রাশিয়ার পক্ষ থেকে “বড় কুড়িটি” দেশের জোটের সভাপতিত্বের সময়ে বিশ্বের আর্থিক ব্যবস্থার কাঠামো পাল্টানোর কাজই হবে মূল উদ্দেশ্য. এই সম্বন্ধে “রেডিও রাশিয়াকে” বলেছেন “বড় কুড়ি” দেশের বিষয়ে রাশিয়ার অর্থ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে কাজকর্মের প্রধান ভারপ্রাপ্ত সের্গেই স্তরচাক.

২০১৩ সালের সমস্ত সময় ধরেই রাশিয়া অর্থনৈতিক ভাবে “বড় কুড়িটি” দেশের জোটের সভাপতিত্ব করবে. এক সময়ে এই ক্লাবের সৃষ্টি হওয়াটা ছিল বিশ্ব অর্থনীতির বিশ্বায়নেরই ফল. নব্বইয়ের দশকের শেষে দেখাই যাচ্ছিল: অর্থনীতি গুলির মধ্যে একে অপরের উপরে নির্ভরতা এতটাই বেশী যে, সেই সমস্ত সিদ্ধান্ত, যা আলাদা কোন আইনের সীমানার মধ্যে নেওয়া হচ্ছিল, তা অন্যান্য অর্থনীতির বিকাশের গতি প্রকৃতির উপরে প্রভাব বিস্তার না করে পারেই না. এই সমস্ত প্রক্রিয়া গুলিকে যোগাযোগের মাধ্যমে করার জন্যই সৃষ্টি হয়েছিল “বড় কুড়ি” অর্থনৈতিক ভাবে উন্নত দেশের জোট, যেখানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতি যুক্ত হয়েছে, এই কথা উল্লেখ করে সের্গেই স্তরচাক বলেছেন:

“এটা সৃষ্টি হয়েছিল স্বাভাবিক ভাবেই সেই দিকে, যা সব চেয়ে বেশী করে বিশ্বের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের বিষয়ে প্রতিক্রিয়াশীল, বিনিয়োগ ক্ষেত্রে. এখান থেকেই “বড় কুড়ির” উদ্ভব. প্রথমে এটা ছিল অর্থ মন্ত্রী ও দেশ গুলির জাতীয় ব্যাঙ্কের প্রধানদের ক্লাব.

“জি – ২০” সৃষ্টির প্রথম দিকের বছর গুলিতে এটা ছিল সেই দেশ গুলির অর্থ মন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় সঞ্চয় ব্যাঙ্কের প্রধানদের মতামত বিনিময়ে জায়গা. কিন্তু পরে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে, যখন দ্বিতীয় সহস্রাব্দের প্রথম দশকের দ্বিতীয়ার্ধে বিশ্বে আর্থিক সঙ্কটের উদ্ভব হয়েছিল. তখন এই কুড়িটি দেশের ব্যবস্থাকে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন রাজনীতিবিদরা. তাই পেশাদার আর্থিক বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের ক্লাব থেকে “জি – ২০” পরিণত হয়েছিল রাষ্ট্রপ্রধানদের ক্লাবে. এই সিদ্ধান্ত দেখা গিয়েছে সঠিক বলেই প্রমাণিত হতে – সঙ্কটের সবচেয়ে নীচু স্তর পার হওয়া সম্ভব হয়েছে যথেষ্ট দ্রুত ভাবেই, এই কথাই মনে করিয়ে দিয়ে সের্গেই স্তরচাক বলেছেন:

“আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সত্যিকারের সংশোধন শুরু হয়েছিল. এমন সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল যে, সেই গুলি সেই সমস্ত সমস্যার সমাধান করতে পারে, যা বিশ্বের আর্থিক সঙ্কটকে নিজের পিছনে টেনে এনেছিল. এই সমস্যা গুলি ছিল বাজার অর্থনীতিকে বিনিয়োগের বিষয়ে নিয়ন্ত্রণ সম্বন্ধে, যা সারা বিশ্ব জুড়েই তৈরী হয়েছিল. আলাদা করে কাঠামো তৈরী করতে হয়েছে “অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা সভার”, সঠিক ভাবে বললে, “অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সম্বন্ধে আলোচনা মঞ্চের”, যা “জি – ২০”র পাশাপাশিই ছিল. সেটাই পরিণত হয়েছে বর্তমানে “অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা সভা” হিসাবে.

রাশিয়ার সভাপতিত্বে “জি – ২০” দেশ গুলি বিশ্ব বিনিয়োগ স্থাপত্যের কাঠামো বদলাবে. বিশ্বের বিনিয়োগ ব্যবস্থার মূল ভিত্তি আগের মতই থাকবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ও সঞ্চয়ের বিনিময় মুদ্রা গুলি, ডলার ও ইউরো. কিন্তু বিশ্বের বিনিয়োগ ব্যবস্থার ধরণ বদলানোর দরকার রয়েছে, তাই সের্গেই স্তরচাক বলেছেন:

“এখানে প্রাথমিক ভাবে কথা হচ্ছে সেই বিষয় নিয়ে যে, যাতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলে ভোট প্রয়োগের তুলনামূলক ক্ষমতায় শিল্পোন্নত দেশ গুলির সঙ্গে সেই সমস্ত উন্নতিশীল বা উন্নয়নশীল অর্থনৈতিক বাজারের দেশ গুলির একটা হিসাবের ক্ষেত্রে পরিবর্তন ঘটে. এই প্রক্রিয়া খুবই কঠিন. এখানে উন্নত দেশ গুলির কাছ থেকে উন্নতিশীল দেশ গুলিকে কোটা ভাগ করে দেওয়ার কথা হচ্ছে. আমাদের সভাপতিত্বের বছরে দুটি ব্যবস্থাগত কাজ সমাধান করতে হবে. প্রথম – সকলের সঙ্গে সহমতে এসে একটা সমাধান নির্ধারণ করতে হবে, যে, কি করে এই কোটা ভাগ করার সম্বন্ধে হিসাব করতে হবে. আর দ্বিতীয়তঃ, - এই ধরনের কোটা দেওয়ার নীতিকেই আবার করে বিচার করে দেখতে হবে, যাতে এই দুটি সিদ্ধান্তকে তৃতীয় সিদ্ধান্তের সঙ্গে জোড়া দেওয়া যায়, আর তা হল – এই দুটি কোটার পরিমান বা অর্থের পরিমানকেই বাড়াতে হবে, যা সদস্য দেশ গুলি নিজেদের পক্ষ থেকে চাঁদা হিসাবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের কাছে তুলে দেবে”.

“জি – ২০” বিশ্বের ১৯টি বৃহত্তম অর্থনীতি ও ইউরোপীয় সঙ্ঘকে যুক্ত করেছে. সব মিলিয়ে এই দেশ গুলি বিশ্বের সমগ্র বাত্সরিক জাতীয় উত্পাদনের শতকরা ৯০ ভাগ করে থাকে ও বিশ্ব বাণিজ্যের শতকরা ৮০ ভাগই করে. রাশিয়া এই জোটের সভাপতিত্ব করতে চলেছে ২০১৩ সালের ডিসেম্বর মাস অবধি.