রাশিয়ার ক্যালেণ্ডারে – আজ ত্রাণ কর্মী দিবস. সেই সমস্ত লোকদের আজ পেশাগত উত্সবের দিন, যাঁদের পেশাকে একটুও না বাড়িয়ে বলা যেতে পারে বীরের কাজ. যেখানেই মানুষের সহায়তার প্রয়োজন, সেখানেই তাঁরা পৌঁছে যান সবার আগে: ভেঙে পড়া বাড়ীর নীচে, ঝলসানো আগুনের মাঝে, দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া গাড়ী বা বাসের ভিতরে, ডুবে যাওয়া এলাকায়. রাশিয়ার জরুরী অবস্থা মন্ত্রণালয় বা বিপর্যয় নিরসন মন্ত্রণালয়ের ত্রাণ ও উদ্ধার কর্মের ভৌগোলিক প্রসার শুধু রাশিয়াই নয়, বরং অনেক বাইরের দেশও বটে.

২০১২ সালে এই মন্ত্রণালয়ের খবর খুবই চমকে দেওয়া মতো. সাহায্য পেয়েছেন প্রায় কুড়ি লক্ষ লোক. বিভিন্ন বিপর্যয় পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে প্রায় দুই লক্ষের বেশী মানুষকে. আর প্রত্যেক রক্ষা পাওয়া প্রাণের জন্য – তাঁদের নিজেদের ভাগ্য, কাছের লোক, আত্মীয় পরিজন. বোধহয়, এটাই সবচেয়ে বড় সাফল্য এই মন্ত্রণালয়ের মানুষদের জন্য, এই কথাই উল্লেখ করে এই উত্সব উপলক্ষে মন্ত্রণালয়ের প্রধান ভ্লাদিমির পুচকভ বলেছেন:

“এই বছর ছিল খুবই জটিল ও উত্তেজনা পূর্ণ. দেশের ক্রাসনাদার রাজ্যে, সাইবেরিয়ায়, সুদূর প্রাচ্যে পরিত্রাণের কাজ করা হয়েছে বড় সমস্ত বিপর্যয়ের পরিস্থিতিতে. নেভানো হয়েছে প্রায় এক লক্ষ চল্লিশ হাজার অগ্নিকাণ্ড. আড়াই হাজার দুর্ঘটনা পরিস্থিতির সামাল দেওয়া হয়েছে. মহান পিতৃভূমি রক্ষার যুদ্ধের সময়ের চল্লিশ হাজারেরও বেশী বোমা ও গোলা থেকে ক্ষতির সম্ভাবনা কমানো গিয়েছে. শেষ হয়ে আসা বছরে অনেক ভাল ও জনহিতকর কাজ করা সম্ভব হয়েছে”.

বিশ্বের ৪৯টি দেশের পক্ষ থেকে রাশিয়ার ত্রাণ কর্মীদের সহায়তা চাওয়া হয়েছিল. অনেক কাজই করা হয়েছে দ্বিপাক্ষিক ও বহু পাক্ষিক অংশ গ্রহণের মাধ্যমে. তাদের মধ্যে পাকিস্তানের প্রবল বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ত্রাণের কাজ. তারই সঙ্গে স্যাণ্ডি ঘূর্ণিঝড়ের পরে উদ্ধার ও সাহায্যের কাজ আর রাশিয়া- সের্বিয়ার ত্রাণ কেন্দ্রের উদ্বোধন, এই সব খবর দিয়ে রাশিয়ার বিপর্যয় নিরসন মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক ক্রিয়া কর্ম বিভাগের প্রধান ভালেরি শুইকভ বলেছেন:

“গরম কালে এই কেন্দ্রের বিভিন্ন রকমের বিপর্যয় ঘটার মতো ক্ষেত্রে কাজকর্মের সম্ভাবনার বিষয়ে প্রদর্শনী করা হয়েছিল. এই বছরে আমরা পাঁচ বছর ধরে সের্বিয়ার মাইন উদ্ধারের কাজ শেষ অবধি করতে পেরেছি. সেখানে দাবানল হতে পারার মতো সময়ে কাজ করেছে আমাদের বিমান পরিষেবা ও স্থল বিভাগের কর্মীদের দল. তাছাড়া কিউবা ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্যাণ্ডি ঘূর্ণিঝড়ের পরে ত্রাণের কাজে আমরা সহায়তা করেছি. আমাদের জন্য খুবই প্রদর্শন যোগ্য কাজ হয়েছে, কারণ সাধারণতঃ এই রাষ্ট্র গুলি সহায়তা নেয় না. কিন্তু এই ক্ষেত্রে আমাদের যোগাযোগ ও বিপর্যয় নিরসন দপ্তর গুলির মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সুসম্পর্ক নিজেদের ভূমিকাই পালন করেছে. আর আমরা এই জনহিতকর মিশন সম্পূর্ণ না করে পারি নি”.

এই বছরে রাষ্ট্রসঙ্ঘের তরফ থেকে রাশিয়ার উদ্যোগকে সমর্থন করা হয়েছে, যারা ভ্লাদিভস্তকে অনুষ্ঠিত এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংক্রান্ত শীর্ষবৈঠকের কাঠামোর মধ্যে বিভিন্ন দেশের বিপর্যয় নিরসন মন্ত্রণালয় গুলির মন্ত্রী পর্যায়ে এক সম্মিলিত প্রস্তাব মনে নিয়েছে. এই এলাকায় বাস্তবে বিপর্যয় নিরসন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এই ধরনের কেন্দ্রের এক নেটওয়ার্ক তৈরী করে ফেলবে. ২০১৩ সালের পরিকল্পনাতে - বিশ্বের এক সবচেয়ে দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল বিমান পরিবাহিত ত্রাণ কর্মী গোষ্ঠী তৈরী করার কাজ রয়েছে. আর তাও ভবিষ্যতের কাজে জোর দেওয়া হয়েছে বিপর্যয় এড়ানোর জন্য কাজকর্ম, অগ্রিম পূর্বাভাস দেওয়া ও ঝুঁকি কমানোর চেষ্টাই করা. এই রকমই মনে করেছেন রাশিয়ার বিপর্যয় নিরসন মন্ত্রণালয়ের প্রধানরা.