বিশ্বের বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত করেছেন বছরের দশটি প্রধান বৈজ্ঞানিক উন্নতির উদাহরণ. বাস্তবে তার প্রায় প্রত্যেকটিতেই সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছে রুশী মানুষরা. তা মঙ্গল গ্রহে মহাকাশযান কিউরিওসিটি সফল ভাবে নামানই হোক আর অথবা পরীক্ষা মূলক ভাবে সেই বহু দিন আগে সোভিয়েত পদার্থবিদ্যায় বিজ্ঞানীদের পূর্বাভাস অনুযায়ী ছায়া পথের গতির হিসাবই হোক. চলে যেতে বসা বছরে শুধু রাশিয়াতে হওয়া আবিষ্কারের সংখ্যাও কম নয়, তার ওপরে আবার সেই গুলি পদার্থবিদ্যা থেকে রসায়ন হয়ে প্রত্নতত্ত্ব বিদ্যা অবধি বিজ্ঞানের বহু শাখাতেই.

ত শতকের আগের শতকে একা কিছু আবিষ্কার করা সম্ভব হত, আধুনিক যুগে কাজ হয়ে থাকে আন্তর্জাতিক সমষ্টিতেই.

চলে যাওয়া বছরের প্রধান বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের উপরে: হিগস বর্ণিত বোসন কণার আবিষ্কারের জন্য – সেই বোধকে খুঁজে বের করার জন্য, যে কোথা থেকে একেবারেই মৌল কণার ভরের উত্পত্তি হয়ে থাকে, - কাজ করেছেন শুধু এক প্রজন্মেরই বিজ্ঞানীরা নন. প্রসঙ্গতঃ, এই কণার নামই দেওয়া হয়েছিল ভারতীয় বাঙালী বিজ্ঞানী সত্যেন বোসের নামে, যিনি প্রথম তত্ত্ব গত ভাবে এই কণার আবিষ্কারের সম্ভাবনা নিয়ে বলেছিলেন সেই বিংশ শতকের কুড়ির দশকেই. বৃহত্ হ্যাড্রন কোলাইডার, যেখানে বোসন – বা তথাকথিত ঈশ্বর কণা লক্ষ্য করতে পারার জন্য পরীক্ষা করা হচ্ছে, - তা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অনেক বৈজ্ঞানিক গোষ্ঠীর সম্মিলিত কাজেরই ফল, এই কথাই উল্লেখ করে পদার্থ ও গণিত বিদ্যায় ডক্টরেট ভ্লাদিমির ইরোখিন বলেছেন:

“হিগসের বোসন কণা ভিত্তিমূলক পারস্পরিক ক্রিয়ার সাধারণ তত্ত্বের এক অন্যতম প্রধান অংশ. আজকের দিনে সেটাকেই সকলের মেনে নেওয়া তত্ত্ব বলে ধরে নেওয়া হয়েছে. তার সিদ্ধান্তগুলিকে বহু পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ করা হয়েছে. আধুনিক বিজ্ঞান, বিশেষ করে মৌল কণার পদার্থবিদ্যা বর্তমানে একেবারেই আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান. যে কোন পরীক্ষার ফলাফলই কোন একজনের নয়, বরং অনেক দশক এমনকি শত লোকের সাফল্যের প্রমাণ হয়ে থাকে.আর এই সমস্ত বিজ্ঞানীদের মধ্যে বিশাল অবদান রাখেন রুশী লোকরা. কোন একটি দেশের শক্তিতে এই ধরনের আবিষ্কার করা সম্ভবই নয়”.

লাল গ্রহে মঙ্গল গ্রহে চলাফেরার উপযুক্ত কিউরিওসিটি একই ভাবে বহু বিজ্ঞানীর কাজের ফসল. আর সেই গ্রহে জলের আবিষ্কারও সম্ভব হয়েছে এমন যন্ত্রের জন্যই, যা রাশিয়াতে তৈরী করা হয়েছিল, তার ওপরে আবার যে ল্যাবরেটরীতে এই বিস্ময়কর যন্ত্র বানানো হয়েছিল, তা মোটেও প্রথমবার এই ধরনের বিশ্বজোড়া প্রকল্পে অংশ নিচ্ছে না. তাই বিশেষজ্ঞ ইগর লিসভ বলেছেন:

“এটা চতুর্থ যন্ত্র, যা আমরা আন্তর্গ্রহ অভিযানে পাঠিয়েছি. এই ধরনের যন্ত্র দিয়ে কক্ষ পথ থেকেই মঙ্গল গ্রহের পৃষ্ঠে বরফ লক্ষ্য করতে পারা গিয়েছে, চাঁদে জলের ভাণ্ডার দেখতে পাওয়া গিয়েছে আর এবারে একেবারে মঙ্গল গ্রহের পিঠেই অনুসন্ধান করতে পারা গিয়েছে. এই যন্ত্র দিয়ে মঙ্গলের মাটির উপরের স্তরে হাইড্রোজেন খোঁজা সম্ভব হবে”.

প্রত্নতত্ত্ববিদরাও এক পাশে দাঁড়িয়ে নেই. উত্তর ককেশাসে এক অভিযানের ফলে দাগেস্তান রাজ্যে- খুঁজে পাওয়া গিয়েছে রাশিয়ার সবচেয়ে প্রাচীন বসতির হদিস. তার বয়স প্রায় কুড়ি লক্ষ বছর. অগ্নিকুণ্ড ও বহু রকমের শ্রমের হাতিয়ার ছাড়াও পাহাড়ী এলাকায় খুঁজে পাওয়া গিয়েছে হাতি, অ্যান্টিলোপ ও জিরাফের কঙ্কালের ফসিল. কিন্তু এটা মুখ্য নয়, এই কথাই উল্লেখ করে এই অভিযানের প্রধান হিজরী আমিরখানভ বলেছেন:

“এই সব প্রত্নতাত্ত্বিক বস্তু খুঁজে পাওয়া ও তাদের চরিত্র প্রমাণ করে দেয় যে, এই এলাকায় মানুষের প্রথম আবির্ভাব হয়েছিল আজ থেকে কুড়ি লক্ষ থেকে পনেরো লক্ষ বছর আগেই, এটা সবচেয়ে প্রমাণ সম্মত ও ভরসাযোগ্য উদাহরণ যে, ইউরো এশিয়া এলাকায় মানুষের বসতি ছিল”.

বিজ্ঞান এক জায়গায় থেমে থাকে না. ২০১৩ সাল ভরসা দিয়েছে যে, নতুন আবিষ্কার নিয়ে আসবে, যা একেবারেই গোড়ার থেকে আমাদের কোন না কোন ধারণা বদলে দেবে, অথবা হতে পারে যে, একেবারে মহা বিশ্ব সম্বন্ধেই তা পাল্টে দেবে.