সিরিয়ায় সম্ভাব্য মানবাধিকার লংঘন নিয়ে গঠিত কমিশন সম্প্রতি তাদের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে. ফলাফলে সান্ত্বনা পাওয়ার ভাষা খুবই অল্প. বিশেষজ্ঞদের ধারণা, সিরিয়ায় অস্ত্রধারী বিদ্রোহীদের সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে দেশটিতে বিদেশি জঙ্গি সংগঠন যেমন আল-কায়দা ও জাবহাত আল-নুসরার কার্যক্রম বেড়ে যাচ্ছে. এই ধারাবাহিকতা সিরিয়ার সংকট যা এখন গোষ্ঠীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে. উগ্রবাদী সংগঠনগুলোর সক্রিয় কার্যক্রম চোখে পড়ছে.

আমরা কি তাহলে ইসলামের মুল আদর্শ থেকে সরে যাওয়ার সাক্ষী থাকব?. কাতার ও সৌদি আরবের সমর্থন নিয়ে ওই অঞ্চলে সংকট ছড়িয়ে পড়ছে. রেডিও রাশিয়াকে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন আংকারা স্ট্রাটেজিক গবেষণা কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ ও গাজা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. মেহমেত আকিফ আকুর. তিনি বলেছেন, “বাশার আসাদের পতন যদি ঘটে তাহলে কে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নিবে তা এখনও ঘোলাটেই রয়ে গেছে. এটি পরিষ্কার যে, দেশের বাইরে থেকে সিরিয়া রাষ্ট্র গঠনের যে কৌশল তা সিরিয়ার অন্য সব বিদ্রোহীদের সমর্থন পাচ্ছে না. আসাদের পতন ঘটাতে চইলে বিরোধী দলের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করতে হবে. তাছাড়া বিরোধী দলের মধ্যে ঐক্যমত না থাকায় তা বাস্তবায়ন করা আরও কঠিন হয়ে দাড়িয়েছে. সিরিয়ার বিরোধী দল যা বিভিন্ন ধরণের গ্রুপের সমন্বয় গঠিত হয়েছে. তাদের সবার যদিও বাশার আসাদের অপসারণ করাই মূল লক্ষ্য হলেও সামগ্রিক দিক দিয়ে তা যথেষ্ট নয়. এ ধরণের পরিস্থিতিতে বিরোধী দলের নিজেদের মধ্যে সংঘাত এড়িয়ে যাওয়া অনেকটাই কষ্টকর হবে.

সব দৃষ্টিকোন থেকে বিবেচনা করলে আসাদের শাষন তা শেষ পর্যন্তই থাকবে. যদি বিরোধী দল সংঘাত চালিয়ে যায় তাহলে বর্তমান ক্ষমতাসীনদের শক্তি আরও উচুঁতে উঠে যাবে. এবং তখনই শুরু, যা ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে. আর তা হবে সত্যিকারের ধর্মীয় গোষ্ঠীর মধ্যে যুদ্ধ. আর এই ভয়াবহ পরিণতির পথ এড়িয়ে যাওয়ার জন্য সিরিয়া সংকটের সাথে জড়িত সব অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে. আর যদি তা না ঘটে, তাহলে সিরিয়ায় বিভিন্ন ইসলামিক দল যারা স্বাধীন সিরীয় আর্মি নামে পরিচিত তাঁরা বিরোধী দলের মধ্যে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করবে এবং পরবর্তিতে উগ্রবাদী জঙ্গি দল আল-কায়দার সাথে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করবে”.

 

আমাদের আরেক বিশেষজ্ঞ হচ্ছেন তুরষ্কের সাবেক প্রাদেশিক গভর্নর ও সাদেত পার্টির সহকারি সাধারণ সম্পাদক কাদজায়েলি বিরোল আইদিন. রেডিও রাশিয়াকে তিনি জানান, “আজকে যা সিরিয়ায় ঘটছে তা অস্বাভাবিক বিষয়ে নিয়ে কিছু স্বাভাবিক ঘটনা. আমরা সিরিয়ায় যা দেখছি তা হচ্ছে বৃহত মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে মার্কিন রাজনীতির কেবল শুরুর একটি চিত্র. গত ২০ বছর পশ্চিমারা সিরিয়ায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরীর করার জন্য সব ধরণের চেষ্টা চালিয়েছে.

পশ্চিমাদের শুধুমাত্র সিরিয়াকে নিয়েই আগ্রহ নেই বরং আরও ২০টি দেশের প্রতি তাদের দৃষ্টি রয়েছে. আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ইরাক, লিবিয়াসহ আরও অনেক দেশেই তাঁরা নিজেদের স্বার্থ প্রতিষ্ঠা করেছে. সিরিয়ায় তাঁরা শান্তিময় পরিবেশ হতে দেবে তার সম্ভাবনা খুবই কম. তবে এ কথা থেকে একদমই বলা যাচ্ছে না যে, সিরিয়ার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ঝুকিপূর্ণ. রাজনৈতিক আলোচনার মধ্য দিয়ে সংকট নিরসনের এখনও সম্ভাবনা রয়েছে. এর জন্য ইরান, মিশর, তুরষ্ক এবং অবশ্যই রাশিয়ার আরও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে.

সিরিয়াকে নিয়ে তুরষ্কের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে হবে. বৈরী মনোভাব থাকলে সিরীয়-তুর্কি শত্রুতা তা আরও কয়েক শতক ধরে চলবে. পশ্চিমারা কোন একটা নির্দিষ্ট শক্তিকে সমর্থন করছে. তাদের জন্য প্রধান কাজ হচ্ছে সিরীয় জনগনকে বিভক্ত করা. তাদের কাছে দেশ বা অঞ্চল কোন বড় বিষয় নয়.

আমাদের পার্টি সাদেত সর্বদাই সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ ও এ অঞ্চলের পক্ষে কথা বলেছে. ভবিষ্যত সিরিয়া তা শুধু সিরীয় জনগনের মতই গড়ে তোলা উচিত হবা, তা কোন মার্কিনী, ইংরেজী ও ফরাসী বা অন্য কোন দেশের কথায় নয় যারা কখনও মধ্যপ্রাচ্যে শান্তিময় পরিবেশের পক্ষে ছিল না এবং ভবিষ্যতেও থাকবে না”.

আপনারা জাতিসংঘের সিরিয়া বিষয়ক প্রতিবেদন নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত শুনলেন. যে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, সিরিয়ায় বিদেশি উগ্রবাদী জঙ্গি গ্রুপগুলোর উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যহারে বেড়েছে.