রাশিয়ার বড় বিমান কোম্পানীরা নতুন প্রযুক্তি কিনছে, যা দিয়ে বিমানের ইঞ্জিনে পাখী ঢুকে পড়া আটকানো যায়. এটা মস্কোর রাষ্ট্রীয় অসামরিক বিমান প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটে আবিস্কার করা হয়েছে.

মনে করা হয় যে, প্রথম বিমান দূর্ঘটনা, যা পাখীর সঙ্গে বিমানের ধাক্কায় হয়েছিল, তা ঘটেছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১৯১২ সালে. তখন এক পরীক্ষা মূলক উড়ানের সময়ে বিমানে একটা গাঙচিল এসে পড়েছিল, ফলে সেই বিমান মাটিতে পড়ে ভেঙে যায়. এর পরে থেকে প্রত্যেক দেশে, যারাই নিজেদের বিমান নির্মাণের ক্ষেত্রে নেতৃস্থানীয় মনে করতে চেয়েছে, তাদেরই এই ধরনের পরিস্থিতির সামনে পড়তে হয়েছে. তার মধ্যে রাশিয়াও রয়েছে.

যতদিন বিমান চলাচল এত বেশী করে ছিল না ও বিমানের গতিবেগও কম ছিল, তখন পাইলটরা সফল ভাবেই পাখীর সাথে ধাক্কা লাগানো এড়াতে পারতেন. কিন্তু বিমান পরিবহনের বিকাশের সাথে সাথেই এই ধরনের পরিস্থিতি বাস্তব উদ্বেগের কারণ হয়েছে. আন্তর্জাতিক অসামরিক বিমান পরিবহন সংস্থা প্রতিবছরে প্রায় ৫৪০০ বিমান দূর্ঘটনার কথা নথিভুক্ত করে, যার কারণ সেই ডানাওয়ালা জীবই. আর বিমান কোম্পানী গুলির এই কারণে ক্ষতির পরিমান বছরে একশো কোটি ডলার ছাড়িয়ে যায়. তার মধ্যে এই প্রসঙ্গ তোলাই হচ্ছে না যে, বিমানের ইঞ্জিনে পাখী পড়ার কারণে মানুষের মৃত্যুও হয়ে থাকে.

রাশিয়ার ইউরোপীয় এলাকার উপর দিয়ে পাখীদের উড়ে যাওয়ার প্রধান দিক হল হেমন্তে উত্তর পূর্ব থেকে দক্ষিণ পশ্চিমে আর বসন্তে – দক্ষিণ পশ্চিম থেকে উত্তর পূর্বে, ওড়ার উচ্চতা পাঁচশো থেকে তিন হাজার মিটারের মধ্যে. এই প্রসঙ্গে সবচেয়ে বিপজ্জনক হচ্ছে পাখীদের হেমন্তের উড়ে যাওয়া, কারণ তা খুবই বেশী সংখ্যায় ও খুবই ঘন ঘন. তারই সঙ্গে বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়ার বড় শহর গুলিতে বুনো পাখীদের সংখ্যা গ্রাম্য এলাকার চেয়ে ১০ থেকে ১৪ গুণ বেশী.

এই সব পাখীদের আচার আচরণ দেখার জন্য রাশিয়ার বিমান বন্দর গুলিতে বিশেষ পক্ষী বিশারদদের গোষ্ঠী থাকে. তাদের কর্মীরা বিমান ওঠা নামার রানওয়েতে পাখীদের ভয় দেখানোর জন্য আধুনিক সব ব্যবস্থা লাগিয়ে থাকেন. আর সেই ধরনের ব্যবস্থাও রয়েছে অনেক. এটা যেমন অস্ত্র, রকেট ছোঁড়ার বন্দুক, জাল, আয়না লাগানো বল ইত্যাদি. এখন রাশিয়ার বিমান বন্দর গুলিতে বেশী করেই শব্দ তরঙ্গে কাজ করা মাধ্যম ব্যবহার করা হয়ে থাকে: যেগুলি পাখীদের বিপদের সময়ে ডাক প্রতিধ্বনী করে. তাছাড়া বিমান বন্দরের এলাকা থেকে ইঁদুর জাতীয় প্রাণীদের তাড়ানো হয়, যা আবার শিকারী পাখীদের লোভের কারণ. কিন্তু এই সব পদ্ধতিই যথেষ্ট নয়. প্রতি বছরে বিমানের সঙ্গে বেশ কিছু পাখী ধাক্কা লাগার ঘটনা রাশিয়াতেই ঘটে থাকে.

মস্কোর বিজ্ঞানীরা ডানাওয়ালাদের সাথে লড়াইয়ের জন্য নতুন পদ্ধতি আবিস্কার করেছেন. তার কাজ হল পাখীদের মস্তিষ্কে তড়িত্ চৌম্বকীয় ভাবে প্রভাব বিস্তার করা. পাখীদের থাকার জায়গায় তড়িত্ চৌম্বকীয় তরঙ্গের প্রভাব বিস্তার করা হলে, তা এই আবিস্কারের পিছনে থাকা বিজ্ঞানীদের মতে, পাখীদের অন্ধ করে সাময়িক ভাবে ও আতঙ্কিত করে তোলে. আর পাখীদের জন্য সবচেয়ে খারাপ ও লড়াইয়ের সেরা অস্ত্র হল – সেই তড়িত্ চৌম্বকীয় তরঙ্গ, যার তরঙ্গ দৈর্ঘ্য জৈব আচ্ছাদন ভেদ করে যেতে পারে. এই পদ্ধতি প্রাণীদের শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে. তারা প্রথমে শরীর খারাপ বোধ করে, তারপরে ব্যাথা বোধ করে, যা তাদের বাধ্য করে উড়ে যেতে ও আর কখনও এই জায়গায় ফিরে না আসতে. এই ধরনের তরঙ্গ কাজ করতে পারে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে. একই সঙ্গে আবিস্কারকরা এখন দেখছেন এই যন্ত্রের স্থায়ী ও চলমান ধরণ কি করে তৈরী করা যায়.