন নয়াদিল্লী সফরে গেছিলেন. আপনার মতে ভারতে এই সফরের, স্বাক্ষরিত দ্বি-পাক্ষিক সব চুক্তির কিরকম মূল্যায়ন করা হচ্ছে?

- “ভারতীয়রা অত্যন্ত আন্তরিকভাবে রাশিয়াকে ভালোবাসে ও তার হালচাল সম্পর্কে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করে. আমরা আনন্দিত রুশ ফেডারেশনের সাথে সহযোগিতার নতুন নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হওয়ায়, বিশেষতঃ জ্বালানীশক্তির ক্ষেত্রে. আমি শুধুমাত্র ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমগুলির মাধ্যমেই নয়, ‘রেডিও রাশিয়া’র সাইটের মাধ্যমেও ভ্লাদিমির পুতিনের ভারত সফরের দিকে নজর রেখেছিলাম. তাছাড়া আমি ‘ফেসবুকে’ পুতিনের পার্সোনাল সাইটে নিয়মিত যাই. সেই সুবাদে বিভিন্ন বিষয়ে তার প্রতিক্রিয়া ও মতামত সম্মন্ধে বিষদে জানতে পারি”.

সুশীলা, আর কোন সব বিষয়ে আপনার আগ্রহ?

-“ ক্ষুরধার সব আন্তর্জাতিক সমস্যাবলীর প্রশ্নে রাশিয়ার অবস্থান, ইন্দো-রুশী সহযোগিতার পরিপ্রেক্ষিত, রাশিয়ায় সামাজিক সমস্যাবলীর সমাধান কিভাবে হচ্ছে, বিশেষ করে পেন্সন ব্যবস্থার সংস্কার সম্মন্ধে আমার জানার আগ্রহ. আমি বুঝি, যে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনের সময় বা সুযোগ নেই আমার পাঠানো প্রশ্নাবলীর ব্যক্তিগতভাবে উত্তর দেওয়ার. সে কাজটা করে তার সহকারীরা. কিন্তু তারা তো পুতিনের অবস্থানেরই ব্যাখ্যা দেয়, তার মতামত প্রতিফলিত করে.

আমি ভারতের বন্ধু ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে আমার এই যোগাযোগের উঁচু মূল্যায়ণ করি আর ‘রেডিও রাশিয়া’ তার যোগসূত্রের ভূমিকা পালন করে. এসব সম্পর্কে আমি আমার ছাত্রছাত্রীদের গল্প করি, ‘রেডিও রাশিয়া’র সাইটের সাথে তাদের পরিচিতি ঘনিষ্ঠতর করার চেষ্টা করি. যদি ২০১৩ সালে আপনাদের বেতারকেন্দ্রের সাইটে যাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে সক্রিয় ইউজারদের তালিকায় আমার ছাত্রছাত্রীদের নাম দেখতে পাই, তবে আমি বিস্মিত হব না”.