রাশিয়া রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের কাঠামো বদল করে সেখানে নতুন স্থায়ী সদস্য দেশ যোগ করার বিষয়ে আহ্বান করেছে. এই বিষয়ে আজ রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্হেই লাভরভ ঘোষণা করেছেন. তাঁর কথামতো, নতুন সদস্য দেশ হতে পারে যেমন ভারত ও ব্রাজিল. রাশিয়ার মন্ত্রী বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, নিরাপত্তা পরিষদের কাঠামো পরিবর্তন খুবই সূক্ষ্ম বিষয়. তার জন্য প্রয়োজন রয়েছে সকলের সহমতে পৌঁছনো.

১৯৪৫ সালে এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বাস্তবে রাষ্ট্রসঙ্ঘের কাঠামো বদল করা নিয়ে বিতর্কের শুরু হয়েছিল. ১৯৬৫ সালে শেষ বার রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রসারিত করা হয়েছিল এগারো থেকে পনেরো সদস্যের কাঠামো তৈরী করে. তখনও স্থায়ী সদস্যের সংখ্যা বাড়তে দেওয়া হয় নি, যাদের ভেটো প্রয়োগের অধিকার রয়েছে. আগের মতই সেখানে রয়েছে পাঁচ স্থায়ী সদস্য দেশ: গ্রেট ব্রিটেন, চিন, রাশিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্স. বাকীরা অস্থায়ী সদস্য দেশ, যাদের প্রতিবছরে পালাক্রমে ১৯৩টি সদস্য দেশের বাকীদের মধ্যে থেকে বেছে নেওয়া হয়ে থাকে.

প্রায় সমস্ত রাষ্ট্রসঙ্ঘের সদস্য দেশই মনে করে যে, এই প্রতিষ্ঠানের কাঠামো আধুনিক করা দরকার. প্রধান বিবাদ যা নিয়ে, তা হল কি করে এটা করা দরকার. এই খানেই সহমতে পৌঁছতে এখনও অনেক দেরী.

বিশ্ব সমাজের বহুমতে বিশ্বাসই প্রতিফলিত হওয়া দরকার রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে, এই কথা সের্গেই লাভরভ রাশিয়া টুডে নামক চ্যানেলে আজ এক সাক্ষাত্কারে ইংরাজীতে বলেছেন, তিনি যোগ করেছেন:

“আমরা এটাকে (সংশোধনকে) জোর দিয়েই সমর্থন করছি, প্রাথমিক ভাবে নতুন অর্থনৈতিক ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে নেতৃস্থানীয় দেশ গুলিকে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে, যেমন, ভারত ও ব্রাজিল, যাদের এই নিরাপত্তা পরিষদে থাকার খুবই প্রয়োজন রয়েছে. আর আমরা এদের নতুন স্থায়ী সদস্য হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হওয়াকে স্বাগত জানাই. অবশ্যই একমাত্র শর্ত মেনে যে, নতুন স্থায়ী সদস্য হওয়ার মতো করে আলাদা জায়গা তৈরী করা হবে. এটাই রাষ্ট্রসঙ্ঘের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিভাজনের কারণ”.

বিগত বছর গুলিতে বিশেষ করে সক্রিয়ভাবে আলোচনা করা হয়েছে নিরাপত্তা পরিষদে নতুন স্থায়ী সদস্য দেশ অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে. তাতে যোগ দেওয়ানোর কথা হয়েছে ব্রাজিল, জার্মানী, ভারতবর্ষ ও জাপানের কথা. কিন্তু জাপানের বিরুদ্ধে খুবই জোর দিয়ে বলেছে বেজিং ও তার জায়গায় দেখতে চেয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকাকে.

নিরাপত্তা পরিষদের গঠন ইতিমধ্যেই বিশ্বের নতুন বাস্তবের সঙ্গে সঙ্গতি হারিয়ে ফেলেছে, এই রকম মনে করে রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক মূল্যায়ণ ও বিশ্লেষণ ইনস্টিটিউটের সভাপতি আলেকজান্ডার কনোভালভ বলেছেন:

“এখন এর মধ্যেই একেবারে বুঝতে পারা যাচ্ছে না কেন, বলা যাক, চিন রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য দেশ, অথচ ভারত নয়. চিন নিরাপত্তা পরিষদে রয়েছে, অথচ ব্রাজিল – নেই. কিন্তু ঠিক কি করে নতুন সদস্যদেশ নেওয়া হবে, এটা খুব বড় প্রশ্ন. রাষ্ট্রসঙ্ঘকে এখনই প্রায় নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণে অক্ষম বলে দোষ দেওয়া হয়ে থাকে. আর যদি স্থায়ী সদস্য, যাদের ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা থাকবে, তা যোগ করা হয়, তবে আরও বেশী করেই কঠিন হবে সম্মিলিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের”.

রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের সমস্যা স্রেফ সংখ্যাগত ভাবে পরিবর্তনের চেয়ে অনেক বেশী কঠিন, এই রকম বলেছেন রাশিয়ার আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক নিরীক্ষা ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর ইভগেনি মিনচেঙ্কো, তিনি যোগ করেছেন:

“সমস্যা আরও সেই কারণে যে, বিগত সময়ে একাধিকবার এমন সব পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে, যা সম্ভব করেছে একেবারেই রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্তকে এড়িয়ে যাওয়ার. আর তাদের সঙ্গে পরামর্শ না করেই সামরিক অপারেশন শুরু করা হয়েছে. এমন পরিস্থিতি হয়েছে, যখন নিরাপত্তা পরিষদ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা পরে খুবই প্রসারিত ভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে. এটা হয়েছে লিবিয়ার আকাশ উড়ান মুক্ত করা নিয়ে. সবই পরে দাঁড়িয়েছে এক বহু প্রসারিত সামরিক অপারেশনে”.

প্রধান হোঁচট খাওয়ার মত কারণ – পাঁচ স্থায়ী সদস্য দেশের ভেটো প্রয়োগের ক্ষমতা. তার সাহায্য নিয়ে তারা এই সঙ্ঘের যে কোন সিদ্ধান্তই আটকে দিতে পারে, যা তারা এর আগেও বহুবার প্রয়োগ করেছে.