আমেরিকার লোকরা সিরিয়াতে প্ররোচনা দেওয়ার জন্য রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগের চেষ্টা করছে. এই বিষয়ে নিজের ব্লগে লিখেছেন ঐস্লামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের মস্কো শহরের রাষ্ট্রদূত মাখমুদরেজা সাদঝাদি.

ব্যাখ্যার জন্য জনাব সাদঝাদির কাছে রেডিও রাশিয়ার সাংবাদিক প্রতিনিধি ইভান জাখারভ পৌঁছেছিলেন. কথা হয়েছে ফারসী ভাষায়.

সাংবাদিকের প্রশ্ন ছিল: “মহামান্য রাষ্ট্রদূত, সিরিয়াতে বিরোধী পক্ষ যে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে বলে আপনার ধারণা হয়েছে, তার কারণ কি”?

উত্তরে জনাব সাদঝাদি বলেছেন:

“আমি খুব ভাল করেই মনে করতে পারছি, কি ভাবে ইরাক ইরানকে আক্রমণের আগে পশ্চিমের সংবাদ মাধ্যম, বিশেষ করে মার্কিন মাধ্যম, খুবই সক্রিয়ভাবে প্রচার করেছিল যে, ইরাকের প্রতি ইরানের আগ্রাসী মনোভাব রয়েছে ও পূর্বাভাস দিয়েছিল যে, ইরান নিজে থেকেই যুদ্ধ শুরু করবে. এই খবর কি করেছিল, সকলেই ভাল করে মনে করতে পারেন: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে ইরাকের সেনাবাহিনী ইরান- ইরাক সীমান্ত পরিস্থিতির ভারসাম্য নষ্ট করে দিয়েছিল, যা একই সঙ্গে এক ভয়ঙ্কর রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের শুরু করেছিল, বাস্তবে যা প্ররোচিত হয়েছিল সেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বারাই.

একই ধরনের চিত্রনাট্য আমেরিকার রাজনীতিবিদরা অন্যান্য উদাহরণের ক্ষেত্রেও স্পষ্ট করে বাস্তবে দেখিয়েছে.

এই বিগত সময়েও আমরা দেখতে পাচ্ছি, কি করে আমেরিকার লোকরা সংবাদের ক্ষেত্রে সেই ধরনের খবর রটাচ্ছে যে, সিরিয়ার সেনা বাহিনী, তাদের দেশের সেই বিরোধী পক্ষের দমনে, যারা দেশে গণহত্যা করছে ও আইন শৃঙ্খলা লঙ্ঘণ করছে, রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করতেই পারে. এই ধরনের খবর আমাদের মতো ইরানের লোকদের জন্য একটা সঙ্কেত. আমরা বুঝতে পারছি যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই খবর দিয়েই বিদ্রোহীদের একটা সঙ্কেত দিচ্ছে যে, তারা এবারে খোলা হাতে কাজ করতে পারে ও রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে. যার পরে রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহারের দায়, কোন সন্দেহ নেই যে, চাপিয়ে দেওয়া হবে দেশের একমাত্র আইন সঙ্গত প্রশাসনের উপরে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন বাশার আসাদ”.

সাংবাদিকের প্রশ্ন ছিল: “আপনি সত্যই সিরিয়ার সশস্ত্র বিরোধে ইরান- ইরাক যুদ্ধের সময়ের মতো রাসায়নিক ও ব্যাকটেরিয়া অস্ত্র ব্যবহার করে যুদ্ধের সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছেন”?

জনাব সাদঝাদি উত্তরে বলেছেন:

“আমি যে রকম আমার ব্লগ সাইটে লিখেছি যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিশ্বাস ঘাতকের মতো কাজ কারবারের ক্ষেত্রে কোন কিছুর সামনেই থেমে যাবে না; তাদের জন্য কোন আইন, কোন নীতি, কোন মানবিক মূল্যবোধ নেই. আপনারা বোধহয় দেখেছেন জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে উদভ্রান্তের মতো ছুটে বাঁচতে চাওয়া নাপাম বোমার আগুনে অর্ধদগ্ধ ভিয়েতনামের শিশুদের ছবি. আমাদের জনগনের ঐতিহাসিক স্মৃতি থেকে এখনও মুছে যায় নি রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহারে ক্ষতিগ্রস্ত ইরাকের সঙ্গে যুদ্ধের সময়ে ইরানের শহরের লোকজনের মুখ. ইরাকের কুর্দ জনগনের স্মৃতিও থাকবে চিরন্তন হয়েই, যারা রাসায়নিক অস্ত্রের বিষের আঘাতে বহু প্রাণ দিয়েছিল... তখন সাদ্দাম হুসেইনকে রাসায়নিক অস্ত্র পাইয়ে দিয়েছিল সেই আমেরিকার লোকরাই.

বর্তমানের সিরিয়ার ঘটনা – এটা কোন বিপ্লব নয়, বরং সশস্ত্র বিদ্রোহ, যা অনুপ্রবেশকারীরাই সমর্থন করছে. এই তো প্রায় দুই বছর ধরেই আমেরিকা থেকে জোর গলায় চেঁচানো হচ্ছে: আসাদ তাঁর ক্ষমতা ধরে রাখতে সক্ষম নন, খুব শীঘ্রই তাঁর পতন হবে. কিন্তু আমরা যেমন দেখতে পাচ্ছি যে, সিরিয়াতে আইন সঙ্গত প্রশাসনের অবস্থান আগের মতই শক্তিশালী ও তারা প্রতিহত করতে সক্ষমও হচ্ছে. আর যত বেশী করে সিরিয়াতে তথাকথিত বিরোধী পক্ষের থেকে চাপ দেওয়া হচ্ছে, ততই তাদের জন্য, আমার মতে ওদের সম্ভাবনা রয়েছে ভয়ঙ্কর ও রক্তাক্ত সমস্ত প্ররোচনা দেওয়ার”.

এর আগে সিরিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহা সচিবকে আশ্বাস দিয়েছেন যে, তাঁর দেশ কোন ক্ষেত্রেই রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগ করবে না.

একই সময়ে জানানো হয়েছে যে, সিরিয়ার সরকার খুবই সিরিয়াস ভাবে উদ্বিগ্ন হয়েছে সেই বিষয়ে, যে বিরোধী পক্ষ বেশ কিছু দেশ থেকে রাসায়নিক অস্ত্র পেয়ে থাকতে পারে, আর পরে তারা এর প্রয়োগের জন্য সরকারি বাহিনীকে দোষ দিতে পারে. এই বিষয়ে বলা হয়েছে রাষ্ট্রসঙ্ঘে সিরিয়ার থেকে স্থায়ী প্রতিনিধি বাশার জাফরির চিঠি, যা তিনি মহা সচিব বান কি মুন কে ও নিরাপত্তা পরিষদের ঠিকানায় পাঠিয়েছেন.