পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো ও বর্তমানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারির পুত্র বিলাবল ভুট্টো- জারদারি এক অগ্নিগর্ভ বক্তৃতা দিয়েছেন তাঁর মা, যিনি আজ থেকে পাঁচ বছর আগে সন্ত্রাসবাদীদের হাতে নিহত হয়েছেন সেই বেনজির ভুট্টোর স্মৃতি উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে. এই অনুষ্ঠান হয়েছে তাঁদের পরিবারের সমাধি ক্ষেত্রে পাকিস্তানের লারকানা শহরে. তাতে অংশ নিয়েছিলেন প্রায় দুই লক্ষের বেশী জনগণ. বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

নিজের বক্তৃতায় যুবক ভুট্টো খুবই তীক্ষ্ণ ভাবে পাকিস্তানের বিচার ব্যবস্থাকে অভিযোগ করেছেন যে, তারা এই ট্র্যাজেডি হয়ে যাওয়ার পরে গত পাঁচ বছরে সেই সব লোকেদের নাম বলতে পারে নি, যারা তাঁর মায়ের খুনের সঙ্গে জড়িত ছিল. খুবই আবেগের সঙ্গে ও জ্বলন্ত ভাষায় তিনি পাকিস্তানের সমাজের সমস্যা নিয়ে কথা বলেছেন.

বিলাবল, তাঁর পিতার মতই – আসিফ আলি জারদারি, পাকিস্তান পিপলস্ পার্টির সহ সভাপতি. কিন্তু এখনও তিনি সক্রিয়ভাবে কোনও রাজনৈতিক কাজকর্মে জড়িত বলে লক্ষ্য করা যায় নি ও অনেকেই ভেবেছিলেন যে, তাঁর পদ অনেকটাই শুধু নামমাত্র ব্যাপার. কিন্তু তাঁর গত কালের ভাষণ বলতে বাধ্য করেছে যে, তাঁর একটা ভবিষ্যত রাজনৈতিক সম্ভাবনা রয়েছে. তিনি অল্প বয়সী, সক্রিয় ও এই দৃষ্টিকোণ থেকে পাকিস্তানের রাজনৈতিক নির্বাচকদের জন্য পছন্দসই, যাঁদের অনেকাংশই অল্প বয়সী লোক. কিন্তু আপাততঃ সুদূর প্রসারিত কোন সিদ্ধান্ত করতে যাওয়া বৃথা. এই কথা উল্লেখ করে পাকিস্তানের সামাজিক কর্মী, রাজনীতিবিদ মুহাম্মেদ ফারুক আরশাদ বলেছেন:

“বিলাবল যে বক্তৃতা দিয়েছেন, সমাজে ও সংবাদ মাধ্যমে তা বলা হয়েছে বৃহত্ রাজনীতিতে প্রথম পদক্ষেপ বলে. তাঁর ভাষণের একটি কাজ – যুব সমাজকে পাকিস্তান পিপলস্ পার্টির দিকে টেনে আনা. এই ভাষণ ছিল খুবই আবেগে মণ্ডিত, বলা যেতে পারে এমনকি খুবই বেশী. তিনি অনেক কথা বলেছেন অন্যায় নিয়ে, ক্ষতিগ্রস্তদের নিয়ে, তাঁর নিদের পরিবারের ক্ষতি নিয়ে – তাঁর পিতামহ জুল্ফীকার আলি ভুট্টোর ফাঁসী নিয়ে, তাঁর মা বেনজির ভুট্টোর হত্যা নিয়ে. অনেক কথা, অনেক আবেগ – কিন্তু তার থেকে অনেক কম সমস্যা সমাধানের পথ নির্দেশ, যা আজ দেশের সামনে উপস্থিত. পাকিস্তানের লোকরা, প্রসঙ্গতঃ, খুব একটা পরিবারের মহত্ব মানে না ও রাজনীতিতে পরিবার পরম্পরা দেখতে চায় না.এখানে জনতার সেবা করতে হয়, কিছু একটা বাস্তবে করতে হয় যাতে পরিস্থিতি ভাল হয়, সেটা কোন পরিবারের তুমি অঙ্গ সেটার কোন হদিশ না রেখেই. আমি আপাততঃ, কোনও বাস্তব সম্ভাবনা ভুট্টো পরিবারের এই যুবক রাজনীতিবিদের জন্য দেখতে পাচ্ছি না, যদিও একটা সহানুভূতি পাওয়ার জন্য তাকে কোন সন্দেহই নেই যে, ব্যবহার করা হবেই”.

খুবই সম্ভবতঃ, নিজের জীবনের অধিকাংশই ইংল্যান্ডে কাটিয়ে ভুট্টো জুনিয়র পাকিস্তানের রাজনৈতিক জীবনের সূক্ষ্ম বিষয় গুলি না জানতেও পারেন. কিন্তু এটাতেই বরং তার ইতিবাচক দিক রয়েছে. বিলাবল সমস্ত সোচ্চার স্ক্যান্ডাল থেকে সব সময়ে দূরেই থেকেছে – মেমোগেট ও অন্যান্য খুবই ন্যক্কার জনক ইতিহাসের থেকে, যাতে বহু পাকিস্তানের রাজনীতিবিদেরই অন্ত হয়েছে, তার মধ্যে বিলাবল তাঁর নিজের পিতা ও বর্তমান রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারিকেও জড়িত হতে দেখেছে.

বিলাবল ভুট্টো- জারদারি, বর্তমানের পার্লামেন্ট নির্বাচনে নিজের প্রার্থী পদ উপস্থিত করতে পারে না, যা হতে চলেছে ২০১৩ সালের বসন্তে. প্রার্থীদের সবচেয়ে কম বয়স হতে হবে ২৫ বছর, আর তাঁর এমনকি নির্বাচনের সময়েও বয়স ২৫ হবে না. কিন্তু এই নির্বাচন গুলি – শেষ নয়. আর আবেগময় ভাষণ ও তাঁর রাজনৈতিক আত্মপ্রকাশ যে সম্ভব হয়েছে তা অনস্বীকার্য. মায়ের স্মৃতি সভাতেই পাকিস্তানে উদয় হলেন আরও এক উজ্জ্বল রাজনীতিবিদ.