মস্কোর স্কোলকভা উদ্ভাবনী কেন্দ্রে যুব সম্মেলন হয়ে গেল. সেখানে সমবেত হয়েছিল শয়ে শয়ে তরুন বিজ্ঞানী. তারা এমন সবচিন্তাধারা পেশ করেছে, তা দুনিয়ার খোলনলচে বদলে দিতে না পারলেও বহু মানুষের প্রাণ বাঁচাতে পারবে.

যেমন, সোচি শহরের ছাত্ররা সম্মেলনে এমন যন্ত্র দেখিয়েছে, যা ১০ মিনিটের মধ্যে একফোঁটা রক্ত পরীক্ষা করে সব রকমের ক্যান্সার যেকোনো পর্যায়ে আবিস্কার করতে পারে. অথবা যেমন, মস্কোর পদার্থবিদ-ইঞ্জিনীয়াররা এমন যন্ত্রের উদ্ভাবন করেছে, যা হার্ট আ্যাটাক হওয়ার সঠিক দিনক্ষণ জানাতে সক্ষম.

বিশ্বে সময়মতো চিকিত্সা না হওয়ার কারনে প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন হৃদরোগাক্রান্ত রোগী মারা যায়. তদুপরি ৩০ বছর বয়সের আশেপাশে. ভারতের সবচেয়ে শ্রদ্ধেয় শল্য চিকিত্সকের মর্যাদাধারী ডঃ মুকেশ হরিয়াওয়ালা মনে করেন, যে তিন বছর পরে ভারত পৃথিবীতে হৃদরোগের সংখ্যার ক্ষেত্রে প্রথম স্থানাধিকারী হবে. বিশ্ববরেণ্য ঐ শল্য চিকিত্সকের মতে, তার কারন – অলস জীবনধারা, বাজে খাওয়াদাওয়া ও অতিমাত্রায় উত্তেজনা.

রাশিয়ার তরুন বিজ্ঞানীদের দ্বারা আবিস্কৃত রোগনির্ণয় পদ্ধতি এই ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আমূল বদলে দিতে পারে. এবং সেজন্য দামী দামী ওষুধের প্রয়োজন নেই. টিস্যু পেপার, ড্রপার, সূঁচ ও ব্যান্ড থাকলেই যথেষ্ট. ২ ফোঁটা রক্ত পরীক্ষা করেই রক্তের বিশ্লেষণ করা যাবে. ব্যান্ডটি রি-এ্যাকটিভের প্রভাবে হৃদযন্ত্রের প্রোটীনের প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল. ঐ প্রোটীন হার্ট এ্যাটাক হওয়ার আগে হৃদপিন্ডে জমা হতে শুরু করে. এই বিষয়ে বলছেন হার্ট আ্যাটাক নির্ধারন প্রকল্পের প্রধান তাতিয়ানা রায়েত্স্কায়া. ---

আমরা প্রোটীনের পরিমান বৃদ্ধি হওয়া ধরতে পারি, যা দ্রুতবেগে জমা হতে থাকে হৃদপিন্ডের পেশীগুলি আড়ষ্ট হতে থাকার সময়ে. ঐ প্রোটীনের পরিমান একশো মাইক্রন বা তারও বেশি পরিমানে জমা হয়. সুস্থ মানুষের প্রতি লিটার রক্তে ঐ প্রোটীনের পরিমান ৭ মাইক্রনের বেশি নয়.

বিশ্লেষণ নির্ভুল. মাত্র ১০ মিনিট সেজন্য সময় লাগে. এমনকি রোগীর রক্ত নেওয়াও আবশ্যক নয়, থুতু হলেই চলে. তাতেও প্রোটীন আছে.

অনুবীক্ষণ যন্ত্রের মতো ক্ষুদ্র যন্ত্রটি দিবারাত্রি পর্যবেক্ষন করে রক্তের বায়োকেমিস্ট্রি. যন্ত্রটার উদ্ভাবন করেছে মস্কোর শরীরবিদ্যা ইঞ্জিনীয়ারিং ইনস্টিটিউটের যুব উদ্ভাবনী কেন্দ্র. কোনো নল, বাক্সপাতি, তার, ব্যাটারির বালাই নেই. ঐ উদ্ভাবনী কেন্দ্রের গবেষণাকর্মী আন্দ্রেই শেরবাকিন বলছেন, যে রোগ নির্ণয় করার জন্য অপরিহার্য সব কিছু থাকে রোগীর মুখের ভেতরে. ---

ওখানে থাকে টেস্টটিউব, ডাটা প্রসেসর, যা দিয়ে থুতু পরীক্ষা করা হয়. আর ঐ ডাটা প্রসেসর দাঁতে ফিট করে দিলে ওয়্যারলেস চ্যানেলের মাধ্যমে এমনকি আপনার মোবাইল ফোনেও ইনফরমেশন সংগ্রহ করা যেতে পারে.

ইনফরমেশন পৌঁছে যায় এক সেকেন্ডের ভগ্নাংশে. উদাহরনস্বরূপ, ঘন্টাপ্রতি একবার হৃহপিন্ডের হাল সম্পর্কে তথ্য নেওয়া যেতে পারে. গবেষণারত ছাত্ররা এমনকি দরকারী মুহুর্তে ঐ যন্ত্রটি যাতে ডাক্তারের বিকল্প হতে পারে, সে বিষয়েও চিন্তাভাবনা করছে. যদি ঐ ইমপ্ল্যান্টে ওষুধ ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস ভরে দেওয়া যায়, তাহলে আক্কেল দাঁতটি কেবলমাত্র বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েই ক্ষান্ত হবে না, এমনকি জীবনমরন অবস্থায় রোগীর প্রাণ পর্যন্ত বাঁচাতে পারবে.