তিরিশটিরও বেশী সংজ্ঞাবহ ও সুদুর প্রসারিত অনুষ্ঠান তাতারস্থান রাজ্যে পবিত্র কোরান বছরের কর্মসূচীর মধ্যে করা হয়েছে. এই সম্বন্ধে কাজান শহরে রাজ্যের মুসলমানদের ধর্মীয় সভার সম্মেলনে বলা হয়েছে. আর ২০১২ সালকে তাতারস্থানে কোরান বত্সর বলে ঘোষণা করার কারণ হয়েছিল রাশিয়াতে ২২৫ বছর আগে প্রথম ছাপা কোরান প্রকাশের ঘটনা.

মুসলমানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরান রাশিয়ার সম্রাজ্ঞী মহান ইকাতেরিনা ১৭৮৭ সালে রাশিয়া সাম্রাজ্যের রাজধানী সেন্ট পিটার্সবার্গে ছাপা অবস্থায় প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছিলেন. এই গ্রন্থ প্রকাশের ক্ষেত্রে তাতার প্রজাতির লোকদের অবদানও কম নয় – তাঁদের মোল্লা ওসমান ইসমাইলের অঙ্কিত আরব অক্ষর ঢালাই করা হয়েছিল গ্রন্থ ছাপার জন্য. তিনি নিজেই যথেষ্ট খুঁটিয়ে কোরানের ব্যাখ্যা লিখেছিলেন, যা এই গ্রন্থের মূল অংশের পাশের জায়গায় লেখা হয়েছিল. এই রকম রূপে কোরান পিটার্সবার্গে পাঁচটি সংস্করণ ছাপা হয়েছিল.

১৮০৩ সালে কাজানে পিটার্সবার্গের সংস্করণের অনুসারে শুরু হয়েছিল পবিত্র লিখনের স্থানীয় রূপ প্রকাশ. একটি মসজিদের ইমাম এই গ্রন্থের ছাপা ঠিক হয়েছে কি না, তা নির্দিষ্ট করে বলার জন্য নিযুক্ত হয়েছিলেন.

এই সমস্ত ঘটনা ও মানুষদের, যাঁরা এর সঙ্গে সংযুক্ত ছিলেন, তা সারা বছর ধরে নানা অনুষ্ঠানে স্মরণ করা হয়েছিল, যা তাতারস্থানের মুসলমান ধর্ম সভা আয়োজন করেছিল. আমাদের সাংবাদিক প্রতিনিধিকে রাজ্যের মুসলমান ধর্মীয় সভার নেতা মুফতির দায়িত্ব প্রাপ্ত আবদুল্লা-হজরত আদীগামভ যেমন বলেছেন যে, কোরানের বছরের লক্ষ্য – পবিত্র লিখনের প্রচার, ধর্মীয় ও সমগ্র মানবতার ঐস্লামিক মূল্যবোধ প্রচারের লক্ষ্য সাধন, আর তা এই বছরে করা সম্ভব হয়েছে, তাই তিনি বলেছেন:

“সব মিলিয়ে কাজ গুলি সম্পূর্ণ হয়েছে, বলা যেতে পারে যে, ফলাফল – সন্তোষজনক, সবচেয়ে সংজ্ঞাবহ ঘটনা হয়েছিল কাজান সংস্করণের কোরানের পুনঃপ্রকাশ, রাজ্যের কোরান গায়কদের মধ্যে প্রতিযোগিতার আয়োজন. অনেক গুলি গোল টেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল. খুবই উল্লেখযোগ্য মনে করা যেতে পারে বিশ্বের সবচেয়ে বৃহত্ আয়তনের কোরান কাজান শহর থেকে প্রাচীন বলগার শহরে নিয়ে যাওয়া, যেখানে আমাদের পূর্বপুরুষরা সেই ৯২২ সালেই ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন”.

বিশ্বের সবচেয়ে বড় কোরান, রাজ্যের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্মৃতি স্তম্ভ ও প্রতীক পুনরুদ্ধারের জন্য রাজ্যের প্রাক্তন রাজ্যপাল মিন্তিমের শাইমিয়েভের সভাপতিত্বে তৈরী তহবিল “পুনর্জন্ম” (“ইয়ানারীশ”) ছাপার ব্যবস্থা করেছিল. এই ৬৩২ পাতার সংস্করণের পরিমাপ – দুই মিটার দৈর্ঘ্যে ও দেড় মিটার প্রস্থে. ওজন – ৮০০ কিলোগ্রাম, আর গ্রন্থের মলাট ম্যালাকাইট পাথর, গিল্টি সোনা, ফিয়ানাইট, জ্যাসপার পাথর ও রূপোর পাত দিয়ে তৈরী. এই প্রতীকী গ্রন্থ এক আনুষ্ঠানিক পরিবেশে বলগার শহরের জাদুঘরে হস্তান্তর করা হয়েছে, যা সেখানে চিরকালের জন্য সংরক্ষণ করা হবে.

“কোরান ও স্বাস্থ্য”, “ধর্ম ও আধুনিক রাষ্ট্রের সাংবিধানিক অধিকার”, “পবিত্র কোরানের আলোকে নারীর অবস্থান”, - এই সমস্যা বিভিন্ন সম্মেলনে আলোচনা করা হয়েছে, যেগুলি সারা বছর ধরেই তাতারস্থানে হয়েছে. শেষ সম্মেলন, যা কাজান শহরে কিছুদিন আগে হয়েছে, তাতে তাতার প্রজাতির জন্য কোরানের ব্যাখ্যার ঐতিহ্য সম্বন্ধে আলোচনা হয়েছে. এই ঐতিহ্য বহু শতকের, তাই কাজানের একটি মসজিদের ইমাম- খাতীব ও ইতিহাসে ডক্টরেট করা নাইল-হজরত গালিমভ বলেছেন:

“আমার মনে হয় যে, নতুন তফসির (ব্যাখ্যা) ছাড়াও প্রয়োজন রয়েছে জনগনের কাছে পুরনো ও ধ্রুপদ তফসির, যা আমাদের অর্থাত্ তাতার প্রজাতির কাছে আগে প্রচারিত হয়েছিল. নতুন ব্যাখ্যার প্রয়োজন রয়েছে, কিন্তু তাতারস্থানের ধর্ম গুরুদের ধ্রুপদী ব্যাখ্যা ছাড়া আমরা এই ধর্ম বিজ্ঞানে আগে অগ্রসর হতে পারব না”.

কোরানের বছরে রাজ্যের মুসলমানদের ধর্মীয় সভা এই সমস্যারও সমাধানের প্রচেষ্টা করেছেন – তাতারস্থান রাজ্যের বিজ্ঞান একাডেমীর ইতিহাস ইনস্টিটিউটের সঙ্গে যৌথভাবে অষ্টাদশ শতকের শেষ ও উনবিংশ শতকের শুরুর সময়ের তাতারস্থান রাজ্যের ধর্মগুরু গাবদানসীরা কুরসাভির তফসির (“হাফতিয়াক শরীফ তফসিরি”) প্রস্তুত করে প্রকাশ করতে চলেছেন, তাই আবদুল্লা-হজরত আদীগামভ বলেছেন:

“আমাদের ইতিহাস ইনস্টিটিউটে ইসলাম অনুসন্ধান নিয়ে একটি বিভাগ রয়েছে, যেখানে আমি গত পাঁচ বছর ধরে কুরসাভির তফসির তর্জমা করেছি. যদি পারি, তবে এই বছরের শেষের আগে আমরা এই গ্রন্থ প্রকাশ করব”.

তাতারস্থানে কোরান বছরে ভুলে যাওয়া হয় নি শিশুদেরও: তাদের জন্য কোরান শিক্ষার পাঠক্রম খোলা হয়েছে, আর তাতারস্থানের সমস্ত জনতার জন্য “কোরান উপহার দিন” নামে এক দাতব্য অনুষ্ঠান করা হয়েছে.