পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রে একটি অন্যতম প্রাথমিক কাজ রাশিয়ার জন্য সাংহাই সহযোগিতা সংস্থায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে মিলিত ভাবে কাজ করা. এই বিষয়ে একটি প্রবন্ধ বিশেষ করে “রেডিও রাশিয়ার” জন্য লিখেছেন রুশ রাষ্ট্রপতির এই সংস্থায় বিশেষ প্রতিনিধি কিরিল বারস্কি. শেষ হয়ে আসা বছরের লক্ষণ হিসাবে বারস্কি উল্লেখ করেছেন বিশ্বে এই সংস্থার সঙ্গে কাজ করার আগ্রহের ক্রমবর্ধমান “চাহিদা”.

২০১২ সালে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা আরও দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে অগ্রসর হতে পেরেছে. আর নিজের প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশে তা যেমন দেখা গিয়েছে, তেমনই স্পষ্ট হয়েছে নিজেদের কাজের গভীরতা ও প্রসার বৃদ্ধিতে. তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এই এলাকায় ও বিশ্বে নিজেদের অবস্থান সম্পর্কে সম্যক ধারণাও, - কিরিল বারস্কি তাঁর প্রবন্ধে এটাই উল্লেখ করেছেন. এখানে নতুন মৌল হিসাবে ভাবা যেতে পারে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সংজ্ঞা স্বীকার নিয়ে ক্রমবর্ধমান ধারণা, যা একটি ভরসাযোগ্য মঞ্চ হিসাবে ব্যবহার যোগ্য হয়েছে প্রতিবেশী দেশ গুলির সঙ্গে সম্মিলিত ভাবে কাজ করার ক্ষেত্রে. সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার কাজে পর্যবেক্ষক ও আলোচনা শরিক হিসাবে অথবা তার সঙ্গে পারস্পরিক সংযোগ বৃদ্ধি করার প্রয়াসে প্রতিবেশী দেশ গুলি “নির্বাচন” করেছে আরও বেশী ঘনিষ্ঠ ভাবে শক্তিশালী হয়ে ওঠা সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার “মূল” অংশীদারদের সঙ্গে আঞ্চলিক সহযোগিতা করার.

শেষ হয়ে আসা বছরের লক্ষণ – বিশ্বে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতার চাহিদা বেড়ে ওঠা. ২০১২ সালে এই সংস্থায় পর্যবেক্ষকের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে আফগানিস্তানকে, আলোচনা শরিকের মর্যাদা পেয়েছে তুরস্ক. সরকারি ভাবে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থায় পর্যবেক্ষকের মর্যাদা পাওয়ার আবেদন এসেছে বেলোরাশিয়া ও শ্রীলঙ্কা থেকে, যারা ইতিমধ্যেই আলোচনা শরিক হিসাবে কাজে অংশ নিয়েছে, আর তারই সঙ্গে আজারবাইজান, আর্মেনিয়া ও বাংলাদেশ থেকেও. তাছাড়া সম্পূর্ণ অধিকার সম্পন্ন সদস্য হওয়ার জন্য দাবী করেছে ভারত ও পাকিস্তান. এই প্রসঙ্গে কাজ চলছে আইন, বিনিয়োগ ও প্রশাসনিক ভাবে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থায় নতুন অংশীদার দেশ গুলির প্রবেশ করার ও কাজে অংশ নেওয়ার বিষয়ে: এই কাজের শেষ হলে সংস্থায় প্রবেশ করার পথ প্রসারিত হবে.

সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার ভৌগোলিক প্রসার – এক খুবই জটিল, সমস্যা সঙ্কুল ও প্রচুর পরস্পর বিপরীত মনোভাব পূর্ণ এলাকায় রয়েছে, অনেক ক্ষেত্রেই তা বহু রকমের হুমকি ও বিপদের জন্য খুবই সম্ভাব্য ও অনুন্নত এলাকা. এক আফগানিস্তানের সঙ্গেই প্রতিবেশী থাকা অনেক বেশী মূল্য দেওয়ার মতো. এই এলাকায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখাকে বিকাশের অন্যতম শর্ত বলে মেনে নেওয়া সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সদস্য দেশ গুলির মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতা বিকাশের স্লোগান হয়েছে.

২০১২ সালে নিরাপত্তা প্রসঙ্গে জটিল আশঙ্কার মুখোমুখি হয়ে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা সন্ত্রাসবাদ, মাদক পাচার ও সীমান্ত পার হয়ে আসা সংগঠিত অপরাধের বিরুদ্ধে খুবই বেশী করে সংগ্রামের “মাত্রা” বৃদ্ধি করেছে. এই সংস্থার রাজনৈতিক- কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা, শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগজনক বিষয়ে নতুন করে তৈরী করা নিয়মাবলী গৃহীত হয়েছে. ২০১৩- ২০১৫ সালের মধ্যে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে মোকাবিলার পরিকল্পনাও গৃহীত হয়েছে. ২০১৪ সাল এগিয়ে আসার সঙ্গে এই অঞ্চলের সমস্ত দেশের জন্যই আফগানিস্তানের ভবিষ্যত নিয়ে প্রশ্ন সম্পূর্ণ আকারে উপস্থিত হবে. এটা স্বাভাবিক যে, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সদস্য দেশ গুলির জন্যও এই প্রসঙ্গ উদ্বেগজনক, যারা সারা বছর ধরেই আফগানিস্তানের কাজকর্ম নিয়ে যেমন রাষ্ট্রসঙ্ঘে, তেমনই আফগানিস্তান নিয়ে আয়োজিত নানা আন্তর্জাতিক সম্মেলনেও অংশ নিয়েছে.

সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার কাঠামোর মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা মধ্য এশিয়ার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে বিনিয়োগে পুনরুর্জীবন, অর্থনৈতিক বৃদ্ধি, জনগনের কর্মসংস্থানকে দেখা হয়েছে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য অবিচ্ছেদ্য অংশ বলেই, উল্লেখ করেছেন বারস্কি.

বিশকেক শহরে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার মন্ত্রীসভার প্রধানদের পর্যায়ে আলোচনা সভায় – এই সংস্থার কাঠামোর মধ্যে পরবর্তী কালে পরিকল্পনা সংক্রান্ত কাজকর্মের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে. এই গুলির বাস্তবায়নের জন্য ইতিমধ্যেই যোগ দিয়েছে ব্যবসায়িক সঙ্ঘ ও সংস্থার আন্তর্ব্যাঙ্ক জোট. পাশাপাশি খোঁজ চলছে এই সব প্রকল্প গুলির জন্য সবচেয়ে ভাল বিনিয়োগের ব্যবস্থার – বোঝাই যাচ্ছে যে, এখানে দেখা হচ্ছে ইউরো এশিয়া এলাকার ব্যাঙ্ক ও বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান গুলির সম্ভাবনাকেও.

সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার কাঠামোর মধ্যে বাস্তব সহযোগিতা প্রসারিত হয়েছে বর্তমানে বহু সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রেই – পরিকাঠামো সংক্রান্ত নির্মাণ, উচ্চ প্রযুক্তি, টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা, কৃষি কর্ম, বৈদ্যুতিন বাণিজ্য ও আরও অনেক কিছু. ২০১২ সালে খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রগতি সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার জ্বালানী ক্লাবের চালু হওয়ার প্রশ্নে অর্জন করা সম্ভব হয়েছে. উল্লেখযোগ্য হল যে, এই জ্বালানী ক্লাবে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার পর্যবেক্ষক দেশ গুলিও যোগ দিতে আগ্রহী – আফগানিস্তান, ভারত, ইরান, মঙ্গোলিয়া, পাকিস্তান এবং আলোচনা শরিক দেশ গুলি – বেলোরাশিয়া ও শ্রীলঙ্কা.

সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা – এটা সাংস্কৃতিক- মানবিক ও শিক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতারও একটি বৃহত্ স্তর. শেষ হয়ে আসা বছর সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার দেশ গুলির মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় নেটওয়ার্ক নিয়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের বছর হয়েছে, যার ডিগ্রী প্রথম উচ্চীর্ণ হওয়া ছাত্রছাত্রীদের হাতে দেওয়া হয়েছে.

রাশিয়ার জন্য সাংহাই সহযোগিতা সংস্থায় কাজ করা যেমন ছিল, তেমনই একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়েই থাকবে. খুবই আসন্ন ভবিষ্যতে রাশিয়ার পক্ষ থেকে সম্ভাবনা আসবে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থাকে আরও মজবুত করে গড়ে তোলার জন্য বাড়তি অবদান রাখার. ২০১৩ সালের ১লা জানুয়ারী থেকে সংস্থার সাধারন সম্পাদকের পদে কাজ শুরু করছেন রাশিয়ার প্রতিনিধি দিমিত্রি মেজেন্তসেভ – তিনি একজন বিখ্যাত রাজনীতিবিদ ও জাতীয় কর্মী, গত ছয় বছর ধরে তিনি সংস্থার ব্যবসায়িক সঙ্ঘের প্রধান ছিলেন অপরিবর্তিত ভাবেই. আর ২০১৪- ২০১৫ সালে আমাদের দেশ সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সভাপতির কাজ করবে. এই দায়িত্বপূর্ণ কাজের জন্য প্রস্তুতি এখন থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে, - বলে উল্লেখ করেছেন রুশ রাষ্ট্রপ্রধানের সাংহাই সহযোগিতা সংস্থায় বিশেষ প্রতিনিধি কিরিল বারস্কি তাঁর “রেডিও রাশিয়াকে” দেওয়া প্রবন্ধে.