আলজিরিয়াতে, আফগানিস্তানে, নাইজিরিয়াতে গত কয়েকদিন ধরে নতুন সব সন্ত্রাসবাদী হানা হয়েছে. সিরিয়াতে তা হচ্ছে রোজই. এতদিন ধরেই শান্ত থাকা আরব আমীরশাহীতে ঘোষণা করা হয়েছে যে, সৌদী আরবের থেকে আসা চরমপন্থী দলের সদস্যরা গ্রেপ্তার হয়েছে, যারা দুটি প্রতিবেশী দেশেই সন্ত্রাসের পরিকল্পনা করছিল. সন্ত্রাসবাদ আগের মতই অগ্রসর হচ্ছে, আর তার ভৌগোলিক প্রসার শুধু বেড়েই চলেছে.

তারই মধ্যে, কয়েকদিন আগে প্রকাশিত আমেরিকার সিআইএ সংস্থার থেকে প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, ঐস্লামিক চরমপন্থার ঢেউ ২০৩০ সালের মধ্যেই কমে আসবে একেবারে নিস্তরঙ্গ হয়ে. কোথা হতে এই আশাবাদ? নিজের মত রেডিও রাশিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে প্রকাশ করেছেন রাশিয়ার বিশেষজ্ঞ আন্দ্রেই গ্রোজিন, তিনি বলেছেন:

“ধরে নেওয়া যে, ১৫ – ২০ বছর পরেই চরমপন্থী ও সন্ত্রাসবাদীরা তাদের হাতের কুঠার মাটিতে পুঁতে ফেলবে আর শান্তিপ্রিয় কাজকর্মে মন দেবে, এটা একেবারেই অতি সরল হয়ে যেত. সম্ভবতঃ, যারা আমেরিকাতে এই রিপোর্ট তৈরী করেছেন, তারা কোন একটা প্রবণতা দেখতে পেয়েছেন, যা, ঐস্লামিক চরমপন্থার ঢেউ কমে আসার দিকে নিয়ে যাচ্ছে. কিন্তু বাস্তব এখনও সেই রকমই যে, একেবারেই চোখের সামনে অনেক বেশী করেই এমন প্রবণতা দেখতে পাওয়া যাচ্ছে, যা এই ধরনের পূর্বাভাসকেই সন্দেহের সামনে উপস্থিত করে. ইসলাম প্রধান অনেক দেশেই, দেশের এক বিশাল সংখ্যক মানুষ থাকেন দারিদ্র সীমার নীচে, একেবারেই কোন রকমের অধিকার বহির্ভূত ও ভবিষ্যতের কোন ভাল হওয়ার সম্ভাবনা ছাড়াই. এটাই সন্ত্রাস উদ্ভবের সবচেয়ে ভাল রসদ যোগানোর পরিবেশ. আর অনেক দিন আগেই স্থানীয় প্রশাসন এই সমস্যার সমাধান করে আসছেন খুবই সহজে – সবচেয়ে বেশী অসন্তুষ্টদের অন্য দেশে যুদ্ধে পাঠিয়ে. কিন্তু দুই বছর তথাকথিত আরব বসন্ত শুরু হওয়ার পরে থেকেই এই পরিস্থিতি প্রায় পাল্টে যেতেই শুরু করেছিল.

প্রথমে এই বৈপ্লবিক ঢেউ একটা স্পষ্ট করে দেখতে পাওয়ার মতো পশ্চিম বিরোধী দিক নিয়েছিল. পশ্চিমকেও তাদের প্রাপ্য প্রশংসা করতেই হবে – এই সব ঘটনায় তাদের প্রাথমিক দিশাহারা হয়ে যাওয়া ভাব খুবই দ্রুত মিলিয়ে গিয়েছিল. পরিবর্তনের ফলে যারা এবারে প্রশাসনের শীর্ষে উঠে বসছে, তারাও আগের “স্বৈরতান্ত্রিক” নামক শাসকদের মতই পশ্চিমের সঙ্গে নাড়ির টান অনুভব করতে পারছে. আর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিপ্লব জয়ী রাষ্ট্র গুলিতে আগের চেয়ে আরও বেশী করেই খারাপ হয়েছে. খুবই দ্রুত প্রশ্ন উদয় হয়েছে: কে এই সব কিছুতে দোষী?

আর এখানে একটা ভিত্তি আছে মনে করার যে, এই এলাকায় দোষী বলে সাব্যস্ত হবে খুবই কম ধর্ম নিরপেক্ষ প্রশাসন গুলিই. অন্য কোনও পথও দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না: নতুন প্রশাসন কোন ভাবেই দোষী হতে পারে না, পশ্চিমকেও এখন থেকে দোষ দিতে বারণ করা হবে. আর এই প্রবল নাগরিক অসন্তোষের শক্তি কোথাও একটা পাঠানোর প্রয়োজন হবে, আর তা খুব সম্ভবতঃ কম বেশী ভাল করে বেঁচে থাকা প্রতিবেশীদের দিকেই, বিশেষ করে যে সব দেশে প্রশাসন ধর্ম নিরপেক্ষ. এটাই হচ্ছে আসলে সিরিয়াতে – একেবারেই জাজ্বল্যমান প্রমাণ. কেন আমেরিকার গুপ্তচরেরা ভাবছে যে, ১৫ -২০ বছর বাদে এই সব শেষ হয়ে যাবে – এটা খুবই আগ্রহের প্রশ্ন. খুব সম্ভবতঃ, এই এলাকা এখন দীর্ঘস্থায়ী এক ভারসাম্যহীণতার সময়ে প্রবেশ করেছে”.

অন্য একটি দৃষ্টিকোণ থেকে এই আলোচনায় অংশ নিয়েছেন আমাদের আরও এক সমীক্ষক ইভগেনি এরমোলায়েভ, তিনি বলেছেন:

“মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কয়েকদিন আগে আল- কায়দা গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত সন্ত্রাসবাদীদের তালিকায় ঝেবাত আন- নুসরা নামের দলকে জোড়া হয়েছে. তারা আজ বহু দিন হল সিরিয়ার প্রশাসনের সঙ্গে যুদ্ধ করছে, যাদের বিরুদ্ধে আবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই বক্তৃতা দিয়েছে. ইন্টারেস্টিং বিষয় হল যে, সিরিয়ার সশস্ত্র বিদ্রোহী বিরোধী পক্ষ নিজেরাই স্বীকার করছে যে, ঝেবাত আন – নুসরা তাদের অন্য যে কোনও “সশস্ত্র ভাইদের” চেয়ে কোন অংশেই আলাদা করে ভাল বা খারাপ নয়. আর তাদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সব রকমেরই সাহায্য দিচ্ছে. আর এখন, যাতে পশ্চিমের থেকে সাহায্য আর আরবদের কাছ থেকে অর্থ পাওয়া বন্ধ না হয়, তাই ঝেবাত আন- নুসরা দলের নেতারা একটা কিছু বেছে নিতে বাধ্যই হবে. তারা এই গোষ্ঠীকে এখন আগে ভেঙে দিয়ে আলাদা কোন নামে আবার জড়ো করবে – এই ধরনের ঘটনা চরমপন্থার ইতিহাসে একাধিকবারই হয়েছে. তারা অন্য রকমও করতে পারে – আর কথায় শুধু পশ্চিমের সঙ্গে আপোষহীণ যোদ্ধা সেজেও থাকতে পারে, আসলে পশ্চিমের স্বার্থেই কাজ চালিয়ে যেতে পারে. সেই রকমও হয়েছে – আর এখনও হচ্ছে. আমেরিকার গুপ্তচররা এই রকমের ছাড় দিচ্ছে যে, পনেরো বিশ বছর বাদে ঝেবাত আন – নুসরা মার্কা দলের কোনও বেঁচে থাকার কারণই থাকবে না. এটা এখনই এক বছরের মধ্যেই হতে পারে, কিন্তু তা শুধু একটাই শর্তে: যদি পশ্চিম এই এলাকায় নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য চরমপন্থী ইসলাম ব্যবহার করা ছেড়ে দেয়, তাহলেই. আর যদি সবই এখনের মতই থেকে যায় – তবে আরও একশ বছর পরেও সন্ত্রাসবাদীরা এই বহু বেদনা ক্লিষ্ট এলাকাকেই ছিন্ন ভিন্ন করতে থাকবে”.