২০১২ সালে খনিজ তেলের দাম ছিল ব্যারেল প্রতি ৯২ থেকে ১২৫ ডলার. বিশেষজ্ঞদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী বছরে দাম সেই একই রকম অর্থাত্ গড়ে ১০০ ডলারের মতই হবে. কিন্তু যদি নিকট প্রাচ্যে পরিস্থিতির বিস্ফোরণ ঘটে, তবে খনিজ তেলের দাম ২০০ ডলারের উর্ধ্বসীমাও পার হয়ে যেতে পারে.

২০১২ সালের পুরোটাই জ্বালানীর মূল্য বিশ্ব অর্থনীতির জন্য সুবিধা জনক স্তরেই ছিল – কোন রকমের দ্রুত নিম্ম স্খলণ অথবা উর্ধ্বে আকাশ ছোঁয়া দামে পৌঁছনোর চেয়ে. বিশেষজ্ঞরা যেরকমের উল্লেখ করেছেন যে, এই ধরনের পরিস্থিতি সকলের জন্যই ভাল. তাই একটা আশা করার ভিত্তি রয়েছে যে, খনিজ তেলের মাঝামাঝি দাম সেই রকমেরই থাকবে, যা ছিল ২০১২ সালেও.

কিন্তু এই চিত্রপট কাজে লাগবে না, যদি নিকট ও মধ্য প্রাচ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়. “নোমোস ব্যাঙ্কের” বিশেষজ্ঞ দেনিস বরিসভ বিশ্বাস করেন যে, এই ক্ষেত্রে খনিজ তেল দামের রেকর্ডও ভাঙতে পারে, তাই তিনি বলেছেন

“মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন শেষ হয়েছে, আর এখন আবার ইরানের প্রশ্ন তাদের আলোচ্য বিষয়ের তালিকায় থাকতে পারে. কোটা ও দাম নির্ধারণের সবচেয়ে নেতি বাচক ঘটনা পরম্পরা নিজেদের পূর্বাভাস অযোগ্য করে তুলতেই পারে, দাম এমনকি ২০০ ডলারেও উঠতে পারে”.

জ্বালানী নিষ্কাশনের ক্ষেত্রে নতুন বড় প্রকল্পও সব সময়েই দামের উপরে প্রভাব ফেলে থাকে. কিন্তু ২০১৩ সালে এই কারণ মনে তো হয় না যে, নিজের অস্তিত্বের প্রমাণ দেবে, এই কথা উল্লেখ করে “ইএফদে ক্যাপিটাল” কোম্পানীর বিশেষজ্ঞ ভিতালি ক্র্যুকভ বলেছেন:

“এখন অনেকেই অনেক কথা বলছেন শেল খনিজ তেল নিষ্কাশন নিয়ে, সেই গুলি খুবই বড় প্রভাব ফেলবে দীর্ঘস্থায়ী দিগন্তে. আমি আপাততঃ কোন আশঙ্কা করছি না যে, সেটা ২০১৩ সালের খনিজ তেলের দামে কোন লক্ষ্যণীয় প্রভাব ফেলবে বলে”.

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সত্যই খুব সক্রিয় ভাবে শেল গ্যাস উত্পাদনের প্রকল্প বিকাশ ঘটাচ্ছে. কিন্তু ইউরোপে “নোমোস ব্যাঙ্কের” বিশেষজ্ঞ দেনিস বরিসভের মতে, শেল গ্যাস বিপ্লব, বোধহয়, কোন ভাবেই আতঙ্কের কারণ হচ্ছে না, তাই তিনি বলেছেন:

“একেবারেই শুরু থেকে ইউরোপে শেল গ্যাস ও তেলের সম্ভাবনা দেখা হয়েছিল খুবই কম আগ্রহজনক বলে, কারণ তাদের জমির মালিকানা সংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে বলে. ইউরোপে জনবসতির ঘনত্ব বেশী, আর শেল গ্যাসের জন্য অনেক কূপ খনন করতে হয়. এক্সন মোবিল কোম্পানীর পক্ষ থেকে পোল্যান্ডে প্রকল্প করতে না চাওয়া দিয়ে খুবই ভাল করে প্রমাণ হয় যে, ইউরোপে শেল গ্যাস ও তেল সংক্রান্ত প্রকল্পের খুব একটা বহুল প্রসার দেখতে পাওয়া যাবে না”.

একই সময়ে, রাশিয়াতে কোম্পানীগুলি বিশ্বের কার্বন যৌগের বাজারে নিজেদের প্রভাব বৃদ্ধি করছে. অংশতঃ, “রসনেফ্ত” কোম্পানী, যারা ২০১৩ সালে রুশ – ব্রিটেন যৌথ উদ্যোগ “টিএনকে – বিপি” নিয়ে তাদের শেয়ার কিনে ফেলার কাজ শেষ করবে ও বিশ্বের বৃহত্তম কোম্পানী হবে প্রমাণিত খনিজ সম্পদ ও দৈনিক নিষ্কাশনের পরিমানে. বিশ্লেষকদের মতামত অনুযায়ী আরও বেশী করে এই কোম্পানী নিজের খুঁটি শক্ত করতে পারবে, যখন তারা সমুদ্র উপকূলে নিজেরা খনিজ তেল আহরণ শুরু করবে. আর এটা বিশেষজ্ঞদের কথামতোই এখন স্রেফ সময়ের প্রশ্ন ( আর প্রসঙ্গতঃ তা খুব একটা দেরী করে নয়).