গত ২০শে ডিসেম্বর বৃস্পতিবার রুশ রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন বড় একটি সংবাদ সম্মেলন করেছেন. গনমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সাথে পুতিনের এ ধরণের সাক্ষাতকার এ নিয়ে আটবার অনুষ্ঠিত হল এবং দ্বিতীয় দফায় রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটাই পুতিনের প্রথম সাংবাদিক সম্মেলন. সঙ্গত কারণেই তাই এটি বৃহত রাজনৈতিক ঘটনায় পরিনত হয়েছে.

সাংবাদিকদের মধ্যে অধিক আগ্রহ দেখা গেছে “দিমা ইয়াকোভলেভা আইনটি” নিয়ে. মার্কিনী “মাগনিতস্কি আইন” যা রুশিদের ভিসা ও অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা তৈরী করেছে এবং ওয়াশিংটনের মতে, রুশি তদন্ত কারাগারে আইনজীবি সেরগেই মাগনিতস্কির মৃত্যু, জবাবে রাশিয়ার পার্লামেন্ট দুমার নিম্নকক্ষ তৃত্বীয় পাঠের মধ্য দিয়ে মার্কিনীদের রুশি শিশুদের দত্তক গ্রহণ বন্ধ করা হয়েছে. এ প্রসঙ্গ নিয়ে পুতিনকে আটবার প্রশ্ন করা হয়েছে. পুতিনের উত্তর যদিও ছিল আবেগপ্রবণ কিন্তু কঠিন. পুতিন বলেছেন, “যদি ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটে তাহলে এর জন্য মার্কিন প্রশাসনের সমস্যার কথাই চলে আসবে. এর সাথে জড়িত হচ্ছে শিশুদের অধিকারহরণ ও ফৌজদারি মামলার মত অপরাধ. এগুলো সবারই জানা আছে এবং মার্কিন প্রসাসনের প্রতিক্রিয়াও আমরা দেখেছি. আমি আবারও বলছি, এ ধরণের সমস্যার ক্ষেত্রে তাঁরা রুশ প্রতিনিধিদের হস্তক্ষেপ করতে দেয় না, এমনকি প্রতক্ষ্যদর্শী হিসেবে আদালতের শরনাপন্ন হতেও দেয় না. আমি মনে করে এটি অগ্রহণযোগ্য.”

আইনজীবি সেরগেই মাগনিতস্কির মৃত্যু যা পুনরায় রাশিয়াবিরোধী কার্যক্রম করার একটি মার্কিনী অজুহাত বলে রুশ রাষ্ট্রপতি মনে করেন. ভ্লাদিমির পুতিন এ ক্ষেত্রে উল্লেখ করে বলেন, আমেরিকাতেও আইন ভঙ্গের সংখ্যা কম নয়. পুতিন বলেছেন

“মিঃ মাগনিতস্কির মৃত্যু হয়েছে হ্রদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে. সরকারি সংস্থার সাহায্য না নিয়ে একজন মানুষকে কেন একা ফেলে রাখা হয়েছে, এ প্রশ্নের উত্তর বের করা দরকার. তাহলে মার্কিন কারাগারে কি মানুষের মৃত্যু হয় না?. সারা বিশ্বে মার্কিনী আইন প্রয়োগকারী বিভাগের কত লোক একত্রিত করা যাবে যারা ওই সব দেশের নীতিগত আইন ভঙ্গ করছে. পুরোপুরি!.”

বড় ওই সাংবাদিক সম্মেলনের অধিক সময় ছিল আন্তর্জাতিক প্রসঙ্গ নিয়ে. ভ্লাদিমির পুতিন উল্লেখ করেন, সবকিছু বিবেচনা করার পরও রাশিয়া-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একে অপরের শত্রু নয়.

রুশ রাষ্ট্রপতি একই সাথে জাপানের সাথে গঠনমূলক আলোচনা চলবে বলে আশা করেন এবং রাশিয়া-চীন সম্পর্ককে পুতিন বিশ্বস্ততা ও সহযোগি পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান. সিরিয়ার প্রসঙ্গ বিষয়ে পুতিন বলেন, রাশিয়া বাশার আসাদের শাসনের ভাগ্য নিয়ে চিন্তা করছে না. রুশ রাষ্ট্রপতি বলেছেন. আমরা অন্য বিষয় নিয়ে উদ্বিগ্ন. এর পরে কি ঘটবে?. আমরা চাইছি না যে, আজকের বিরোধী দল দেশ পরিচালনায় আসুক. প্রথমে আজকের সরকারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম শুরু হোক যা পরবর্তিতে বিরোধী দলের ভূমিকায় আসবে এবং তাই প্রচলিত থাকবে. পুরো এ অঞ্চলে গৃহযুদ্ধ বন্ধ ও সিরিয়াকে উদ্ধার করার জন্য এ ধরণের একটি সমাধান খুঁজে পাওয়া যাবে এবং আমরা এর সমর্থন জানাচ্ছি.”

 

ভ্লাদিমির পুতিনের বড় সাংবাদিক সম্মেলনে চার ঘন্টা তেত্রিশ মিনিট সময় ধরে ৬২ জন সাংবাদিকের ৮১টি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সম্ভব হয়েছে. পরিশেষে রুশ রাষ্ট্রপ্রধান গনমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সৌহাদ্যপূর্ণ আচরণের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং তিনি যাদের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেন নি অথবা যেমনটি দিয়েছেন সাংবাদিকরা তেমনটি আশা করেন নি, তাদের প্রতি ক্ষমা চেয়েছেন.