নয়াদিল্লী শহরে সরকারি সফরের সময়ে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন যে, ভারত ও রাশিয়ার সম্পর্ক বিশেষ সুবিধা প্রাপ্ত সহকর্মী হওয়ার চরিত্র বহন করে. এই বছর দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক বিশেষ বছর: কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পঁয়ষট্টিতম জয়ন্তী বর্ষ. আর বর্তমানের শীর্ষবৈঠক পারস্পরিক ভাবে লাভজনক সহযোগিতার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়েছে.

আলোচনার সময়ে প্রধান বিষয় হয়েছে দ্বিপাক্ষিক আর্থ-বাণিজ্যিক সহযোগিতার প্রসার. ২০০০ সাল থেকে এখন অবধি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমান হয়েছে ছয় গুণ বেশী. শুধু ২০১২ সালের তথ্যের দিকেই যদি তাকানো হয়, তবে দেখতে পাওয়া যাবে যে, জানুয়ারী থেকে অক্টোবর মাস অবধি দেশে বাণিজ্যের পরিমান গত বছরের একই সময়ের তুলনায় একের তৃতীয়াংশ বৃদ্ধি পেয়েছে. এই বছরের সম্মিলিত ফলাফল অনুযায়ী বহু বিশেষজ্ঞই পূর্বাভাস দিয়েছেন রেকর্ড পরিমানের মাত্রা ছোঁয়ার – একশো কোটি ডলারের সমান মূল্যের. ভ্লাদিমির পুতিন এই প্রক্রিয়ার সম্ভাবনা নিয়েও মন্তব্য করেছেন:

“২০১১ সালে পারস্পরিক বাণিজ্যের পরিমান ছুঁয়েছিল প্রায় নব্বই কোটি ডলারের সমান, এই বছরে আশা রয়েছে একশো কোটি ডলার ছোঁয়ার ও আসন্ন বছর গুলিতে এটা আমরা বাড়িয়ে দ্বিগুণ করতে চাই. বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ হল যে, রুশ- ভারত আমদানী রপ্তানীর ব্যবসায়ে বেশী করেই রয়েছে উচ্চ প্রযুক্তির জিনিষ – দুই পক্ষ থেকেই প্রায় শতকরা পঞ্চাশ ভাগ. এই বছরে রাশিয়া থেকে প্রায় শতকরা চল্লিশ ভাগ বেড়েছে যন্ত্রপাতি, গাড়ী ও রাসায়নিক দ্রব্যের পরিমান. আমরা বিনিয়োগ সংক্রান্ত পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে প্রসারে সহায়তা করার বিষয়ে এক সমঝোতায় পৌঁছেছি. আমি বিশ্বাস করি যে, আজ স্বাক্ষরিত ভারতীয় স্টেট ব্যাঙ্ক ও রাশিয়ার সরাসরি বিনিয়োগ তহবিলের মধ্যে চুক্তি পারস্পরিক ভাবে সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য বাড়তি উদ্যোগ জোগাবে, আর তার মধ্যে আমাদের দুই দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি মানের কোম্পানীদের মধ্যেও”.

দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার এক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হল পারমানবিক বিদ্যুত ক্ষেত্রে পরিকল্পনা ও প্রকল্প গুলি. ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহের কথামতো, এই কাজ - এক প্রধান বিষয়. ভারত খুবই উচ্চ স্তরে রাশিয়ার বিশেষজ্ঞদের পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র “কুদানকুলাম” নির্মাণে সহায়তা করাকে মূল্যায়ণ করে. রাশিয়ার পক্ষ, “রসঅ্যাটম” সংস্থার প্রধান সের্গেই কিরিয়েঙ্কোর মতে এই প্রকল্পে এক সত্যিকারের দ্রুত উন্নতি দেখাতে পেরেছে, তাই তিনি বলেছেন:

“ফুকুসিমা পরবর্তী কালের সমস্ত দাবী, যা আজকের দিনে যে কোন পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের প্রকল্পের কাছ থেকে আশা করা হয়েছে, তা এই প্রকল্পে বরং অনেক বেশী ক্ষমতা সম্পন্ন ভাবেই করা হয়েছে. এই কেন্দ্রের জন্য এমনকি চাপের পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে. যদি তা সেই সময়ে ফুকুসিমার জায়গায় থাকত, তবে তা অনায়াসে সেই ধরনের ভূমিকম্প ও ত্সুনামি সহ্য করতে পারতো, কারণ এটা খুবই উচ্চ পর্যায়ের স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা দিয়ে তৈরী করা হয়েছে. এখানে সুবিশাল পরিমানে শুধু সক্রিয়ই নয়, বরং প্রতিক্রিয়াশীল নিরাপত্তা ব্যবস্থা দিয়ে তৈরী করা হয়েছে. যদি ফুকুসিমার মতো ঘটনা পরম্পরা এখানে চিন্তা করা হয় ও প্রত্যেকটি বিপদকে আলাদা করে দেখা হয়, যা সেখানে হয়েছিল ও সেই সমস্ত কমানোর কাজকর্মও দেখা হয়, তবে এখানে সব কিছুই আগে থেকে ভেবে রাখা হয়েছে”.

আরও একটি প্রকল্প – পারস্পরিক বিনিয়োগ. আর এই ক্ষেত্রেই নয়াদিল্লীতে আলোচনার সময়ে রাশিয়ার সরাসরি বিনিয়োগ তহবিল ও “স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার” মধ্যে আলোচনায় উন্নতি করা সম্ভবপর হয়েছিল, এই কথা উল্লেখ করে তহবিলের প্রধান কিরিল দিমিত্রিয়েভ বলেছেন:

“এটা ভারতের এক বৃহত্তম ব্যাঙ্ক. আমরা দুই পক্ষই এতে সম্মিলিত রুশ – ভারত প্রকল্পের জন্য এক বিলিয়ন ডলারের সমান অর্থ বিনিয়োগ করব. এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আমরা আশা করছি যে, আগামী তিন বছরে বাণিজ্য বেড়ে একশো থেকে তিনশো কোটি ডলার হবে. আমরা রাশিয়া ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্যের বৃদ্ধিতে যে সব ব্যবসা রয়েছে, তাতেই বিনিয়োগ করতে চাই”.

এছাড়া ভারতে আজ রাশিয়ার বৃহত্তম সমস্ত কোম্পানী উপস্থিত রয়েছে: ধাতু উত্পাদন শিল্পে ভিলাই, রৌরকেল্লা ও অন্যান্য জায়গায় কারখানা হয়েছে. রাশিয়ার “সেভেরস্তাল” ভারতীয় পক্ষের সাথে সহযোগিতায় এক সম্পূর্ণ শৃঙ্খলের ধাতু উত্পাদন কারখানা নির্মাণ করছে. ভারতীয় বাজারে হাজির হয়েছে রাশিয়ার “ইনগসস্ত্রাখ” ও “রসনো” বীমা কোম্পানী. উল্লেখ করার প্রয়োজন রয়েছে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প গুলির কথাও – “সাখালিন – ১” এলাকায় খনিজ তেল ও গ্যাস ক্ষেত্রের বিকাশের কাজও.

ভারতীয় পক্ষ থেকে বিশেষ করে উল্লেখ করা হয়েছে সামরিক প্রযুক্তি সহযোগিতার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি গুলির কথা.

আলাদা করে উল্লেখ করা হয়েছে দুই দেশের মধ্যে অন্যান্য সংস্থা ও জোটের কাঠামোর মধ্যে সহযোগিতার কথা যেমন, ব্রিকস, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা, রাশিয়া, ভারত ও চিনের জোট রিক, “জি – ২০” ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক জোটের কথা.