মালি রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী দিয়াঙ্গো সিসোকো প্রতিবেশী আফ্রিকার দেশ গুলিকে ও রাষ্ট্রসঙ্ঘের কাছে তাঁর দেশে শান্তি রক্ষী বাহিনীর প্রবেশের প্রক্রিয়াকে দ্রুত করতে আহ্বান করেছেন. ১০ দিন আগে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ সিদ্ধান্ত নিয়েছে মালিতে আন্তর্জাতিক বাহিনী পাঠানোর, কিন্তু তার জন্য নির্দিষ্ট কোন দিন এখনও ঠিক করা হয় নি.

ধরে নেওয়া হয়েছে যে, দেশের উত্তরাঞ্চল দখল করে নেওয়া জঙ্গীদের সঙ্গে সরকারি ফৌজের যুদ্ধ অবসানের কাজ করবে আফ্রিকার দেশ গুলির সম্মিলিত শান্তি রক্ষী বাহিনী. আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী গুলিই, যারা “আল- কায়দার” আত্মীয়ের মত, তারাই জঙ্গী বাহিনীতে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা নিয়েছে. তারা লিবিয়াতে গাদ্দাফির স্বপক্ষের লোকদের সঙ্গে যুদ্ধের পরে মালিতে চলে গিয়েছে.

এই সমস্ত তথাকথিত “আরব বসন্তের” দেশ গুলিতে যেমন, তেমনই তাদের সীমান্ত বরাবর এলাকায় নিয়ত খারাপ হওয়া পরিস্থিতি অনেকটাই বাধ্য করেছে এই “বসন্তের” পুনর্মূল্যায়ণ করার. এই রকমই মনে করেন বিশেষজ্ঞ ভিক্টর নাদেইন রায়েভস্কি. তিনি বলেছেন:

““আরব বসন্তের” দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি তারই এক আঁতুড়ঘর টিউনিশিয়ার সিদি-বুজিদ শহরে পালিত হয়েছে গণ মিছিল করে. দেশের রাষ্ট্রপতি, যখন তিনি পাঁচ হাজার লোকের ভিড়ে ভাষণ দিতে গিয়ে আশ্বাস দিয়েছেন ছয় মাসের মধ্যে দেশের অর্থনীতির হাল ফেরানোর, তখন তাঁকে পাথর ছুঁড়ে মারার চেষ্টা হয়েছে. সমাবেশে উপস্থিত লোকরা দেশের নেতৃত্বের পদত্যাগ দাবী করেছে. অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতির আশা আরব দেশ গুলিতে গণ আন্দোলনের এক প্রধান গতি নির্ধারক শক্তি ছিল. ইজিপ্টে, টিউনিশিয়াতে, ইয়েমেনে, লিবিয়াতে নেতৃত্ব বদলেছে, কিন্তু এই সব দেশে পরিস্থিতি শুধু খারাপই হয় নি, বরং আরও অনেক খারাপই হয়েছে. বহু লোকেরই জয়ের অনুভূতি বদলাতে শুরু করেছে একটা হারের অনুভূতিতে. গত দুবছরে আন্তর্ধর্মীয় ও ধর্মের ভিতরেই সম্পর্ক তীক্ষ্ণ হয়ে উঠেছে, যেমন শিয়া এবং সুন্নী মতের মুসলমানদের মধ্যেই.

“আরব বসন্তের” ঘটনা খুবই গভীর মনোযোগ দিয়ে দেখা পশ্চিমের নজরের মধ্যেই বিকশিত হয়েছে. তাঁরাই তৈরী করে দিয়েছেন তথাকথিত “ইন্টারনেট নেতাদের”, যাদের পরবর্তী সময়ের পশ্চিমের পক্ষেই সমাজ পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় ভিত্তি তৈরী করার কথা ছিল. মানুষকে উত্তেজিত করা সম্ভব হয়েছে, কিন্তু একটিও পশ্চিম পন্থী দল ক্ষমতায় আসতে পারে নি. এটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের ইউরোপের সহযোগী দেশ গুলিরই পরাজয়”.

শেষের কথা গুলির সঙ্গে আমাদের আলোচনার আরও এক অংশগ্রহণকারী সমীক্ষক ইভগেনি এরমোলায়েভ একমত হতে পারেন নি, তিনি বলেছেন:

“যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের পশ্চিমের জোটের পক্ষে নিজেদের লোকদের ক্ষমতায় নিয়ে আসা সম্ভব না হয়ে থাকে, তাহলেও এই এলাকায় একটা মাত্স্যান্যায় তৈরী করা সম্ভব হয়েছে. আর তারা এটাকেই নিজেদের লক্ষ্য হিসাবে ব্যবহার করবে. এই এলাকার প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে এতদিন অবধি গোপন অস্তিত্ব রক্ষা করে চলা রাজনৈতিক ইসলামের দল. কিন্তু তারাই শুধু আরব বসন্তে জয়ী হয় নি. অনেকটাই শক্তিশালী করতে পেরেছে নিজেদের অবস্থান চরমপন্থী আন্দোলন ও সংস্থা গুলি. মালি উত্তর দিকে ক্ষমতা দখলের বিষয়ে অংশ নিয়েছে “ঐস্লামিক মাগ্রীবের দেশ গুলিতে আল- কায়দা” দল. তাদেরই যোদ্ধারা এখন সিরিয়াতে যুদ্ধ করছে. এই সব চরমপন্থী আন্দোলন দাবী করছে ইজিপ্টে, লিবিয়াতে, সিরিয়ায় ঐস্লামিক আমীরশাহী তৈরীর. কিছুদিন আগেই তাদের ধান্ধা নিয়ে ঘোষণা করেছে সিরিয়াতে যুদ্ধে রত তাদেরই আরও এক শরিক গোষ্ঠী “ঝেবাত আন – নুর্সা”. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এটাকেই সন্ত্রাসবাদী দলের তালিকায় তুলেছে. কিন্তু তা কি এদের ভয় দেখাতে পারবে, যদি পশ্চিম ও পারস্য উপসাগরীয় দেশ গুলি সিরিয়ার সশস্ত্র বিরোধী পক্ষকেই সহায়তা করা চালিয়ে যেতে থাকে, আর তারাই “ঝেবাত আন- নুর্সার” যোদ্ধাদের নিজেদের ভাই বলেই খোলাখুলি নাম দেয়?

উত্তর আফ্রিকা সম্বন্ধে যা বলা যেতে পারে, তা হল যে, “ঐস্লামিক মাগ্রীবের দেশ গুলিতে আল কায়দার” এক নেতা কিছু দিন আগেই ঘোষণা করেছে যে, এই দল এই এলাকায় বিপ্লব থেকে সবচেয়ে বেশী লাভবান হয়েছে. এটা মনে হয় সত্যের মতই. এটাও সত্য যে, উত্তর আফ্রিকা ও নিকট প্রাচ্য এবারে দীর্ঘ দিনের জন্যই অশান্ত সময়ের মধ্যে প্রবেশ করেছে. এটা স্থানীয় রাষ্ট্র গুলির জন্য পরবর্তী সময়ে দুর্বল হয়ে পড়ার কারণ হবে – আর বাস্তবে তারা পশ্চিমেরই রক্ষা কবচের ভেতরে ধরা দেবে. এটা “আরব বসন্তের” একটা খুবই শোচনীয় পরিনাম হয়ে দাঁড়াবে, যা মানুষের মনে এত সত্য আশার উদ্ভব করেছিল. কিন্তু আপাততঃ বিষয় এই দিকেই মোড় নিয়েছে”.