ভারতের ভারচ্যুয়াল সুপারহিরো বলরাম ভাই – যে ভারতবর্ষে যক্ষ্মারোগের বিরূদ্ধে প্রচারকান্ডে মুখ্য নায়ক – তার এবার সাহায্য জুটতে পারে. রাশিয়ার সাইবেরিয়াস্থিত ইর্কুত্স্ক শহরে বিজ্ঞানীরা যক্ষ্মারোগের নিরাময়ের জন্য নতুন ওষুধ খুঁজে বার করেছেন. ওষুধটির নাম দেওয়া হয়েছে – ‘পারক্লোজোন’.

ইর্কুত্স্কের বিজ্ঞানীরা ২৫ বছর ধরে এমন একটা মলিক্যুলের সন্ধান করেছেন, যা যক্ষ্মারোগ সারাতে পারবে. কেমিস্টরা একশোরও বেশি ওষুধের ফর্মুলা উদ্ভাবন করেছিলেন. কিন্তু কাজে লেগেছে শুধু একটা. তার ভিত্তিতেই ওষুধ উত্পাদক কোম্পানি ‘পারক্লোজোন’ তৈরি করেছে. এ প্রসঙ্গে বলছেন ইর্কুত্স্ক কেমিক্যাল ইনস্টিটিউটের উপাধ্যক্ষ ভালেরি স্তানকেভিচ. ---

“যক্ষ্মা – মানবজাতির জন্য সর্বনাশা. এখন যে সব ওষুধ উত্পাদন করা হয়, সেসবই সেকেলে হয়ে গেছে ও লোকে বহুকাল আগে উদ্ভাবিত ওষুধ খেয়ে প্রাণ হারায়. যদি আমাদের নতুন ওষুধ মানুষের জীবন রক্ষা করে, তবে সেটা হবে এক বড় প্রাপ্তি”.

ভারতে যক্ষ্মা এখনো জীবনের পক্ষে সবচেয়ে বিপজ্জনক ব্যাধিগুলোর অন্যতম. প্রতিবছর সেখানে ২০ লক্ষ্ মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হয়, আর পৃথিবীর প্রতি পাঁচজনের একজন যক্ষ্মা ব্যাধিগ্রস্ত হল ভারতবাসী.

আর হ্যাঁ, উন্নত দেশগুলিতেও ক্রমশঃই বেশি লোক যক্ষ্মায় আক্রান্ত হচ্ছে. ব্যাপারটা হল এই, যে অ্যান্টি-ভাইরাস ও সাইকোট্রপিক ওষুধ গ্রহণ তাদের শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়.

প্রতি বছরে বিশ্বে গড়ে ১০-১২টা নতুন ওষুধ বার করা হয়. তাই বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক চিকিত্সাক্ষেত্রে ‘পারক্লোজোন’ – একটা বিশাল সাফল্য. এ প্রসঙ্গে বলছেন ‘ফার্মাসিন্থেজ’ নামক কোম্পানির সায়েন্স ডিরেক্টর আলেক্সান্দর গুশিন. ----

“ক্লিনিক্যাল এক্সপেরিমেন্ট সম্পন্ন করা হয়েছে তিন পর্যায়ে রাশিয়ার আলাদা আলাদা পরীক্ষাগারে. ওষুধটার কার্যকারিতা গত অগাস্ট মাসে স্বীকৃতি পেয়েছে আর নভেম্বরে পাওয়া গেছে নথিভুক্তিকরনের সার্টিফিকেট”.

আজকের দিনে ‘পারক্লোজোন’ – যক্ষ্মারোগের চিকিত্সায় নতুন পদক্ষেপ. এই ওষুধটির বৈশিষ্ট্য হল - সে শুধু সংক্রামক কোখ ব্যাকটেরিয়াকে খতম করে, উপযোগী অন্য কোনো ব্যাকটেরিয়ার সংস্পর্শে আসে না. ক্লিনিক্যাল এক্সপেরিমেন্টের ফলাফল অনুযায়ী যক্ষ্মারোগ বহনকারী ব্যাকটেরিয়ার বিরূদ্ধে সংগ্রামে ‘পারক্লোজোন’ বহুব্যবহৃত ওষুধগুলির তুলনায় পাঁচশো গুন বেশি সক্রিয়. সামনের বছরের শুরুতেই ‘পারক্লোজোন’ পাওয়া যাবে রাশিয়ার হাসপাতাল ও ওষুধের দোকানগুলিতে.