মস্কোর ভুনুকোভা বিমানবন্দরে রাশিয়ার রেড উইঙ্গস কোম্পানীর তু-২০৪ বিমান দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের জন্য গঠিত বিশেষ তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে. শনিবার সন্ধ্যায় চেক প্রজাতন্ত্র থেকে রাশিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা বিমানটি ভুনুকোভো বিমান বন্দরে অবতরণের সময় মূল রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে এবং ইঞ্জিনে আগুন ধরে যায়. বিমানটি বিধ্বস্থ হয়ে ৩টি অংশে পরিনত হয়. রাশিয়ার জরুরি ত্রাণ মন্ত্রনালয় জানায়, বিমানে পাইলট, ইঞ্জিনিয়ার ও বিমানবালাসহ মোট ৮ জন ছিল. এদের মধ্যে ৪ জন নিহত ও অপর ৪ জনকে আহতবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে.

৩০ ডিসেম্বর ভোরে আন্তঃরাষ্ট্রীয় এ্যভিয়েশন কমিটি বিধ্বস্থ বিমানের ব্লাক বক্সে রেকর্ড হওয়া পাইলটের বক্তব্যের তদন্ত শুরু করেছে. অন্তত ১ সপ্তাহ পরই জানা যাবে দুর্ঘটনার মূল কারণ কি ছিল.

 

উল্লেখ্য, রেড উইঙ্গস এয়ারলাইন্স কোম্পানী রাশিয়ার ন্যাশনাল রিজার্ভ কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত. এর মালিক হচ্ছেন রুশী বিলিয়নার আলেক্সান্দার লেবেদেভ. ইতোমধ্যে তিনি নিহতদের পরিবারের সদস্যদের আর্থিক সাহায্য প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন. নিজের টুইটার ব্লগে এ সংক্রান্ত এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেছেন. মস্কো নগর কর্তৃপক্ষও নিহতদের পরিবারকে ৩৩ হাজার মার্কিন ডলার দেওয়ার ঘোষণা করেছে.

তদন্তকারী দল এ বিমান দুর্ঘটনার সব ধরণের সম্ভাব্য কারণ পরীক্ষা করছে. এসবের মধ্যে অন্যতম একটি কারণ হচ্ছে পাইলটের ভুল. তবে একই সাথে যান্ত্রিক গোলযোগের কারণও বাদ দিচ্ছেন না তদন্তকারীরা. বিমানের পাইলটরা যথেষ্ট অভিজ্ঞ ছিলেন বলে রাশিয়ার যোগাযোগমন্ত্রনালয় জানিয়েছে. সর্বশেষ গত ১৪ ডিসেম্বর বিমানটির যান্ত্রিক সেবা প্রদান করা হয়. এর উড্ডয়নের বিরুদ্ধে কারও কোন অভিযোগ ছিল না. এ ধরণের বিমান নির্মাণ করা হয় এমন কারখানা আভিআস্টার-এসপি’র প্রধান পরিচালক সেরগেই দেমিয়েনতিয়েভ বলেন, তু-২০৪ হচ্ছে নিরাপদ বিমান. রেডিও রাশিয়াকে তিনি বলেন, “অবশ্যই, কমিটি সব ধরণের কারণ নিয়ে তদন্ত করবে. এ বিমান নির্মান হয়েছিল ২০০৮ সালে. আমাদের কারখানা এর নিরাপত্তার পুরোপুরি নিশ্চয়তা দিয়েছে. আমি বুঝতে পারছি যে, রেড উইঙ্গস কোম্পানীর বিমান গত ২০১০ সাল থেকে ভুনুকোভা বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনা করে আসছে. আমি মনে করি, সেখানে অনেক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন বিশেষজ্ঞ রয়েছেন এবং ওই বিমানের সেবা প্রদানে কোন ধরণের অভিযোগ থাকার কথা নয়”.

 

রাশিয়ার পের্ম মটরস ফ্যাক্টরী যারা তু-২০৪ বিমানের জন্য ইঞ্জিন সরবরাহ করে থাকে তাঁরাও এ দুর্ঘটনার জন্য যান্ত্রিক ত্রুটিকে দায়ী করার তথ্য অস্বীকার করেছেন. এ কথাই বলেছেন ওই ফ্যাক্টরীর প্রতিনিধি গ্রিগোরী বুইলোভ. তিনি জানান, আমাদের প্রতিষ্ঠান বিমানের ইঞ্জিনের পূর্ণ শক্তির নিশ্চয়তা দিয়ে থাকে. সুনির্দিষ্ট নির্দেশনাবলী মেনেই আমরা ইঞ্জিন সরবরাহ করি. এ বিমান শুধু দশ দশ ঘন্টা বা ১০০ ঘন্টা উড়ে নি. অবশ্যই, ইঞ্জিনের যে দায়িত্ব ছিল তা ও সঠিকভাবেই পালন করেছে. এটি হতেই পারে না যে, ইঞ্জিনের কোন সমস্যা রয়েছে তা জেনে বিমানটি উড্ডায়ন করেছে. আমরা প্রয়োজনে সব ধরণের তথ্য দিয়ে সাহায্য করব যাতে অতি দ্রুত এ দুর্ঘটনার কারণ জানা যায়”.

 

স্বল্প দুরত্বে ফ্লাইট পরিচালনাকারী তু-২০৪ মডেলের বিমান বিখ্যাত রুশ কোম্পানী তুপোলোভ ৮০-র দশকের শেষের দিকে উদ্ভাবনী কাজ শুরু হয়েছিল. বানিজ্যিক উদ্দেশ্যে তা বাজারজাতকরণ শুরু হয়েছিল ১৯৯৫ সালে. এ বিমানের ২১৪ জন যাত্রী ধারণক্ষমতা রয়েছে. বর্তমানে এ ধরণের ৭২টি বিমান সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করছে.

 

এদিকে ভুনোকোভা বিমানবন্দর থেকে রেড উইঙ্গস কোম্পনীর তু-২০৪ মডেলের বিমান উড্ডয়ন বন্ধ রয়েছে বলে যে সংবাদ প্রচার করা হয়েছে তা সঠিক নয় বল জানিয়েছে রুশ এ্যভিয়েশন কোম্পানী.