বিগত এক বছরে মস্কো শহরে পঞ্চাশ লক্ষ পর্যটক এসেছেন. এটা রাজধানীর জন্য রেকর্ড. প্রসঙ্গতঃ সবচেয়ে বেশী আসছেন এশিয়ার দেশ গুলি থেকে, আর খরচা করছেন বেশী ইউরোপের পর্যটকরা, এই ব্যাপারটাই বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন.

২০১১ সালের তুলনায় এবারে শতকরা ১৫ ভাগ বেশী পর্যটক এসেছেন. সবচেয়ে বেশী এশিয়া থেকেই: চিন, কোরিয়া, ভিয়েতনাম, জাপান ও সিঙ্গাপুর থেকে. কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে, এঁরা সবচেয়ে কম খরচে আসা পর্যটক. ইউরোপীয় দের চেয়ে, যারা মর্যাদা পূর্ণ হোটেলে থাকা বা দামী রেস্তোরাঁতে সত্যিকারের রাশিয়ার খাবার খাওয়ার জন্য অর্থব্যয়ে কার্পণ্য করেন না, চিনে লোকরা কিন্তু পছন্দ করে সেই ধরনের ট্যুরিস্ট অফার, যাতে সব কিছুরই আগে থেকে দাম ধরা রয়েছে.

একই সময়ে পর্যটন ব্যবসা চেষ্টা করছে ট্যুরিস্টদের মত করেই ব্যবসা বদলে দিতে. মস্কো শহরে খোলা হচ্ছে অনেক বেশী করেই কম দামী হোটেল ও রেস্তোরাঁ, যেখানে সত্যিকারের রাশিয়ার খাবার পাওয়া যাচ্ছে. আর শহরের প্রশাসন চেষ্টা করছে নিজেদের পক্ষ থেকে রাজধানীকে পর্যটকদের জন্য উপযুক্ত করে বানানোর জন্য: এখন অনেক বেশী করেই বিদেশী ভাষায় পথ নির্দেশ করা হচ্ছে ও খোলা হচ্ছে শহর সম্বন্ধে খোঁজ ও তথ্য কেন্দ্র.

আগামী বছরে রাজধানীতে আরও অনেক বেশী পর্যটক আসছেন, এই রকমই বিশেষজ্ঞরা পূর্বাভাস দিয়েছেন. মস্কো অ্যাথলেটিক্সে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশীপ করার ব্যবস্থা করছে. তাছাড়া গরমকালে রাজধানীর বিমানবন্দর দিয়ে বহু সহস্র লোক ট্রানজিটে কাজান শহরে ইউনিভার্সিয়াড দেখতে যাবেন. ঠিক সেই কারণেই সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এখনই আইন তৈরী করছে পর্যটকদের জন্য বিনা ভিসায় ৭২ ঘন্টার জন্য এই দেশে থাকার ব্যবস্থা করার. এই নতুনত্ব ইতিমধ্যেই সেন্ট পিটার্সবার্গে পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে. সেখানে যাত্রীরা, যারা আন্তর্জাতিক ক্রুইজ লাইনারে চেপে আসছেন, তাঁদের তিন দিন বিনা ভিসায় শহরে ঘুরতে দেওয়া হচ্ছে. খুব শীঘ্রই একই ধরনের নিয়ম শহরের বিমানবন্দরের জন্যও করা হবে, যাতে বিদেশীদের শহরে নিজেদের ট্রানজিটের বিমানের অপেক্ষার সময়ে ঢুকতে দেওয়া হবে, এই রকম একটা বিশ্বাস নিয়ে রাশিয়ার পর্যটন শিল্পের জোটের সভাপতি ইউরি বারজীকিন বলেছেন:

“সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত আইনের খসড়া অনুযায়ী ক্রুইজ লাইনারের যাত্রীদের জন্য ৭৩ ঘন্টার বিনা ভিসায় শহরে আসার অনুমতি দেওয়ার ফলে, এই বছরে আরও পাঁচ লক্ষ বেশী পর্যটক সেন্ট পিটার্সবার্গে আসতে পেরেছেন. পরিকল্পনা ছিল যে, তাঁরা এই তিন দিনে উত্তর পশ্চিমের এলাকা দেখতে পাবেন ও এমনকি মস্কোও যেতে পারবেন দ্রুতগামী সাপসান ট্রেনে চড়ে. এর পরবর্তী অধ্যায় – তিন দিন মস্কো, সেন্ট পিটার্সবার্গ ও কাজান শহরে ট্রানজিটে থাকা যাত্রীদের জন্য বিনা ভিসাতে থাকার সুবিধা করে দেওয়া. আমরা চাই মস্কোকে একটি বড় ট্রানজিট বিমান যাত্রার কেন্দ্র বানানোর জন্য ও এটাকে একটা পর্যটকদের সুবিধার জন্য ব্যবহার করতে চাই”.

রাজধানীর তিনটি বিমান বন্দরের যে কোন একটি থেকেই ৪০ মিনিটের মধ্যে মস্কো শহরের কেন্দ্রে পৌঁছনো সম্ভব হবে এয়ারো এক্সপ্রেস ট্রেনে চড়ে. খুব শীঘ্রই এই ধরনের যাত্রা “মস্কো পাস” নামক পর্যটক কার্ডের দামের মধ্যে যোগ করে দেওয়া হবে. আপাততঃ এই পাস কাজ করছে জাদুঘর ও এক্সকারশন করার জন্য, তার মধ্যে আবার ব্যবস্থা রয়েছে বিশেষ ট্যুরিস্ট বাসে চেপে ও নদীতে স্টীমারে করে.