যবে থেকে আবহাওয়া পর্যবেক্ষন করা শুরু হয়েছে, সেই ১৬০ বছরের মধ্যে উষ্ণতম হবে ২০১৩ সাল. বৃটেনের আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী দিনের গড় তাপমাত্রা আধডিগ্রি সেন্টিগ্রেডেরও বেশি বাড়বে. যদি এভাবেই চলতে থাকে, তাহলে চলতি বছর শেষ হওয়ার আগেই আমাদের গ্রহে শুরু হবে বিপর্যয়কর পরিবর্তন. অন্যদিকে, কিছু গবেষণাবিদ উল্টো ভয় দেখাচ্ছে. তাদের মতে ২০১৪ সাল থেকে নাকি ঠান্ডা বাড়তে শুরু করবে, আর তারপরে নেমে আসবে তুষার যুগ.

মানব সমাজের ইতিহাসে যেমন প্রবল উত্তপ্ত, তেমনই ভয়ংকর শীতল যুগের নজীর রয়েছে. আদিকাল থেকেই বিভিন্ন সঙ্কেত দেখে আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়ার রীতি প্রচলিত আছে. বিজ্ঞানের মাধ্যমে তা করা শুরু হয়েছে বিংশ শতাব্দীতে. আধুনিক দৈনিক পূর্বাভাসের নিখুঁতত্ব আপাততঃ ৯৫ শতাংশ, সাপ্তাহিকের – ৬০ শতাংশ – ও এইভাবে ক্রমশ্ঃ কমের দিকে.

কয়েক বছরের পরিপ্রেক্ষিতে বিজ্ঞানীরা মোটামুটি প্রবণতার বাছবিচার করে, যা ভবিষ্যতে নাও ফলতে পারে. পৃথিবীবাসীদের কপালে আগামীদিনে কি আছেঃ উত্তর মেরুর বরফ গলা, নাকি গলফস্ট্রীম বরফে জমে যাওয়া. রাশিয়ার বিজ্ঞান এ্যাকাডেমির আবহাওয়াতত্ত্ব ইনস্টিটিউটের পরীক্ষাগারের প্রধান আন্দ্রেই শ্মাকিন বলছেন – মনে হয়, ধীরে ধীরে উষ্ণতা বাড়ার প্রক্রিয়া চলতে থাকবে. ---

প্রাত্যহিক জীবনে সেটা তেমন নজর করা যায় না. সংখ্যাগত দিক থেকেই উষ্ণতাবৃদ্ধির প্রমাণ পাওয়া যায়. যখন আমরা বিশ্লেষন করি, তখন কোনো একটা প্রবণতাকে খুঁজে বের করি. তার মানে এই নয়, যে প্রতিটা বছরে তার আগের বছরের অনুপাতে বেশি গরম পড়বে. কখনো সখনো অন্যথাও ঘটবেঃ উষ্ণতর বা শীতলতর. শুধু সংখ্যার দিক থেকে লক্ষ্য করা যাচ্ছে তাপমাত্রা বাড়ার প্রবণতা. ---

মানুষের কর্মকান্ডের ফলে ইদানীংকালে প্রকৃতির উষ্ণতর বা শীতলতর হওয়ার সময় ও মেয়াদে তালগোল পাকিয়ে গেছে. পৃথিবীজুড়ে উষ্ণতাবৃদ্ধি এই ভারসাম্যহীনতার নমুনা মাত্র. তাপমাত্রা ক্রমশঃ বাড়ছে. হয়তো তেমন দ্রুতহারে নয়, যেমনটির পূর্বাভাস দিয়েছিল বিজ্ঞানীরা. তবে পৃথিবী আর আগের মতো অবস্থায় ফিরবে না.

বিশ্বব্যাঙ্কের বিশেষজ্ঞরা আগামী শতাব্দীর গোড়ায় গড় তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে. তার দরুন অবধারিতভাবে খাদ্যদ্রব্যের ভান্ডার কমবে, প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াবলী নস্যাত হয়ে যাবে ও বিশ্ব মহাসাগরে জলস্রোতের উচ্চতা বাড়বে. তবে বিজ্ঞানীদের মতে এখনো আশার প্রদীপ নিভে যায়নি. সবার আগে দরকার পৃথিবীব্যাপী উষ্ণতাবৃদ্ধির সাথে সংগ্রাম করার জন্য এমন কার্যকরী কর্মসূচী, যা সেকেলে হয়ে যাওয়া কিওটো প্রটোকলের যোগ্যতর উত্তরাধিকারী হতে পারবে. তাছাড়া দরকার বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বর্বরদের মতো গাছ কাটা বন্ধ করা, জমা জলের শোধনব্যবস্থার উন্নতিকরন. যদি বুদ্ধি খাটিয়ে সক্রিয়ভাবে এই অভিমুখে কাজকর্ম চালানো হয়, তাহলে অদূর ভবিষ্যতে মানবসমাজের মোটামুটি চলনসই আবহাওয়ায় বেঁচে থাকার যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে.