রাশিয়ার সুমেরু বৃত্তের কাছে সমুদ্র উপকূলে খনিজ আহরণের কাজে ভারত নিজেদের আগ্রহকে আবার করে সমর্থন করে বলেছে. এই বিষয়ে বলা হয়েছে ভ্লাদিমির পুতিনের দিল্লী সফরের পরে প্রকাশিত এক সম্মিলিত বিজ্ঞপ্তিতে. বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

এখানে কথা হচ্ছে ভারতের খনিজ তেল ও গ্যাস কর্পোরেশনের অধীনস্থ কোম্পানী ওএনজিসি ভিদেশ লিমিটেডের সাইবেরিয়া এলাকার সেই ধরনের প্রকল্পে যোগদান নিয়ে, যা রাশিয়ার সুদূর প্রাচ্যে ও সুমেরু বৃত্তের এলাকায় রয়েছে. এই ভারতীয় কোম্পানী সাখালিন- ১ প্রকল্পে শতকরা কুড়ি ভাগের অধিকারী ও ইম্পিরিয়াল এনার্জ্জী গ্রুপের সঙ্গে জড়িত, যা তারা ২০০৯ সালের জানুয়ারী মাসে কিনেছে. ইম্পিরিয়াল এনার্জ্জী কোম্পানীর প্রধান কাজকর্ম হচ্ছে তোমস্ক রাজ্যে, যেখানে এই গোষ্ঠী নৃতাত্ত্বিক অনুসন্ধান ও খনিজ তেল উত্পাদনের কাজে নিরত হয়েছে.

ভারতের এই কোম্পনী চেয়েছে কোন একটি যৌথ প্রকল্পের সাথে যুক্ত হতে, যা রাশিয়ার রসনেফ্ত কোম্পানী বিদেশী বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সুমেরু অঞ্চলে খনিজ তেল গ্যাস আহরণের জন্য করছে. ভারতের টাইমস অফ ইন্ডিয়া সংবাদপত্রের তথ্য অনুযায়ী নিজেদের ইচ্ছা নিয়ে প্রথম বারে নিজেদের এই রকমের বিদেশী কোম্পানীদের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে করা প্রকল্পের তিনটি উপকূল এলাকার প্রকল্পে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল এই বছরের মে মাসে. নভেম্বর মাসে রসনেফ্ত কোম্পানী ভারতের এই কোম্পানীকে প্রস্তাব করেছে অখোতস্ক সাগর তীরের মাগাদান – ২ ও মাগাদান – ৩ ব্লকের অনুসন্ধানের কাজে যোগ দিতে.

রাশিয়ার এই বিষয়ে কোন আপত্তি নেই. বরং উল্টো, রাশিয়া ও ভারতের বৃহত্ গ্যাস ও খনিজ তেল কোম্পানী গুলিকে সুমেরু এলাকার উপকূলে ও রাশিয়ার অন্যান্য উত্তরাঞ্চলে একত্রে কাজ করা নিয়ে দিল্লী শীর্ষ সম্মেলনে জ্বালানী বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণতম দিক বলেই উল্লেখ করা হয়েছে.

এটা রাশিয়া ও ভারতের খনিজ তেল ও গ্যাস কোম্পানী গুলির সম্পর্কের উন্নতিতে অবশ্যই নতুন অধ্যায়, এই রকম মনে করে মস্কোর জ্বালানী ও বিনিয়োগ ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর ভ্লাদিমির ফেইগিন মনে করেন যে, এটা এমন এক অধ্যায়, যা ভারতকে তাদের খনিজ তেল ও গ্যাসের সমস্যা সমাধানে সাহায্য করতে পারে, তাই তিনি বলেছেন:

“ভারতের কোম্পানীগুলি রাশিয়াতে খনিজ তেল ও গ্যাস উত্তোলনের বিষয়ে অংশ নেওয়াতে নিজেদের আগ্রহের কথা বহুদিন ধরেই জানিয়েছে, অর্থাত্ এই বিষয়ে বিনিয়োগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে. কিছু প্রকল্পে, তারা ইতিমধ্যেই অংশ নিচ্ছেন, যেমন, সাখালিন- ১ প্রকল্পে. যদি ভারতে বড় মাপের সরবরাহের কথা বলতে হয়, তবে আমরা রাশিয়ার খনিজ তেল ও গ্যাস প্রকল্পে তাদের বিনিয়োগকেও স্বাগত জানাবো, ভারতের অংশগ্রহণ রাশিয়ার নির্দিষ্ট এলাকার সম্পদেও স্বাগতম”.

ওএনজিসি মনে তো হয় না যে, এখন কোনও যৌথ প্রকল্পে অংশ নিতে পারবে, যা ইতিমধ্যেই তৈরী হয়ে গিয়েছে, কারণ “এটা রসনেফ্ত সংস্থার বিদেশী সহকর্মীদের সঙ্গে নানা রকমের বিরোধের পরিস্থিতি তৈরী করতে পারে”, বলে মনে করেছেন ভ্লাদিমির ফেইগিন. কিন্তু এই ভারতীয় কোম্পানীর অংশগ্রহণ, যে সমস্ত প্রকল্প এখনও হয় নি, তাতে খুবই বেশী.

ভারতের পক্ষ থেকে রাশিয়াতে সম্ভাব্য খনিজ গ্যাসকে তরলীকরণ প্রকল্পে শেয়ার কেনার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে ও ভারতে এই সরবরাহ করার কথা হয়েছে. এই বছরের আগষ্ট মাসে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছিল যে, ভারতীয় এক গুচ্ছ খনিজ তেল ও গ্যাস কোম্পানী রাশিয়ার “ইয়ামাল” খনিজ গ্যাস তরলীকরণ প্রকল্পে শতকরা ১৫ ভাগ কিনতে চেয়েছে. তাছাড়া, গত বছরে গাজপ্রম মার্কেটিং ও ট্রেডিং সিঙ্গাপুর কোম্পানী ভারতে বছরে ৭৫ লক্ষ টন তরল গ্যাস সরবরাহের উদ্দেশ্যে ভারতেরই গেইল, গুজরাট স্টেট পেট্রোলিয়াম কোম্পানী ও পেট্রোনেট এলএনজি লিমিটেডের সঙ্গে ইচ্ছা সমঝোতায় স্বাক্ষর করেছে.