২০১২ সালে রাশিয়া এক রাজনৈতিক সংশোধনের প্রতীকী বছর পার হয়েছে, যা শুরু হয়েছিল দিমিত্রি মেদভেদেভের উদ্যোগে তাঁর রাষ্ট্রপতিত্বের মেয়াদের শেষ দিকে. বাস্তবে পরিবর্তনের সত্যিকারের বিস্তার ও তার রূপায়নের আকৃতি দিয়েছেন দেশে মার্চ মাসে রাষ্ট্রপতি হিসাবে নির্বাচিত ভ্লাদিমির পুতিন. অনেক রকমের পারস্পরিক ভাবে সংযুক্ত ব্যবস্থা, যা দেশের রাজনৈতিক কাঠামোরই পরিবর্তনে সহায়তা করতে পারে, তাকে আরও বেশী গণতান্ত্রিক ও উন্মুক্ত করতে পারে, তা নেওয়ার ফলে সমাজে লক্ষ্যণীয় রকমের পরিবর্তন এসেছে. অন্য দিক থেকে বিরোধী সক্রিয়তা, যা আজ এক বছর আগে দেশের পার্লামেন্ট নির্বাচনের পরে দেখা গিয়েছিল, তা খুবই দ্রুত কমে এসেছে.

যেমন মেদভেদেভ প্রস্তাব করেছিলেন রাজ্যপাল নির্বাচন করার ব্যবস্থায় ফিরে আসার. অক্টোবর মাসে ইতিমধ্যেই গত আট বছরের মধ্যে প্রথমবার রাজ্যপাল নির্বাচন হয়ে গিয়েছে. দেশে রাজনৈতিক দল নথিভুক্ত করার কাজ সহজ করা হয়েছে, যাতে আর বহু সহস্র মানুষের স্বাক্ষর সংগ্রহ করতে হচ্ছে না. এর ফলে রাশিয়াতে বেশ কিছু নতুন রাজনৈতিক দলের সৃষ্টি হয়েছে. তারই সঙ্গে দিমিত্রি মেদভেদেভ আহ্বান করেছেন দেশে পার্লামেন্ট নির্বাচনের ব্যবস্থা বদলের উদ্যোগ নিয়ে ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য প্রার্থী হওয়ার ব্যবস্থা সহজ করার. যেমন, অনেক সংখ্যক স্বাক্ষরের প্রয়োজন হবে, এই বার থেকে দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য.

১২ই ডিসেম্বরে দেশের জাতীয় সভার প্রতি ভাষণে বর্তমানের রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন খুবই স্পষ্ট ভাষায় তাঁর এই দেশের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা সম্বন্ধে ধারণার কথা বলেছেন. এই দেশের গণতন্ত্র ছাড়া অন্য কোনও পথই নেই, এই কথাই জোর দিয়ে বলে তিনি যোগ করেছেন:

“আমরা সর্বজনীন গণতান্ত্রিক নীতিই মেনে চলি. কিন্তু রাশিয়ার গণতন্ত্র – এটা রাশিয়ার জনগনেরই ক্ষমতা. দেশে ক্ষমতাসীন দলের পরিবর্তন হবে, সরকারের পরিবর্তন হবে, রাষ্ট্রপতিরও হবে, - কিন্তু তা যেন দেশের ভিত্তি ও সমাজের ভিত্তিকে স্পর্শ না করে, দেশের বিকাশের ক্ষেত্রে পরম্পরা যেন ব্যাহত না হয়, দেশের সার্বভৌমত্ব ও দেশের জনগনের অধিকার ও স্বাধীনতা যেন খর্ব না হয়. গণতন্ত্র – এটা শুধু প্রশাসন নির্বাচন করার অধিকারই নয়, এটা নিয়মিত ভাবে সেই প্রশাসনকে নিয়ন্ত্রণের অধিকারও”.

সামাজিক উদ্যোগ পরিষদের প্রধান ও দেশের প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী আলেক্সেই কুদরিন উল্লেখ করেছেন যে, দেশে সংশোধন সময়মতোই শুরু হয়েছে, তিনি বলেছেন:

“রাজনৈতিক পরিবর্তন সমাজের দাবী হয়েছে ও দেশের সফল বিকাশের জন্যই তার প্রয়োজন রয়েছে. বিরোধী সক্রিয়তা কম হওয়ার জন্য এমন একটা ধারণা হতে পারে যে, আমরা আবার বুঝি এক রাজনৈতিক নৈঃশব্দের সময়ে পৌঁছে যাচ্ছি. কিন্তু আমি মনে করি যে, এই ধারণা খুবই ভ্রান্ত. বরং উল্টো, বছরের প্রধান ফলাফল হয়েছে সমাজের বিকাশে আধুনিকীকরণের দিকেই সম্পূর্ণ রকমের দিক পরিবর্তন, তার মধ্যে প্রশাসনের নবীকরণ রয়েছে, যা কোন সন্দেহই নেই যে, হতেই থাকবে, আর আমি যেমন বলেছি, তৈরী হবে আধুনিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা”.

এরই মধ্যে বিরোধী পক্ষ ঠিক করেছে তাদের লড়াই চালিয়ে যাবে ও তারা অনেকখানি সন্দেহের চোখেই দেশের রাজনৈতিক সংশোধনের দিকে দেখছেন. বিরোধী পক্ষের এক নেতা ও রাশিয়ার এক প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মিখাইল কাসিয়ানভ, যিনি একই সঙ্গে জাতীয় স্বাধীনতা দলের (পারনাস) সহ সভাপতিও, তিনি বলেছেন:

“সংশোধন বা কাঠামো পরিবর্তনকে করা দরকার বাস্তব সম্মত, কোন ভাব দেখানো নয়. এর অর্থ হল যে, রাজনৈতিক দল গুলির সত্যিকারের কাজকর্ম, সত্যিকারের নির্বাচন রাজ্যপাল, পার্লামেন্ট ও রাষ্ট্রপতির ক্ষেত্রে. বিরোধ চলতেই থাকবে. সমস্ত গণতান্ত্রিক শক্তিরাই একত্রিত হবে, সৃষ্টি হবে তাদের জোটও. আমরা পার্লামেন্ট নির্বাচন সময়ের আগেই দাবী করব”.

বহু সংখ্যক সামাজিক পরিসংখ্যান ইতিমধ্যেই দেখিয়েছে যে, রাশিয়ার লোকরা এই নিয়মিত বিরোধ সমাবেশ থেকে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে. বিশেষজ্ঞরা এটাকে সেই বিষয়ের সঙ্গে জুড়ে দিয়েছেন যে, বিরোধী পক্ষের নেতারা তাদের স্বপক্ষের লোকদের কাছে কোনও স্পষ্ট পরিকল্পনাই দেখাতে পারেন নি, আর প্রধানতঃ বর্তমানের প্রশাসনের সমালোচনা নিয়েই ব্যস্ত থেকেছেন. তাছাড়া, সবার উপরে রয়েছে বাস্তব নিয়ে মানুষের হিসাবী চিন্তা – কেউই এই দেশে আর বিপ্লব চায় না. আর এখানে উত্তরদাতাদের মতের সঙ্গে ভ্লাদিমির পুতিনের মতও মিলেছে, যিনি ডিসেম্বরেই বলেছেন:

“আমাদের যথেষ্ট পরিমানে বিপ্লব হয়েছে. তার ওপরে আমরা দেখতেই পাচ্ছি যে অন্যান্য দেশে কি হচ্ছে: সেই সমস্ত দেশের সঙ্গে, যেখানে মৃদু উপায়ে পরিবর্তন হয়েছে, আর সেই সব দেশেও, যেখানে বিপ্লব হয়েছে. দেশের সমাজ ও অর্থনীতি ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ধ্বংস ও মানুষের মৃত্যু. আমাদের দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনসাধারনই এই বিষয়ে উদ্বেগ বোধ করেন”.

এই পরিস্থিতিতে সরকার দেখিয়ে দিচ্ছে যে, তারা নিজেদের স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের বিকাশের জন্য কাজে প্রস্তুত. যদিও এটাই তাদের বিরোধীদের সমালোচনার কারণ হয়েছে, যারা সব সময়ের মতো, এবারেও বলেছেন যে, ক্রেমলিন এটা করছে স্রেফ অভিনয়ের মতো. তা স্বত্ত্বেও, নতুন রাজনৈতিক দলের উদ্ভব, বিভিন্ন স্তরে নির্বাচনের ক্ষেত্রে আধুনিকীকরণ ইত্যাদিকে বহু বিশেষজ্ঞই মনে করেছেন বাস্তবিক ভাবেই দেশের রাজনৈতিক পটভূমি পরিবর্তন ও গণতান্ত্রিক বিকাশের জন্য কার্যকরী ভাবেই হয়েছে.