রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনের আসন্ন ভারত সফর প্রত্যাশাজনক ও বহুলাংশে তার ফলাফলের পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব. সেরকমই মনে করেন ভারতীয় ফাইন্যান্স ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ প্রফেসর আগরওয়াল. আমাদের সংবাদদাতা ভ্লাদিমির ইভাশিনকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন ---

বিশ্বের বর্তমান পরিস্থিতির কথা মাথায় রাখলে, দুই মিত্র দেশের শীর্ষনেতাদের সাক্ষাত্কারের বিশেষ গুরুত্ব আছে. আমাদের উভয় দেশই উন্নয়নের হার বৃদ্ধি করে চলেছে, আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে. নিজেদের কার্যকলাপের সমন্বয় আরও জোরদার করার সময় এসেছে. ঐতিহ্যগতভাবে আমরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ও অস্ত্রশস্ত্র কেনাবেচার বিষয়ে সহযোগিতা করে থাকি. এগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও শুধুমাত্র এতেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়. আমাদের মধ্যে দীর্ঘকালের সম্পর্ক বজায় থাকলেও কোনো কোনো স্ট্র্যাটেজিক ক্ষেত্রে তা এখনো দুর্বল, বিশেষতঃ ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার ক্ষেত্রে. বাণিজ্যিক সম্পর্ক ও পণ্যদ্রব্যের আদানপ্রদানকেও আরও বলিষ্ঠ করে তুলতে হবে. জ্বালানী শক্তির ক্ষেত্রেও আমাদের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ. যেমন, ভারতের দরকার প্রাকৃতিক গ্যাসের আর রাশিয়া তা সরবরাহ করতে পারে. আমার মনে হয় আমাদের দুদেশের শীর্ষনেতাদের সাক্ষাত্কারের সময় এই সব বিষয় নিয়েই আলাপ-আলোচনা হবে.

আপনারা ঠিকই লক্ষ্য করেছেন, যে গত ৬৫ বছরে আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ক উঁচুমাত্রায় গিয়ে পৌঁছেছে সামরিক, বিজ্ঞান-প্রযুক্তিগত ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে. কিন্তু আমরা ভালো করেই জানি, যে সমস্যাসঙ্কুল কিছু বিষয়ও রয়ে গেছে. এব্যাপারে আমি সবার প্রথমে উল্লেখ করবো – ‘শ্যাম কমিউনিকেশন’(সিস্টেমা)কে ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতি, বিমানবাহী জাহাজ 'বিক্রমাদিত্যের' জন্য যান্ত্রিক সাজসরঞ্জাম সরবরাহ করার কাজ সম্পন্ন করা ও কুদানকালামে পারমানবিক বিদ্যুতকেন্দ্রে উত্পাদন শুরু করা. হ্যাঁ, সত্যি কথা, যে আজ সেখানে প্রথম এনার্জি ব্লকটি উত্পাদনের জন্য পুরোপুরি তৈরি হয়ে যাওয়ার খবর এসেছে, তবুও এক্ষেত্রে কিছু সমস্যা রয়েই যাচ্ছে. আপনার মতে এসবের নিষ্পত্তি হওয়ার সম্ভাবনা কতখানি? ---

সমস্যা যদিও আছে, কিন্তু আমার মনে হয় না, যে সেগুলো আমাদের সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান বিকাশের পথে বাধা হতে পারে. আমাদের দুদেশের দীর্ঘকালব্যপী পারস্পরিক মৈত্রীবন্ধন ছোটখাটো মতানৈক্য বা ভুলবোঝাবুঝি দূর করতে সক্ষম হবে. সেজন্য শীর্ষনেতাদের আলোচনার টেবিলে একসাথে বসে যৌথভাবে তার জট খোলার দরকার. আমার চূড়ান্ত সাফল্যলাভ করা সম্পর্কে কোনো সন্দেহই নেই – আমাদের যে এতকিছু ঐক্যবদ্ধ করে! সেক্ষেত্রে আমাদের দুই দেশের দ্রুত উন্নয়নশীল অর্থনীতি আরও উঁচুস্তরে আরোহণ করতে সমর্থ হবে.