সিরিয়া সঙ্কটের প্রধান বাধা হয়েছে বিরোধী পক্ষদেরই শান্তির স্বপক্ষে অনীহা, এই কথা ঘোষণা করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান সের্গেই লাভরভ তাঁর সিরিয়া সঙ্কট নিয়ন্ত্রণের জন্য রাষ্ট্রসঙ্ঘ ও আরব লীগের বিশেষ প্রতিনিধি লাখদার ব্রাহিমির সঙ্গে মস্কো শহরে আলোচনার পরিনাম নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে.

বাস্তবে প্রায় প্রতিটি সাংবাদিক সম্মেলনেই সিরিয়া সম্পর্কে বিশেষ প্রতিনিধিকে বাধ্য হতে হয়েছে এই কারণই দর্শানোর: সেই দেশের পরিস্থিতি জটিল ও বিরোধ ক্রমাগত বেড়েই চলেছে. কিন্তু রাজনৈতিক ভাবে নিয়ন্ত্রণের সুযোগ এখনও রয়েছে. কিন্তু তা বাস্তবায়িত হচ্ছে না কেন? এটা বোঝাই হল - অর্ধেক কাজ, উল্লেখ করেছেন সের্গেই লাভরভ, তিনি বলেছেন:

“আমরা আজ এটাই করেছি. আমরা ব্যাখ্যা করেছি যে, এখানে বাধা হয়েছে প্রাথমিক ভাবে দুই বিরোধী পক্ষেরই একে অপরের সাথে কোন রকমের সমঝোতায় না আসার ইচ্ছা. এই প্রসঙ্গে, আমি একাধিকবার বলেছি যে, সমস্ত বিদেশের ক্রীড়নকদেরই উচিত্ হবে পক্ষদের বোঝানো যে, জেনেভার নীতি যদি শতকরা একশ ভাগ সম্ভাবনা খুলে না ধরেও, তবুও খুবই ভাল সুযোগ করে দেয় বর্তমানের হত্যালীলার থেকে বের হওয়ার জন্য”.

কিন্তু জেনেভায় তৈরী রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা অনুসরণ করতে মোটেও এই বিরোধের সমস্ত অংশীদাররা তৈরী নয়. প্রশাসনের বিরোধীরা অবশেষে জোট তৈরী করতে পেরেছে জাতীয় বিরোধী ও বৈপ্লবিক শক্তি হিসাবে. নতুন কাঠামোর নেতারা সঙ্ঘে সঙ্গেই ঘোষণা করেছে যে, তাদের মূল লক্ষ্য বর্তমানের প্রশাসনের পতন. কোন রকমের তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনাই তারা একই সঙ্গে আপত্তি করেছে. এই ধরনের পথ ধরে চললে পরিস্থিতি এর পরে আরও খারাপ হবে বলেই লাভরভ মনে করেন. নিজেদের এই অনস্থান রাশিয়ার কূটনীতিবিদরা সিরিয়ার বিরোধী জোটের পক্ষের নেতা আহমেদ আল-খাতিবকে বোঝাতে তৈরী আছেন বলেই ঘোষণা করেছেন লাভরভ, তিনি বলেছেন:

“আমরা তার সঙ্গে মস্কোতে দেখা করতে তৈরী আছি বলে জানিয়েছি, সে সেই সময়ে অন্য কোন দেশের নিরপেক্ষ রাজধানীতে দেখা করার কথা পছন্দ করেছে. এই ধরনের যোগাযোগের পরে আমার জন্য খুবই বিস্ময়কর লেগেছে তার ঘোষণা যে, সে আমাদের সঙ্গে দেখা করতে তৈরী আছে, যদি আমরা আমাদের অবস্থান পাল্টাই, তার জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে নিই. জনাব খাতিব বোধহয় রাজনীতিতে খুব একটা অভিজ্ঞ লোক নন. সে শুধু আমাদের অবস্থান আমাদের কাছ থেকেই জানতে পারত, শুধু সংবাদ মাধ্যমের থেকেই জানতে পারত না, যা অনেক সময়েই আমাদের অবস্থান সম্বন্ধে একেবারেই সত্য থেকে অনেক দূরের সিদ্ধান্ত প্রকাশ করে থাকে”.

এর আগে সংবাদ মাধ্যমে এই খবর প্রকাশিত হয়েছিল যে, সিরিয়ার সরকার ও বিরোধী পক্ষ রাজী হয়েছে দেশে শান্তি রক্ষী বাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন নিয়ে. “রেডিও রাশিয়া” থেকে করা প্রশ্নের উত্তরে লাখদার ব্রাহিমি এই তথ্যের সত্যতা স্বীকার করেন নি, তিনি বলেছেন:

“রক্তপাত বন্ধ করার জন্য প্রয়োজন পর্যবেক্ষক বা শান্তি রক্ষী বাহিনী পাঠানোর. সম্ভবতঃ শান্তি রক্ষী বাহিনী পাঠানো একটা গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত হতে পারত. কিন্তু এটা হওয়া উচিত্ একটা সম্পূর্ণ ও সকলের জন্যই বাধ্যতামূলক সিদ্ধান্তের অংশ. এই ব্যবস্থার মধ্যে যেমন শান্তি রক্ষার চেষ্টা করা উচিত্, তেমনই পরবর্তী কালে নির্বাচন করাও”.

মস্কো আহ্বান করেছে সিরিয়াতে রাষ্ট্রসঙ্ঘের তরফ থেকে পর্যবেক্ষকদের ফিরিয়ে আনার ও তাদের সংখ্যা বাড়ানোর জন্যও, বলেছেন সের্গেই লাভরভ. এই দেশে আগে কাজ করা আরব লীগ ও রাষ্ট্রসঙ্ঘের তরফ থেকে পাঠানো পর্যবেক্ষক দল ফিরিয়ে আনাকে তিনি নাম দিয়েছেন বড় ভুল বলেই. সিরিয়াতে পরবর্তী কালে কি ভাবে দেশের গতি প্রকৃতি হবে, তা ঠিক করবে সেই দেশেরই মানুষ. কিন্তু রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নিজেরাই আবার করে শুরু করতে সিরিয়ার জনগন এখন আর পারছেন না. আন্তর্জাতিক সমাজের উচিত্ তাদের এই কাজে সাহায্য করা . লাখদার ব্রাহিমি আশা করেন যে, সিরিয়াতে বিরোধ রাজনৈতিক ভাবে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ২০১৩ সালেই অন্ত করা সম্ভব হবে, আর সেটা প্রসঙ্গতঃ বছরের শুরুতেই, শেষে নয়.